বিশ্বকাপ ফুটবলের মেক্সিকো পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে হাইতি জাতীয় ফুটবল দল। দলটির হোম জার্সির মূল নকশা (ডিজাইন) নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ 'সি'-তে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, মরক্কো এবং স্কটল্যান্ডের সঙ্গী হয়েছে হাইতি। আর এই হাইতির জার্সি নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
হাইতির হোম জার্সির মূল নকশায় দেখা যাচ্ছে—এক ব্যক্তি নীল ও লাল রঙের একটি পতাকা উঁচু করে ধরে আছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিযোগিতায় জার্সির মাধ্যমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফিফা মনে করছে, হাইতির জার্সির এই চিত্রটি একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
ফিফার এই রাজনৈতিক বার্তার দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে হাইতি এবং জার্সিটির নকশাকার কলম্বিয়ান প্রতিষ্ঠান 'সাএটা' (Saeta)। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: এটি কোনো রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং হাইতির স্বাধীনতার পর ব্যবহৃত প্রথম পতাকার একটি ঐতিহাসিক স্মারক বা রেফারেন্স।
জার্সিটির ডিজাইনে ১৮০৩ সালের বিখ্যাত 'ভার্তিয়ের যুদ্ধের' অনুপ্রেরণা রয়েছে, যা হাইতির স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতেই এই নকশা করা হয়েছে।
সাএটা এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, এই জার্সির পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তবে ফিফা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিয়ম মানতে হলে জার্সির কিছু গ্রাফিক উপাদান পরিবর্তন করতে হতে পারে।
এদিকে জার্সির এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ভুল ব্যাখ্যা। ইন্টারনেটে কিছু ব্যবহারকারী দাবি করছেন, জার্সির পতাকাটির সঙ্গে পোল্যান্ডের পতাকার মিল রয়েছে এবং এটি হাইতির স্বাধীনতা যুদ্ধে পোলিশ সৈন্যদের অংশগ্রহণের ইতিহাসকে নির্দেশ করে।
তবে নকশাকার প্রতিষ্ঠান এই দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। একটি পোলিশ গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পতাকার সঙ্গে পোল্যান্ডের কোনো সম্পর্ক নেই; এটি কেবলই হাইতির নিজস্ব ইতিহাসের অংশ।
ফিফা এবং হাইতি ফুটবল কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। ফলে বিশ্বকাপে হাইতি তাদের এই মূল হোম জার্সিটি পরে মাঠে নামতে পারবে কিনা, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকল্প একটি জার্সিতে ঐতিহাসিক রঙগুলো রাখা হলেও মূল নকশাটি ফিফার অনুমোদন পাবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আগামী রোববার (১৪ জুন) স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে হাইতি। এরপর ২০ জুন শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে তারা এবং ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লড়বে মরক্কোর বিপক্ষে।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের মেক্সিকো পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে হাইতি জাতীয় ফুটবল দল। দলটির হোম জার্সির মূল নকশা (ডিজাইন) নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ 'সি'-তে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, মরক্কো এবং স্কটল্যান্ডের সঙ্গী হয়েছে হাইতি। আর এই হাইতির জার্সি নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
হাইতির হোম জার্সির মূল নকশায় দেখা যাচ্ছে—এক ব্যক্তি নীল ও লাল রঙের একটি পতাকা উঁচু করে ধরে আছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিযোগিতায় জার্সির মাধ্যমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফিফা মনে করছে, হাইতির জার্সির এই চিত্রটি একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
ফিফার এই রাজনৈতিক বার্তার দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে হাইতি এবং জার্সিটির নকশাকার কলম্বিয়ান প্রতিষ্ঠান 'সাএটা' (Saeta)। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: এটি কোনো রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং হাইতির স্বাধীনতার পর ব্যবহৃত প্রথম পতাকার একটি ঐতিহাসিক স্মারক বা রেফারেন্স।
জার্সিটির ডিজাইনে ১৮০৩ সালের বিখ্যাত 'ভার্তিয়ের যুদ্ধের' অনুপ্রেরণা রয়েছে, যা হাইতির স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতেই এই নকশা করা হয়েছে।
সাএটা এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, এই জার্সির পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তবে ফিফা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিয়ম মানতে হলে জার্সির কিছু গ্রাফিক উপাদান পরিবর্তন করতে হতে পারে।
এদিকে জার্সির এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ভুল ব্যাখ্যা। ইন্টারনেটে কিছু ব্যবহারকারী দাবি করছেন, জার্সির পতাকাটির সঙ্গে পোল্যান্ডের পতাকার মিল রয়েছে এবং এটি হাইতির স্বাধীনতা যুদ্ধে পোলিশ সৈন্যদের অংশগ্রহণের ইতিহাসকে নির্দেশ করে।
তবে নকশাকার প্রতিষ্ঠান এই দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। একটি পোলিশ গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পতাকার সঙ্গে পোল্যান্ডের কোনো সম্পর্ক নেই; এটি কেবলই হাইতির নিজস্ব ইতিহাসের অংশ।
ফিফা এবং হাইতি ফুটবল কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। ফলে বিশ্বকাপে হাইতি তাদের এই মূল হোম জার্সিটি পরে মাঠে নামতে পারবে কিনা, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকল্প একটি জার্সিতে ঐতিহাসিক রঙগুলো রাখা হলেও মূল নকশাটি ফিফার অনুমোদন পাবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আগামী রোববার (১৪ জুন) স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে হাইতি। এরপর ২০ জুন শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে তারা এবং ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লড়বে মরক্কোর বিপক্ষে।

আপনার মতামত লিখুন