ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন আপাতত স্থগিত। সরকারের তরফে দাবি পূরণের আশ্বাস মিলেছে। তবে আন্দোলন পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাকি দুই দাবি নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংগঠনটি। সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর তাদের। ঠিক এই আবহেই রাজধানীতে আত্মপ্রকাশ করল আরেক নতুন প্ল্যাটফর্ম ই-২০ জনতা পার্টি। এবার ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বিক্রির সরকারি নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এই সংগঠন। তাদের অভিযোগ, গ্রাহকদের ওপর কার্যত "ভেজাল" পেট্রল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রল বিক্রির দাবি তুলে নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তারা।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারি এবং অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠতে শুরু করেছে।
সিজেপির দেখানো পথেই জন্ম নেওয়া ই-২০ জনতা পার্টি নিজেদের রাজনৈতিক দল নয়, বরং "গ্রাহক অধিকারের নাগরিক আন্দোলন" বলে দাবি করছে। তাদের বক্তব্য, অন্যান্য পণ্যের মতো জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রেও মানুষের পছন্দের স্বাধীনতা থাকা উচিত। সরকার যদি ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বাজারে আনে, তাহলে পাশাপাশি ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রলও একইভাবে বিক্রির সুযোগ রাখতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবেন গ্রাহক, সরকার নয়।
সামাজিক মাধ্যমে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে এই সংগঠন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার অনুসারী জুটেছে। ইনস্টাগ্রামেও সেই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে নীতিন গাদকারির অতীতের ইথানল-সমর্থনকারী বক্তব্য, সাক্ষাৎকার এবং ভিডিও ঘিরে একের পর এক মিম ও রিলস ভাইরাল হচ্ছে। অনেকেই ইতিমধ্যে স্লোগান তুলছেন—"ধর্মেন্দ্রর পর এবার গাদকারি।"
ই-২০ জনতা পার্টির অভিযোগ, ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের ফলে বহু পুরনো গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মাইলেজ কমছে, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জ্বালানি ট্যাঙ্ক ও ফুয়েল লাইনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেরও দাবি, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবিদদের একাংশের অভিযোগ, ইথানল উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ জল ব্যবহৃত হওয়ায় ভূগর্ভস্থ জলের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
যদিও কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমানো, কৃষকদের আখ ও অন্যান্য ফসলের বাজার তৈরি এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা।
সংগঠনের দাবি-সনদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জ্বালানির মিশ্রণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি পাম্পে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে জ্বালানিতে কত শতাংশ ইথানল রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির ক্ষেত্রে মাইলেজ, ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে স্বাধীন বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা প্রকাশ করতে হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রাহক নিজের সিদ্ধান্ত নেবেন।
এরই মধ্যে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ৪ আগস্ট সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট ট্রান্সপোর্টারস অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের দাবি, ই-২০ জ্বালানি নীতির কারণে পরিবহণ শিল্পে অসন্তোষ দ্রুত বাড়ছে। সেই কারণেই সংসদের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে, সিজেপির আন্দোলনের পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অসন্তোষের নতুন ইস্যু হিসেবে উঠে আসছে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল। সিজেপি আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখলেও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হলে তারা আবারও রাস্তায় নামতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। সেই ফাঁকেই নতুন ইস্যু নিয়ে জনমত গড়ে তুলতে শুরু করেছে ই-২০ জনতা পার্টি।
এখন দেখার বিষয়, এই আন্দোলন শুধুই সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সিজেপির মতো বাস্তবের রাস্তায় নেমে আরও বড় গণআন্দোলনের রূপ নেয়। কারণ জ্বালানি নীতি, পরিবহণ খরচ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন—তিনটিই এই বিতর্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন আপাতত স্থগিত। সরকারের তরফে দাবি পূরণের আশ্বাস মিলেছে। তবে আন্দোলন পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাকি দুই দাবি নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংগঠনটি। সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর তাদের। ঠিক এই আবহেই রাজধানীতে আত্মপ্রকাশ করল আরেক নতুন প্ল্যাটফর্ম ই-২০ জনতা পার্টি। এবার ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বিক্রির সরকারি নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এই সংগঠন। তাদের অভিযোগ, গ্রাহকদের ওপর কার্যত "ভেজাল" পেট্রল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রল বিক্রির দাবি তুলে নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তারা।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারি এবং অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠতে শুরু করেছে।
সিজেপির দেখানো পথেই জন্ম নেওয়া ই-২০ জনতা পার্টি নিজেদের রাজনৈতিক দল নয়, বরং "গ্রাহক অধিকারের নাগরিক আন্দোলন" বলে দাবি করছে। তাদের বক্তব্য, অন্যান্য পণ্যের মতো জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রেও মানুষের পছন্দের স্বাধীনতা থাকা উচিত। সরকার যদি ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বাজারে আনে, তাহলে পাশাপাশি ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রলও একইভাবে বিক্রির সুযোগ রাখতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবেন গ্রাহক, সরকার নয়।
সামাজিক মাধ্যমে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে এই সংগঠন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার অনুসারী জুটেছে। ইনস্টাগ্রামেও সেই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে নীতিন গাদকারির অতীতের ইথানল-সমর্থনকারী বক্তব্য, সাক্ষাৎকার এবং ভিডিও ঘিরে একের পর এক মিম ও রিলস ভাইরাল হচ্ছে। অনেকেই ইতিমধ্যে স্লোগান তুলছেন—"ধর্মেন্দ্রর পর এবার গাদকারি।"
ই-২০ জনতা পার্টির অভিযোগ, ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের ফলে বহু পুরনো গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মাইলেজ কমছে, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জ্বালানি ট্যাঙ্ক ও ফুয়েল লাইনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেরও দাবি, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবিদদের একাংশের অভিযোগ, ইথানল উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ জল ব্যবহৃত হওয়ায় ভূগর্ভস্থ জলের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
যদিও কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমানো, কৃষকদের আখ ও অন্যান্য ফসলের বাজার তৈরি এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা।
সংগঠনের দাবি-সনদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জ্বালানির মিশ্রণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি পাম্পে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে জ্বালানিতে কত শতাংশ ইথানল রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির ক্ষেত্রে মাইলেজ, ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে স্বাধীন বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা প্রকাশ করতে হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রাহক নিজের সিদ্ধান্ত নেবেন।
এরই মধ্যে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ৪ আগস্ট সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট ট্রান্সপোর্টারস অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের দাবি, ই-২০ জ্বালানি নীতির কারণে পরিবহণ শিল্পে অসন্তোষ দ্রুত বাড়ছে। সেই কারণেই সংসদের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে, সিজেপির আন্দোলনের পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অসন্তোষের নতুন ইস্যু হিসেবে উঠে আসছে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল। সিজেপি আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখলেও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হলে তারা আবারও রাস্তায় নামতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। সেই ফাঁকেই নতুন ইস্যু নিয়ে জনমত গড়ে তুলতে শুরু করেছে ই-২০ জনতা পার্টি।
এখন দেখার বিষয়, এই আন্দোলন শুধুই সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সিজেপির মতো বাস্তবের রাস্তায় নেমে আরও বড় গণআন্দোলনের রূপ নেয়। কারণ জ্বালানি নীতি, পরিবহণ খরচ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন—তিনটিই এই বিতর্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন