প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী বাজেটে মদ, সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিরোধীদল চরমভাবে নাখোশ হয়েছে। তারা এই বাজেট মানে না দাবি করে মিছিল-সমাবেশ করছে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩৭টি পণ্যে ট্যাক্স কমানো হলেও সেটি তারা কোথাও বলছে না। এতেই বোঝা যায়, সাধারণ মানুষ নয়, বরং বিশেষ কিছু শ্রেণির স্বার্থই তাদের কাছে বড়।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুবেদার মেজর আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকুর সঞ্চালনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধীদলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় আমরা কান দিচ্ছি না। সাধারণ জনগণের স্বার্থরক্ষা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের সকল জমিকে আবাদযোগ্য করে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়া নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
খালের অতীত ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, অর্ধশত বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাতলী খাল খনন করে চাষাবাদ বাড়িয়েছেন। মাঝে খালটি নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি বেদখল হয়েছে। এখন এটি পুনঃখনন হচ্ছে, ফলে আবারো পূর্বের মতো আবাদের সুযোগ আসবে। এভাবে সারা বাংলাদেশে ৪০ হাজার মিটার খাল খনন হলে চাষাবাদের সহজলভ্যতা বাড়বে। কৃষক লাভবান হলে দেশ লাভবান হবে এবং দেশ লাভবান হলে স্বনির্ভরতা আসবে।
বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি আমজনতার দল এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে বিশ্বাসী। দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদ ঠিক রাখতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় দেশের মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের ওপর আস্থা রাখুন।
সভায় সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এলাকার সমস্যা তুলে ধরে বলেন, কক্সবাজারের দুঃখ বাঁকখালী নদী। এই নদীর বাঁকে বাঁকে ভাঙন দু’কুলের মানুষকে ভোগায় এবং ফসল ভাসিয়ে নেয়। নদীর দু’কুলে টেকসই বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আদেশ দিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তার বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালের পুনঃখনন কাজ নিজের হাতে মাটি কেটে উদ্বোধন করেন। টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উদ্বোধনের পর পথসভা শেষ করে পৌনে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন, যেখানে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তার।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী বাজেটে মদ, সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিরোধীদল চরমভাবে নাখোশ হয়েছে। তারা এই বাজেট মানে না দাবি করে মিছিল-সমাবেশ করছে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩৭টি পণ্যে ট্যাক্স কমানো হলেও সেটি তারা কোথাও বলছে না। এতেই বোঝা যায়, সাধারণ মানুষ নয়, বরং বিশেষ কিছু শ্রেণির স্বার্থই তাদের কাছে বড়।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুবেদার মেজর আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকুর সঞ্চালনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধীদলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় আমরা কান দিচ্ছি না। সাধারণ জনগণের স্বার্থরক্ষা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের সকল জমিকে আবাদযোগ্য করে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়া নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
খালের অতীত ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, অর্ধশত বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাতলী খাল খনন করে চাষাবাদ বাড়িয়েছেন। মাঝে খালটি নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি বেদখল হয়েছে। এখন এটি পুনঃখনন হচ্ছে, ফলে আবারো পূর্বের মতো আবাদের সুযোগ আসবে। এভাবে সারা বাংলাদেশে ৪০ হাজার মিটার খাল খনন হলে চাষাবাদের সহজলভ্যতা বাড়বে। কৃষক লাভবান হলে দেশ লাভবান হবে এবং দেশ লাভবান হলে স্বনির্ভরতা আসবে।
বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি আমজনতার দল এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে বিশ্বাসী। দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদ ঠিক রাখতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় দেশের মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের ওপর আস্থা রাখুন।
সভায় সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এলাকার সমস্যা তুলে ধরে বলেন, কক্সবাজারের দুঃখ বাঁকখালী নদী। এই নদীর বাঁকে বাঁকে ভাঙন দু’কুলের মানুষকে ভোগায় এবং ফসল ভাসিয়ে নেয়। নদীর দু’কুলে টেকসই বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আদেশ দিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তার বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালের পুনঃখনন কাজ নিজের হাতে মাটি কেটে উদ্বোধন করেন। টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উদ্বোধনের পর পথসভা শেষ করে পৌনে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন, যেখানে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তার।

আপনার মতামত লিখুন