জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর এবার প্রথাগত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বাজেটের বিভিন্ন দিক, সরকারের অগ্রাধিকার এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে বাজেট নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মনে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেবেন তিনি।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ। এটি বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
মোট উন্নয়ন ব্যয়: ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা (যার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি ৩ লাখ কোটি টাকা)।
পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয়: ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
মোট রাজস্ব আয়: ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১০.২ শতাংশ)। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪Target কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকার ক্রমান্বয়ে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ (সংশোধিত) ২৭.২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার এবং পরিচালন ব্যয় ৭২.৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এডিপিতে বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাত এবং তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দ
সামাজিক অবকাঠামো খাত: ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ২৯.৭৪ শতাংশ)। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের প্রতিফলন এটি।
ভৌত অবকাঠামো খাত: ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ১৮.৬৬ শতাংশ)।
সাধারণ সেবা খাত: ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ২৬.১৩ শতাংশ)।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ।
মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ব্যাপকভাবে ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের ঋণ ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় অত্যধিক পরিমাণে বেড়েছে, যার ফলে বাজেট ঘাটতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি যেখানে জিডিপির ২.৯ শতাংশ ছিল, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়ায়।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্ন সমৃদ্ধ খাতে সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়ন করছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের গুণগত মান নিশ্চিত হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর এবার প্রথাগত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বাজেটের বিভিন্ন দিক, সরকারের অগ্রাধিকার এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে বাজেট নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মনে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেবেন তিনি।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ। এটি বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
মোট উন্নয়ন ব্যয়: ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা (যার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি ৩ লাখ কোটি টাকা)।
পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয়: ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
মোট রাজস্ব আয়: ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১০.২ শতাংশ)। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪Target কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকার ক্রমান্বয়ে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ (সংশোধিত) ২৭.২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার এবং পরিচালন ব্যয় ৭২.৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এডিপিতে বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাত এবং তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দ
সামাজিক অবকাঠামো খাত: ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ২৯.৭৪ শতাংশ)। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের প্রতিফলন এটি।
ভৌত অবকাঠামো খাত: ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ১৮.৬৬ শতাংশ)।
সাধারণ সেবা খাত: ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ২৬.১৩ শতাংশ)।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ।
মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ব্যাপকভাবে ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের ঋণ ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় অত্যধিক পরিমাণে বেড়েছে, যার ফলে বাজেট ঘাটতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি যেখানে জিডিপির ২.৯ শতাংশ ছিল, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়ায়।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্ন সমৃদ্ধ খাতে সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়ন করছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের গুণগত মান নিশ্চিত হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন