সংবাদ

দিল্লিতে মমতা, ভাঙনের ছায়ায় তৃণমূল!


দীপক মুখার্জী
দীপক মুখার্জী প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ৭ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

দিল্লিতে মমতা, ভাঙনের ছায়ায় তৃণমূল!
মমতা ব্যানার্জী

রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় সংকট আসে বাইরে থেকে নয়- ভিতরের ফাটল থেকেই। আর সেই ফাটল যদি ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে তা হয়ে ওঠে অস্তিত্বের লড়াই। ঠিক এই মুহূর্তে সেই পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস।

রোববার (৭ জুন) দিল্লিতে পৌঁছালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী- একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যখন দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে। সোমবারের বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগে এই সফর নিছক রাজনৈতিক রুটিন নয়, বরং সংকট ব্যবস্থাপনার বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

এর আগেই শনিবার রাজধানীতে পৌঁছেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী। যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে- দলীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রাজ্য রাজনীতিতে। গত সপ্তাহে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই দলীয় লেজিসলেটিভ উইং থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন শিবির গঠন করেন। একদা সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত, পরে মমতার আশ্রয়ে ঠাঁই পেয়ে যাতে উঠা ঋতব্রত ব্যানার্জী-র নেতৃত্বে এই নতুন গোষ্ঠী নিজেদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর এটি নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।

এখন প্রশ্ন- এই ‘বেঙ্গল মডেল’ কি সংসদেও পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? 

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই লোকসভা ও রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বিদ্রোহী শিবির চেষ্টা করছে সংসদীয় দলে সমর্থন জোগাড় করতে। উল্লেখ্য, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আলাদা গোষ্ঠী গঠনের জন্য অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন- লোকসভায় যা সংখ্যায় ১৯।

বর্তমানে তৃণমূলের লোকসভায় ২৮ জন সাংসদ রয়েছে (একজনের মৃত্যুর পর) এবং রাজ্যসভায় ১৩ জন সদস্য। ফলে যদি বিদ্রোহীরা সংখ্যার সমীকরণ মেলাতে পারে, তবে সংসদেও বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। তার সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন এবং বর্ষীয়ান লোকসভা সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জী । দলীয় ঐক্য বজায় রাখাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে সন্দীপন সাহা দাবি করেছেন- যে প্রক্রিয়া বাংলার বিধানসভায় শুরু হয়েছে, তার প্রতিফলন ইতিমধ্যেই দিল্লিতেও দেখা যাচ্ছে।

দলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ভরাডুবির পর থেকেই একাধিক নেতা প্রকাশ্যে অভিষেক ব্যানার্জী-র নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে- সমস্যা শুধু সাংগঠনিক নয়, নেতৃত্বের ধরন নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে।

সার্বিক বিশ্লেষণে বলা যায়, তৃণমূলের এই সংকট শুধুই সংখ্যার নয়- এটি বিশ্বাসের সংকট। রাজ্যে যা হয়েছে, তা যদি কেন্দ্রে ছড়ায়, তবে দলের জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান মারাত্মকভাবে দুর্বল হতে পারে।  ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগেই এই অস্থিরতা বিরোধী রাজনীতির সমীকরণকেও প্রভাবিত করতে পারে।

দিল্লির এই সফর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য শুধুই রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়- এটি একপ্রকার ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল মিশন’। আগামী কয়েকদিনেই স্পষ্ট হবে- তৃণমূল কি ভাঙনের ধাক্কা সামলে উঠতে পারবে, নাকি বাংলার মতোই সংসদেও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


দিল্লিতে মমতা, ভাঙনের ছায়ায় তৃণমূল!

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় সংকট আসে বাইরে থেকে নয়- ভিতরের ফাটল থেকেই। আর সেই ফাটল যদি ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে তা হয়ে ওঠে অস্তিত্বের লড়াই। ঠিক এই মুহূর্তে সেই পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস।

রোববার (৭ জুন) দিল্লিতে পৌঁছালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী- একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যখন দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে। সোমবারের বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগে এই সফর নিছক রাজনৈতিক রুটিন নয়, বরং সংকট ব্যবস্থাপনার বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

এর আগেই শনিবার রাজধানীতে পৌঁছেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী। যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে- দলীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রাজ্য রাজনীতিতে। গত সপ্তাহে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই দলীয় লেজিসলেটিভ উইং থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন শিবির গঠন করেন। একদা সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত, পরে মমতার আশ্রয়ে ঠাঁই পেয়ে যাতে উঠা ঋতব্রত ব্যানার্জী-র নেতৃত্বে এই নতুন গোষ্ঠী নিজেদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর এটি নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।

এখন প্রশ্ন- এই ‘বেঙ্গল মডেল’ কি সংসদেও পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? 

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই লোকসভা ও রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বিদ্রোহী শিবির চেষ্টা করছে সংসদীয় দলে সমর্থন জোগাড় করতে। উল্লেখ্য, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আলাদা গোষ্ঠী গঠনের জন্য অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন- লোকসভায় যা সংখ্যায় ১৯।

বর্তমানে তৃণমূলের লোকসভায় ২৮ জন সাংসদ রয়েছে (একজনের মৃত্যুর পর) এবং রাজ্যসভায় ১৩ জন সদস্য। ফলে যদি বিদ্রোহীরা সংখ্যার সমীকরণ মেলাতে পারে, তবে সংসদেও বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। তার সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন এবং বর্ষীয়ান লোকসভা সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জী । দলীয় ঐক্য বজায় রাখাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে সন্দীপন সাহা দাবি করেছেন- যে প্রক্রিয়া বাংলার বিধানসভায় শুরু হয়েছে, তার প্রতিফলন ইতিমধ্যেই দিল্লিতেও দেখা যাচ্ছে।

দলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ভরাডুবির পর থেকেই একাধিক নেতা প্রকাশ্যে অভিষেক ব্যানার্জী-র নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে- সমস্যা শুধু সাংগঠনিক নয়, নেতৃত্বের ধরন নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে।

সার্বিক বিশ্লেষণে বলা যায়, তৃণমূলের এই সংকট শুধুই সংখ্যার নয়- এটি বিশ্বাসের সংকট। রাজ্যে যা হয়েছে, তা যদি কেন্দ্রে ছড়ায়, তবে দলের জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান মারাত্মকভাবে দুর্বল হতে পারে।  ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগেই এই অস্থিরতা বিরোধী রাজনীতির সমীকরণকেও প্রভাবিত করতে পারে।

দিল্লির এই সফর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য শুধুই রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়- এটি একপ্রকার ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল মিশন’। আগামী কয়েকদিনেই স্পষ্ট হবে- তৃণমূল কি ভাঙনের ধাক্কা সামলে উঠতে পারবে, নাকি বাংলার মতোই সংসদেও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত