গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অসহনীয় তাপদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। রিকশা-ভ্যান চালক ও দিনমজুরদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে স্কুল-কলেজের পাঠদান কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রখর রোদের কারণে অনেক দিনমজুর কাজে যেতে পারছেন না। যারা কাজে বের হয়েছেন, তারাও বেশিক্ষণ টিকতে পারছেন না। পৌর শহরের রিকশাচালক ফরমান আলী বলেন, ‘একটি ভাড়া মারার পর শরীর আর চলে না। পেটের দায়ে কষ্ট করছি, কিন্তু আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।’
শান্তিরাম গ্রামের দিনমজুর হাফিজুল ইসলাম জানান, বৃদ্ধ বাবা-মা ও সন্তানদের নিয়ে এই গরমে তিনি চরম কষ্টে আছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও গরমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগ কমেছে। শিক্ষার্থী মিশাদ আকন্দ জানায়, টিনশেড ক্লাসরুমে ফ্যানের বাতাসেও গরম কমে না, ফলে পড়াশোনায় মন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, গরমে শিশুরা দুর্বল হয়ে পড়ছে। সরকারি নির্দেশনা ছাড়া সময় পরিবর্তন বা 'মর্নিং স্কুল' চালুর সুযোগ নেই।
তীব্র গরমে সবচেয়ে কষ্টে আছেন গৃহিণী ও হোটেলের বাবুর্চিরা। আগুনের পাশে কাজ করতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। প্রশান্তির খোঁজে অনেককে গাছতলায় বা পুকুরে জলকেলি করতে দেখা গেছে।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সোমবার এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও গুমোট গরম অনুভূত হতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সাইদুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। সুস্থ থাকতে তিনি প্রচুর পানি পান করা এবং ভিজে কাপড় দিয়ে শরীর মোছার পরামর্শ দিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন