জাতীয় সংসদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় পেশ করা হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট উপস্থাপন করবেন। এটি হবে দেশের ৫৫তম ও বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট।
বাজেট ঘিরে সাধারণ মানুষের মূল প্রশ্ন- কোন পণ্যের দাম কমবে আর কোনটির দাম বাড়বে? অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী ও প্রযুক্তি খাতে কর ছাড় আসতে পারে। অন্যদিকে বিলাসী পণ্য ও তামাকজাত পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে: নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য চাল, ডাল, গম, ভোজ্যতেলসহ ৬০ পণ্যে উৎসে কর ০.৫ শতাংশ ও রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার হতে পারে। দেশীয় তৈলবীজ তেল উৎপাদনকারীদের জন্য ১০ বছর শূন্য কর; সরিষার তেল সাশ্রয়ী হতে পারে। চিকিৎসাসামগ্রী কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারে ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার হতে পারে; ডায়ালাইসিসে খরচ কমতে পারে ৬০০ টাকা।
ওষুধের ৬৮টি কাঁচামালে শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। ক্যান্সারের ওষুধের ৯টি কাঁচামালে কর রেয়াত, হার্টের রিং ও চোখের লেন্স ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে। জ্বালানি তেল রিফাইনারি পর্যায়ে উৎসে কর ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ হতে পারে।
মোবাইল ফোন উৎপাদনের ২২টি কাঁচামালে উৎসে কর ১ শতাংশ; সিমে ৩০০ টাকা কর বাতিল হতে পারে। স্বর্ণ সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ হতে পারে। ফলে কমতে পারে স্বর্ণের দাম। ইলেকট্রিক যানবাহন, চার্জিং স্টেশন, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকে উৎসে কর শূন্য; ইভি নিবন্ধনে কর কমে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা হতে পারে।
সৌরবিদ্যুতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি। সোলার প্যানেল আমদানিতে শুল্ক ছাড় হতে পারে। সার ও কীটনাশকে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার হতে পারে। ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার প্রিন্টার, মনিটর, ফ্ল্যাশ মেমোরিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশ হতে পারে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে: সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়তে পারে। সিগারেটের ফিল্টারের কাঁচামালে ৩০০ শতাংশ ও নিকোটিনে ৩৫০ শতাংশ শুল্ক; উচ্চমূল্যের সিগারেটের প্যাকেট ১৮৫ থেকে ২১০ টাকা হতে পারে। দেশীয় অ্যালকোহলে লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট, এমএস রড উৎপাদন পর্যায়ে কর ও ভ্যাট ১০ শতাংশ বাড়তে পারে, উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, কাজুবাদামে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ হতে পারে। বিদেশি প্রসাধনী ও উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্যে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হতে পারে।বাজেটের আকার ও লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি থাকতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার।জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে সাড়ে ৬ শতাংশ আর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৭ শতাংশ।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা আর বিদেশি ঋণ সহায়তা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় এবারের বাজেটে করছাড় ও শুল্ক অব্যাহতির বড় ঘোষণা আসতে পারে। ভ্যাট ও পণ্য আমদানি শুল্কেও উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
জাতীয় সংসদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় পেশ করা হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট উপস্থাপন করবেন। এটি হবে দেশের ৫৫তম ও বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট।
বাজেট ঘিরে সাধারণ মানুষের মূল প্রশ্ন- কোন পণ্যের দাম কমবে আর কোনটির দাম বাড়বে? অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী ও প্রযুক্তি খাতে কর ছাড় আসতে পারে। অন্যদিকে বিলাসী পণ্য ও তামাকজাত পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে: নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য চাল, ডাল, গম, ভোজ্যতেলসহ ৬০ পণ্যে উৎসে কর ০.৫ শতাংশ ও রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার হতে পারে। দেশীয় তৈলবীজ তেল উৎপাদনকারীদের জন্য ১০ বছর শূন্য কর; সরিষার তেল সাশ্রয়ী হতে পারে। চিকিৎসাসামগ্রী কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারে ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার হতে পারে; ডায়ালাইসিসে খরচ কমতে পারে ৬০০ টাকা।
ওষুধের ৬৮টি কাঁচামালে শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। ক্যান্সারের ওষুধের ৯টি কাঁচামালে কর রেয়াত, হার্টের রিং ও চোখের লেন্স ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে। জ্বালানি তেল রিফাইনারি পর্যায়ে উৎসে কর ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ হতে পারে।
মোবাইল ফোন উৎপাদনের ২২টি কাঁচামালে উৎসে কর ১ শতাংশ; সিমে ৩০০ টাকা কর বাতিল হতে পারে। স্বর্ণ সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ হতে পারে। ফলে কমতে পারে স্বর্ণের দাম। ইলেকট্রিক যানবাহন, চার্জিং স্টেশন, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকে উৎসে কর শূন্য; ইভি নিবন্ধনে কর কমে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা হতে পারে।
সৌরবিদ্যুতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি। সোলার প্যানেল আমদানিতে শুল্ক ছাড় হতে পারে। সার ও কীটনাশকে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার হতে পারে। ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার প্রিন্টার, মনিটর, ফ্ল্যাশ মেমোরিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশ হতে পারে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে: সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়তে পারে। সিগারেটের ফিল্টারের কাঁচামালে ৩০০ শতাংশ ও নিকোটিনে ৩৫০ শতাংশ শুল্ক; উচ্চমূল্যের সিগারেটের প্যাকেট ১৮৫ থেকে ২১০ টাকা হতে পারে। দেশীয় অ্যালকোহলে লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট, এমএস রড উৎপাদন পর্যায়ে কর ও ভ্যাট ১০ শতাংশ বাড়তে পারে, উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, কাজুবাদামে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ হতে পারে। বিদেশি প্রসাধনী ও উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্যে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হতে পারে।বাজেটের আকার ও লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি থাকতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার।জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে সাড়ে ৬ শতাংশ আর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৭ শতাংশ।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা আর বিদেশি ঋণ সহায়তা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় এবারের বাজেটে করছাড় ও শুল্ক অব্যাহতির বড় ঘোষণা আসতে পারে। ভ্যাট ও পণ্য আমদানি শুল্কেও উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন