বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ক্রমাগত হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক কারণে মনোনয়ন বাতিল এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক দুটি আইনি সংগঠন।
কমনওয়েলথ লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিএলএ) এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আইন সংস্থাগুলোর সংগঠন ‘লএশিয়া’ যৌথভাবে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে। গত বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) সিএলএ-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারকে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়। সিএলএ প্রেসিডেন্ট স্টিভেন থিরু এবং লএশিয়া প্রেসিডেন্ট ইয়াপ তিয়ং লিয়াং যৌথভাবে এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একাধিক আইনজীবীকে কোনো লিখিত কারণ বা শুনানি ছাড়াই মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল করার সুযোগও রাখা হয়নি।
গণমাধ্যমের রিপোর্টের বরাত দিয়ে সংগঠন দুটি জানায়, 'ফ্যাসিস্টদের সহযোগী' আখ্যা দিয়ে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ দলের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে গত জানুয়ারি থেকে দেশের অন্তত ১৩টি বার নির্বাচনে প্রায় ২০০ জন আইনজীবীকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আন্তর্জাতিক এই সংস্থা দুটি মনে করে, সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা গুরুতর ধারার মামলাগুলো আসলে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল। এই পরিস্থিতিতে তারা ১৯৯০ সালের জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে। একই সাথে তারা বাংলাদেশ সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বার এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রতি পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে।
যার মধ্যে রয়েছে: বার নির্বাচনে সব ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, বৈষম্যহীনভাবে সব যোগ্য প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রে লিখিত কারণ ও আপিলের ব্যবস্থা রাখা এবং দায়ের করা ‘কাল্পনিক’ মামলাগুলো অবিলম্বে পর্যালোচনা করা।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল কাউন্সিল অব বারস অ্যান্ড ল সোসাইটিজ অব ইউরোপ (সিসিবিই) বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বার নির্বাচনে ‘গুরুতর অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি চিঠি দেয়।
জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ (জেএমবিএফ)-এর তথ্যের ভিত্তিতে সিসিবিই তাদের চিঠিতে জানায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন জমাদানে বাধা সৃষ্টি, শারীরিক হয়রানি এবং পুলিশের চাপে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মতো ঘটনা ঘটেছে। ওই চিঠিতেও নির্বাচনী অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, সকল আইনজীবীর সমান অংশগ্রহণ এবং ভয়ভীতিহীন পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিতের জোর দাবি জানানো হয়।

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ক্রমাগত হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক কারণে মনোনয়ন বাতিল এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক দুটি আইনি সংগঠন।
কমনওয়েলথ লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিএলএ) এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আইন সংস্থাগুলোর সংগঠন ‘লএশিয়া’ যৌথভাবে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে। গত বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) সিএলএ-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারকে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়। সিএলএ প্রেসিডেন্ট স্টিভেন থিরু এবং লএশিয়া প্রেসিডেন্ট ইয়াপ তিয়ং লিয়াং যৌথভাবে এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একাধিক আইনজীবীকে কোনো লিখিত কারণ বা শুনানি ছাড়াই মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল করার সুযোগও রাখা হয়নি।
গণমাধ্যমের রিপোর্টের বরাত দিয়ে সংগঠন দুটি জানায়, 'ফ্যাসিস্টদের সহযোগী' আখ্যা দিয়ে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ দলের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে গত জানুয়ারি থেকে দেশের অন্তত ১৩টি বার নির্বাচনে প্রায় ২০০ জন আইনজীবীকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আন্তর্জাতিক এই সংস্থা দুটি মনে করে, সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা গুরুতর ধারার মামলাগুলো আসলে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল। এই পরিস্থিতিতে তারা ১৯৯০ সালের জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে। একই সাথে তারা বাংলাদেশ সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বার এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রতি পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে।
যার মধ্যে রয়েছে: বার নির্বাচনে সব ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, বৈষম্যহীনভাবে সব যোগ্য প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রে লিখিত কারণ ও আপিলের ব্যবস্থা রাখা এবং দায়ের করা ‘কাল্পনিক’ মামলাগুলো অবিলম্বে পর্যালোচনা করা।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল কাউন্সিল অব বারস অ্যান্ড ল সোসাইটিজ অব ইউরোপ (সিসিবিই) বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বার নির্বাচনে ‘গুরুতর অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি চিঠি দেয়।
জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ (জেএমবিএফ)-এর তথ্যের ভিত্তিতে সিসিবিই তাদের চিঠিতে জানায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন জমাদানে বাধা সৃষ্টি, শারীরিক হয়রানি এবং পুলিশের চাপে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মতো ঘটনা ঘটেছে। ওই চিঠিতেও নির্বাচনী অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, সকল আইনজীবীর সমান অংশগ্রহণ এবং ভয়ভীতিহীন পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিতের জোর দাবি জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন