মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতাররা হলেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার শফিরকান্দি গ্রামের আরিফুল এবং সানি। সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগের একটি বিশেষ দল গত ৯ জুন, ২০২৬ তারিখ সকালে বাঞ্ছারামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
তদন্তে জানা গেছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় থাকতেন এবং এই অপরাধের পর আবারও মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম মানিকের (ছদ্মনাম) বাবা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত রয়েছেন। গত ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ বিকেলে মানিকের মুঠোফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। কলকারী মানিককে জানান, "আপনার বাবা মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। সেই টাকা নিতে দক্ষিণখান থানার জয়নাল মার্কেট এলাকায় আসুন।"
মানিক সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে অপহরণকারীরা তাকে কৌশলে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুরের একটি ভবনে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে তাকে মারধর করে নগদ ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর অপহরণকারীরা মানিকের পরিবারের কাছে ফোন করে বলেন, "১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে, তা না হলে ছেলেকে হত্যা করা হবে।"
অপহরণের পর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ জোরদার অনুসন্ধান শুরু করে। পুলিশের এই কঠোর তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা গত ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ গভীর রাতে মানিককে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে আগারগাঁও এলাকা থেকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় মানিকের মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার তদন্তভার পরবর্তীতে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এই অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা সিআইডিকে জানান, "আমরা অনেক বছর ধরেই মালয়েশিয়ায় থাকতাম। এই অপহরণের পরিকল্পনা করেই কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে আসি এবং কাজ শেষ করে আবার মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।"
সিআইডি জানায়, এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একই ধরনের অপরাধ করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত আরিফুল ও সানিকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতাররা হলেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার শফিরকান্দি গ্রামের আরিফুল এবং সানি। সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগের একটি বিশেষ দল গত ৯ জুন, ২০২৬ তারিখ সকালে বাঞ্ছারামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
তদন্তে জানা গেছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় থাকতেন এবং এই অপরাধের পর আবারও মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম মানিকের (ছদ্মনাম) বাবা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত রয়েছেন। গত ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ বিকেলে মানিকের মুঠোফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। কলকারী মানিককে জানান, "আপনার বাবা মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। সেই টাকা নিতে দক্ষিণখান থানার জয়নাল মার্কেট এলাকায় আসুন।"
মানিক সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে অপহরণকারীরা তাকে কৌশলে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুরের একটি ভবনে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে তাকে মারধর করে নগদ ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর অপহরণকারীরা মানিকের পরিবারের কাছে ফোন করে বলেন, "১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে, তা না হলে ছেলেকে হত্যা করা হবে।"
অপহরণের পর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ জোরদার অনুসন্ধান শুরু করে। পুলিশের এই কঠোর তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা গত ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ গভীর রাতে মানিককে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে আগারগাঁও এলাকা থেকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় মানিকের মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার তদন্তভার পরবর্তীতে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এই অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা সিআইডিকে জানান, "আমরা অনেক বছর ধরেই মালয়েশিয়ায় থাকতাম। এই অপহরণের পরিকল্পনা করেই কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে আসি এবং কাজ শেষ করে আবার মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।"
সিআইডি জানায়, এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একই ধরনের অপরাধ করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত আরিফুল ও সানিকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন