সংবাদ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। আগামী রোববার (৭ জুন) এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের এই দিন নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আজ আদালত কক্ষে উপস্থিত আসামিদের সামনেই যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগগুলো আদালতে পড়ে শোনান। একই সঙ্গে মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অভিযোগও আদালতে উপস্থাপন করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

শুনানিতে মামলায় 'ডলার' নামের এক ব্যক্তির নাম আসার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, "আসামি সোহেল রানা তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডলারের নাম উল্লেখ করেনি। মূলত কারাগারে থাকার সময় অন্যান্য আসামিদের পরামর্শে ও বুদ্ধিতে সে পরে এই নামটির অবতারণা করেছে।"

প্রধান আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের অপরাধে জড়ানোর বিষয়ে পিপি আদালতে বলেন, "স্বপ্না যদি নিরপরাধ হতেন, তবে রামিসার এই ভয়াবহ অবস্থা দেখে বাইরে এসে চিৎকার করে সবাইকে জানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি শুধু সোহেলকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তাই করেননি, বরং পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সেখানে অবস্থান করে স্বামীকে সাহায্য করেছেন।"

আজ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। এরপর বেলা ১১টা ২১ মিনিটে সোহেল রানাকে এবং পরে স্বপ্নাকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে বসলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এরপর মামলাটি ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল গত ১ জুন অভিযোগ গঠন করে বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে সমন পাঠান। গতকাল ৩ জুন ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সমাপ্ত করা হয়। আজ ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আগামী ৭ জুন মামলার রায় ঘোষণার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন আদালত।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। আগামী রোববার (৭ জুন) এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের এই দিন নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আজ আদালত কক্ষে উপস্থিত আসামিদের সামনেই যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগগুলো আদালতে পড়ে শোনান। একই সঙ্গে মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অভিযোগও আদালতে উপস্থাপন করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

শুনানিতে মামলায় 'ডলার' নামের এক ব্যক্তির নাম আসার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, "আসামি সোহেল রানা তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডলারের নাম উল্লেখ করেনি। মূলত কারাগারে থাকার সময় অন্যান্য আসামিদের পরামর্শে ও বুদ্ধিতে সে পরে এই নামটির অবতারণা করেছে।"

প্রধান আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের অপরাধে জড়ানোর বিষয়ে পিপি আদালতে বলেন, "স্বপ্না যদি নিরপরাধ হতেন, তবে রামিসার এই ভয়াবহ অবস্থা দেখে বাইরে এসে চিৎকার করে সবাইকে জানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি শুধু সোহেলকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তাই করেননি, বরং পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সেখানে অবস্থান করে স্বামীকে সাহায্য করেছেন।"

আজ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। এরপর বেলা ১১টা ২১ মিনিটে সোহেল রানাকে এবং পরে স্বপ্নাকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে বসলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এরপর মামলাটি ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল গত ১ জুন অভিযোগ গঠন করে বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে সমন পাঠান। গতকাল ৩ জুন ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সমাপ্ত করা হয়। আজ ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আগামী ৭ জুন মামলার রায় ঘোষণার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন আদালত।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত