সংবাদ

১০ গুণ চাহিদার দাবি ফিফা সভাপতির, তবে মাঠজুড়ে শুধুই ফাঁকা চেয়ার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

১০ গুণ চাহিদার দাবি ফিফা সভাপতির, তবে মাঠজুড়ে শুধুই ফাঁকা চেয়ার

​ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই দেখতে ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের ঢল নেমেছিল। তবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনেই দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এক হতাশাজনক চিত্র।

গ্যালারির সারিবদ্ধ ফাঁকা আসন নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে, যা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন গ্রুপ ‘এ’ এর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ ব্যবধানে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়েছে। তবে এদিন মাঠের ফুটবলের রোমাঞ্চকে ছাপিয়ে গ্যালারির বড় একটা অংশের শূন্যতাই ফুটবল বিশ্বে মূল আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

​ফিফার অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী, ৪৬ হাজার আসন বিশিষ্ট গুয়াদালাহারার স্টেডিয়ামটিতে রবিবারের ম্যাচে মোট দর্শক উপস্থিতি ছিল ৪৪,৯৮৫ জন। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরের বাস্তব ছবি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।

টেলিভিশন স্ক্রিনে স্পষ্ট দেখা গেছে, গ্যালারির একাধিক সারিতে শত শত আসন সম্পূর্ণ খালি পড়ে ছিল। স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসা সাধারণ দর্শকরা এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ফিফার টিকিটের অতিরিক্ত দামকে দায়ী করেছেন।

মেক্সিকোর স্থানীয় ফুটবল ভক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের টিকিটের দাম এখন সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে।

​সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হলো, এই ম্যাচটি শুরু হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো টিকিটের চড়া মূল্যের পক্ষে জোর গলায় সাফাই গেয়েছিলেন। নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, "টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য রাখা হয়েছে ৬০ ডলার, যা আমেরিকার অন্য যেকোনো বড় খেলার চেয়ে অনেক কম।"

সেই সাথে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই দাবি করেছিলেন, টিকিট পাওয়ার চাহিদা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও ১০ গুণেরও বেশি ছিল।

​তবে বাস্তব চিত্র এবং ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপের (এফএসই) দেওয়া তথ্য বলছে অন্য কথা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে টিকিটের দাম গড়ে প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চড়া মূল্যের এই বাজারে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ফুটবলপ্রেমীদের পক্ষে টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে গুয়াদালাহারার গ্যালারিতে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


১০ গুণ চাহিদার দাবি ফিফা সভাপতির, তবে মাঠজুড়ে শুধুই ফাঁকা চেয়ার

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

​ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই দেখতে ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের ঢল নেমেছিল। তবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনেই দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এক হতাশাজনক চিত্র।

গ্যালারির সারিবদ্ধ ফাঁকা আসন নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে, যা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন গ্রুপ ‘এ’ এর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ ব্যবধানে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়েছে। তবে এদিন মাঠের ফুটবলের রোমাঞ্চকে ছাপিয়ে গ্যালারির বড় একটা অংশের শূন্যতাই ফুটবল বিশ্বে মূল আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

​ফিফার অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী, ৪৬ হাজার আসন বিশিষ্ট গুয়াদালাহারার স্টেডিয়ামটিতে রবিবারের ম্যাচে মোট দর্শক উপস্থিতি ছিল ৪৪,৯৮৫ জন। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরের বাস্তব ছবি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।

টেলিভিশন স্ক্রিনে স্পষ্ট দেখা গেছে, গ্যালারির একাধিক সারিতে শত শত আসন সম্পূর্ণ খালি পড়ে ছিল। স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসা সাধারণ দর্শকরা এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ফিফার টিকিটের অতিরিক্ত দামকে দায়ী করেছেন।

মেক্সিকোর স্থানীয় ফুটবল ভক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের টিকিটের দাম এখন সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে।

​সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হলো, এই ম্যাচটি শুরু হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো টিকিটের চড়া মূল্যের পক্ষে জোর গলায় সাফাই গেয়েছিলেন। নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, "টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য রাখা হয়েছে ৬০ ডলার, যা আমেরিকার অন্য যেকোনো বড় খেলার চেয়ে অনেক কম।"

সেই সাথে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই দাবি করেছিলেন, টিকিট পাওয়ার চাহিদা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও ১০ গুণেরও বেশি ছিল।

​তবে বাস্তব চিত্র এবং ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপের (এফএসই) দেওয়া তথ্য বলছে অন্য কথা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে টিকিটের দাম গড়ে প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চড়া মূল্যের এই বাজারে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ফুটবলপ্রেমীদের পক্ষে টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে গুয়াদালাহারার গ্যালারিতে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত