সংবাদ

হলদে কনকচূড়ার আভায় সেজেছে মধুপুর শালবন


প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

হলদে কনকচূড়ার আভায় সেজেছে মধুপুর শালবন
মধুপুর শালবনে ফুটেছে উজ্জ্বল কনকচূড়া। ছবি : সংবাদ

সবুজের সমারোহে ঘেরা ঐতিহ্যবাহী মধুপুর শালবন এখন ভিন্ন রূপে সেজেছে। পত্রঝরা বনের বৃক্ষ আর গুল্মলতার মাঝে উজ্জ্বল হলুদ রঙের কনকচূড়া ফুল এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্ষার শুরুতে বনের সবুজের মাঝে এই সোনালি-হলুদ ফুলের মেলা পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের দারুণভাবে মুগ্ধ করছে।

মধুপুরের লহুরিয়া দোখলার শিশুপার্ক এবং রসুলপুর-দোখলা সড়কের পাশের এলাকাগুলোতে এখন থোকায় থোকায় কনকচূড়া ফুটে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বনের গভীর মিতালিতে এই ফুল যেন বাড়তি এক সৌন্দর্য যোগ করেছে। প্রকৃতিবিদদের মতে, কৃষ্ণচূড়া বা রাধাচূড়া যতটা পরিচিত, কনকচূড়া ঠিক ততটা নয়। অনেকেই এই ফুলকে রাধাচূড়া বা হলুদ কৃষ্ণচূড়া বলে ভুল করেন। তবে বরেণ্য নিসর্গী অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা এই ভিনদেশি ফুলের নাম দিয়েছিলেন ‘কনকচূড়া’।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার আদি নিবাসী এই গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Peltophorum pterocarpum। এটি মূলত একটি মাঝারি থেকে বড় আকারের ছায়ানিবিড় বৃক্ষ। বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত এই গাছে উজ্জ্বল হলুদ ফুল ফোটে। ফুলের পাপড়িগুলো কিছুটা কোঁকড়ানো এবং এর গোড়ায় হালকা তামাটে আভা থাকে। ফুল ঝরে যাওয়ার পর গাছে তামাটে রঙের শুঁটির মতো ফল ধরে, যা গাছটির শোভা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ধনবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের তথ্যমতে, কৃষ্ণচূড়া সাধারণত গাঢ় লাল এবং রাধাচূড়া লাল-হলুদের মিশ্রণে হয়। অন্যদিকে, কনকচূড়া তার বিশুদ্ধ সোনালি রঙের কারণে সহজেই আলাদা করে চেনা যায়। এই গাছ যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি পরিবেশ রক্ষায়ও কার্যকর। এর ঘন শাখা-প্রশাখা প্রখর রোদে পথচারীদের ছায়া দেয় এবং মাটির ক্ষয় রোধে সহায়তা করে।

পরিবেশপ্রেমীদের মতে, মহাসড়কের পাশে বা নগরের সৌন্দর্য বর্ধনে কনকচূড়া রোপণ করা যেতে পারে। এটি শুধু নান্দনিকতাই বাড়ায় না, বরং বাতাস থেকে দূষিত গ্যাস শোষণ করে পরিবেশ নির্মল রাখতেও ভূমিকা রাখে। টাঙ্গাইলের বন বিভাগের রসুলপুর সদর বিট কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, শালবনের স্থানীয় প্রজাতির পাশাপাশি বনের সৌন্দর্য বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে।

মধুপুর শালবনের এই মৌসুমি সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী ভিড় করছেন। সোনালি ফুলের এই অপূর্ব সমারোহ মধুপুরকে যেন এক টুকরো ছবির মতো সাজিয়ে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


হলদে কনকচূড়ার আভায় সেজেছে মধুপুর শালবন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

সবুজের সমারোহে ঘেরা ঐতিহ্যবাহী মধুপুর শালবন এখন ভিন্ন রূপে সেজেছে। পত্রঝরা বনের বৃক্ষ আর গুল্মলতার মাঝে উজ্জ্বল হলুদ রঙের কনকচূড়া ফুল এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্ষার শুরুতে বনের সবুজের মাঝে এই সোনালি-হলুদ ফুলের মেলা পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের দারুণভাবে মুগ্ধ করছে।

মধুপুরের লহুরিয়া দোখলার শিশুপার্ক এবং রসুলপুর-দোখলা সড়কের পাশের এলাকাগুলোতে এখন থোকায় থোকায় কনকচূড়া ফুটে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বনের গভীর মিতালিতে এই ফুল যেন বাড়তি এক সৌন্দর্য যোগ করেছে। প্রকৃতিবিদদের মতে, কৃষ্ণচূড়া বা রাধাচূড়া যতটা পরিচিত, কনকচূড়া ঠিক ততটা নয়। অনেকেই এই ফুলকে রাধাচূড়া বা হলুদ কৃষ্ণচূড়া বলে ভুল করেন। তবে বরেণ্য নিসর্গী অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা এই ভিনদেশি ফুলের নাম দিয়েছিলেন ‘কনকচূড়া’।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার আদি নিবাসী এই গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Peltophorum pterocarpum। এটি মূলত একটি মাঝারি থেকে বড় আকারের ছায়ানিবিড় বৃক্ষ। বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত এই গাছে উজ্জ্বল হলুদ ফুল ফোটে। ফুলের পাপড়িগুলো কিছুটা কোঁকড়ানো এবং এর গোড়ায় হালকা তামাটে আভা থাকে। ফুল ঝরে যাওয়ার পর গাছে তামাটে রঙের শুঁটির মতো ফল ধরে, যা গাছটির শোভা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ধনবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের তথ্যমতে, কৃষ্ণচূড়া সাধারণত গাঢ় লাল এবং রাধাচূড়া লাল-হলুদের মিশ্রণে হয়। অন্যদিকে, কনকচূড়া তার বিশুদ্ধ সোনালি রঙের কারণে সহজেই আলাদা করে চেনা যায়। এই গাছ যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি পরিবেশ রক্ষায়ও কার্যকর। এর ঘন শাখা-প্রশাখা প্রখর রোদে পথচারীদের ছায়া দেয় এবং মাটির ক্ষয় রোধে সহায়তা করে।

পরিবেশপ্রেমীদের মতে, মহাসড়কের পাশে বা নগরের সৌন্দর্য বর্ধনে কনকচূড়া রোপণ করা যেতে পারে। এটি শুধু নান্দনিকতাই বাড়ায় না, বরং বাতাস থেকে দূষিত গ্যাস শোষণ করে পরিবেশ নির্মল রাখতেও ভূমিকা রাখে। টাঙ্গাইলের বন বিভাগের রসুলপুর সদর বিট কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, শালবনের স্থানীয় প্রজাতির পাশাপাশি বনের সৌন্দর্য বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে।

মধুপুর শালবনের এই মৌসুমি সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী ভিড় করছেন। সোনালি ফুলের এই অপূর্ব সমারোহ মধুপুরকে যেন এক টুকরো ছবির মতো সাজিয়ে তুলেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত