সংবাদ

বিশ্বকাপ ফুটবল: মহারণ নাকি পুঁজিবাদের মেশিন?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

বিশ্বকাপ ফুটবল: মহারণ নাকি পুঁজিবাদের মেশিন?
ছবি: সংগৃহীত

মাঠে গোলের লড়াই, মাঠের বাইরে টাকার লড়াই। ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন দুটি সত্যের উন্মোচন ঘটাবে। একদিকে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উত্তেজনার মহারণ, অন্যদিকে ফিফার জন্য রেকর্ড গড়া আয়ের বন্দোবস্ত।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বসতে যাওয়া এবারের আসরটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। দল ৩২ থেকে বেড়ে ৪৮, ম্যাচ ৬৪ থেকে বেড়ে ১০৪। এই সম্প্রসারণ আনা টাকার হিসেবটাই চমকে দেওয়ার মতো।

ফিফার পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যবসায়িক চক্র থেকে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হবে। শুধু এই টুর্নামেন্ট থেকেই ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার আয়ের প্রত্যাশা করছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এটি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি।

আয়ের উৎসগুলো চোখ রাখার মতো- টেলিভিশন স্বত্ব থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার, স্পনসরশিপ চুক্তি থেকে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার, টিকিট ও প্রিমিয়াম সার্ভিস থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার (যা অর্থনীতিবিদ রিচার্ড শিহানের মতে ৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে)।

ফিফার প্রত্যক্ষ আয়ের বাইরেও বিশ্বকাপের প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জিডিপিতে। সুইজারল্যান্ডের ইউবিএস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন, পর্যটন, পরিষেবা ও ভোক্তা ব্যয় খাত মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ বিশ্ব জিডিপিতে প্রায় ৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ করবে।

প্রায় ৬০০ কোটির বেশি মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন মাধ্যমে বিশ্বকাপ দেখবে। যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশের সমান। এটি ফুটবলের অসাধারণ জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

ফুটবল আর খেলা নয়; এটি এখন এক বিশাল শিল্প। ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশ্বের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ২০ ক্লাব মিলিয়ে রেকর্ড পরিমাণ ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জন করেছে। আগের মৌসুমের চেয়ে যা ১১ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি টেলিভিশন স্বত্ব, বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ।

রাজস্বের এই পাহাড়ের আড়ালে বিতর্কও থেমে নেই। ভক্ত সংগঠনগুলো বলছে, ফাইনাল পর্যন্ত একটি দলকে ফলো করতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। ‘সাধারণ দর্শকের জন্য বিশ্বকাপ’ থেকে ‘ধনীদের বিশ্বকাপে’ রূপ নেওয়ার শঙ্কায় অনেকে।

অন্যদিকে ফিফা দাবি করে, বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব তাঁরা ২১১টি সদস্য ফেডারেশন জুড়ে পুরুষ, নারী ও যুব ফুটবলের উন্নয়নে পুনঃবিনিয়োগ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সম্পদের বরাদ্দ প্রতিটি দেশের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী হওয়া উচিত।

যাই হোক, ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’তে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লুইস দিয়াজ ও ব্রুনো ফার্নান্দেজের লড়াই যেমন উত্তেজনা ছড়াবে, তেমনি টাকার এই লড়াই বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে। বিশ্বকাপ যেমন চিরচেনা আবেগের উৎসব, তেমনি এখন তা চূড়ান্ত পর্যায়ের বাণিজ্য মেলায় পরিণত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


বিশ্বকাপ ফুটবল: মহারণ নাকি পুঁজিবাদের মেশিন?

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

মাঠে গোলের লড়াই, মাঠের বাইরে টাকার লড়াই। ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন দুটি সত্যের উন্মোচন ঘটাবে। একদিকে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উত্তেজনার মহারণ, অন্যদিকে ফিফার জন্য রেকর্ড গড়া আয়ের বন্দোবস্ত।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বসতে যাওয়া এবারের আসরটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। দল ৩২ থেকে বেড়ে ৪৮, ম্যাচ ৬৪ থেকে বেড়ে ১০৪। এই সম্প্রসারণ আনা টাকার হিসেবটাই চমকে দেওয়ার মতো।

ফিফার পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যবসায়িক চক্র থেকে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হবে। শুধু এই টুর্নামেন্ট থেকেই ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার আয়ের প্রত্যাশা করছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এটি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি।

আয়ের উৎসগুলো চোখ রাখার মতো- টেলিভিশন স্বত্ব থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার, স্পনসরশিপ চুক্তি থেকে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার, টিকিট ও প্রিমিয়াম সার্ভিস থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার (যা অর্থনীতিবিদ রিচার্ড শিহানের মতে ৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে)।

ফিফার প্রত্যক্ষ আয়ের বাইরেও বিশ্বকাপের প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জিডিপিতে। সুইজারল্যান্ডের ইউবিএস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন, পর্যটন, পরিষেবা ও ভোক্তা ব্যয় খাত মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ বিশ্ব জিডিপিতে প্রায় ৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ করবে।

প্রায় ৬০০ কোটির বেশি মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন মাধ্যমে বিশ্বকাপ দেখবে। যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশের সমান। এটি ফুটবলের অসাধারণ জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

ফুটবল আর খেলা নয়; এটি এখন এক বিশাল শিল্প। ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশ্বের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ২০ ক্লাব মিলিয়ে রেকর্ড পরিমাণ ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জন করেছে। আগের মৌসুমের চেয়ে যা ১১ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি টেলিভিশন স্বত্ব, বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ।

রাজস্বের এই পাহাড়ের আড়ালে বিতর্কও থেমে নেই। ভক্ত সংগঠনগুলো বলছে, ফাইনাল পর্যন্ত একটি দলকে ফলো করতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। ‘সাধারণ দর্শকের জন্য বিশ্বকাপ’ থেকে ‘ধনীদের বিশ্বকাপে’ রূপ নেওয়ার শঙ্কায় অনেকে।

অন্যদিকে ফিফা দাবি করে, বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব তাঁরা ২১১টি সদস্য ফেডারেশন জুড়ে পুরুষ, নারী ও যুব ফুটবলের উন্নয়নে পুনঃবিনিয়োগ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সম্পদের বরাদ্দ প্রতিটি দেশের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী হওয়া উচিত।

যাই হোক, ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’তে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লুইস দিয়াজ ও ব্রুনো ফার্নান্দেজের লড়াই যেমন উত্তেজনা ছড়াবে, তেমনি টাকার এই লড়াই বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে। বিশ্বকাপ যেমন চিরচেনা আবেগের উৎসব, তেমনি এখন তা চূড়ান্ত পর্যায়ের বাণিজ্য মেলায় পরিণত হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত