জাতীয় সংসদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পেশ করা হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। দেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেল ৩টায় এই বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের চেয়ে বাজেট বাড়ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেশি- ইতিহাসে যা রেকর্ড।
এ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। মোট বাজেটের বাকি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হিসেবে থাকছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে সরকারকে নির্ভর করতে হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর।
আসন্ন বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের পরিচালন ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে দেখানো হচ্ছে ৩ লাখ কোটি টাকা, যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ সহায়তা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
আসন্ন বাজেটে রাজস্ব খাত থেকে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা আর এনটিআর খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা।
এবারের বাজেটে এনবিআরের করের আওতা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আহরণে গতি আনতে পারলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষাজালের সম্প্রসারণ ও ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ১৩টি ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি। উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠনের এই যাত্রায় সরকারকে মুখোমুখি হতে হবে বহুমুখী সংকটের। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও বিদেশি ঋণের চাপ- সব মিলিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়ন করা হবে কঠিন এক পরীক্ষা।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
জাতীয় সংসদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পেশ করা হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। দেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেল ৩টায় এই বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের চেয়ে বাজেট বাড়ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেশি- ইতিহাসে যা রেকর্ড।
এ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। মোট বাজেটের বাকি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হিসেবে থাকছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে সরকারকে নির্ভর করতে হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর।
আসন্ন বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের পরিচালন ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে দেখানো হচ্ছে ৩ লাখ কোটি টাকা, যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ সহায়তা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
আসন্ন বাজেটে রাজস্ব খাত থেকে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা আর এনটিআর খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা।
এবারের বাজেটে এনবিআরের করের আওতা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আহরণে গতি আনতে পারলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষাজালের সম্প্রসারণ ও ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ১৩টি ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি। উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠনের এই যাত্রায় সরকারকে মুখোমুখি হতে হবে বহুমুখী সংকটের। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও বিদেশি ঋণের চাপ- সব মিলিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়ন করা হবে কঠিন এক পরীক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন