সংবাদ

মে মাসে সড়কে ৬২২ প্রাণহানি, মোটরসাইকেলেই ঝরলো ২৩১


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

মে মাসে সড়কে ৬২২ প্রাণহানি, মোটরসাইকেলেই ঝরলো ২৩১

মে মাসে দেশের সড়কগুলোতে মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামানো যায়নি। মে মাসে সারাদেশে মোট ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১৬৫২ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া নৌ-পথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মোট সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। মে মাসে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ০৫ শতাংশ।

বিভাগীয় হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১৮০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে।

এই দুর্ঘটনাগুলোতে প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৩৯ জন চালক ও ৯৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য, নারী, শিশু, চিকিৎসক, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পরিচয়ও মিলেছে।

​যাত্রী কল্যাণ সমিতি মে মাসের এই দুর্ঘটনার পেছনে ৯টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও সড়কবাতির অভাব, সড়কের নির্মাণ ত্রুটি, ভাঙা রাস্তা ও বৈরী আবহাওয়া। এছাড়া অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মে মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ ছিল গাড়িচাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা এবং ৪২ দশমিক ০৮ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ।

​সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১১টি সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তি নির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়া। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন নির্মাণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করে চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা, বিআরটিএ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, "সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের বাইরেও অনেক ছোট-বড় দুর্ঘটনা থেকে যায়, যার ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা প্রতিবেদনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হতে পারে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


মে মাসে সড়কে ৬২২ প্রাণহানি, মোটরসাইকেলেই ঝরলো ২৩১

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

মে মাসে দেশের সড়কগুলোতে মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামানো যায়নি। মে মাসে সারাদেশে মোট ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১৬৫২ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া নৌ-পথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মোট সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। মে মাসে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ০৫ শতাংশ।

বিভাগীয় হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১৮০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে।

এই দুর্ঘটনাগুলোতে প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৩৯ জন চালক ও ৯৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য, নারী, শিশু, চিকিৎসক, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পরিচয়ও মিলেছে।

​যাত্রী কল্যাণ সমিতি মে মাসের এই দুর্ঘটনার পেছনে ৯টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও সড়কবাতির অভাব, সড়কের নির্মাণ ত্রুটি, ভাঙা রাস্তা ও বৈরী আবহাওয়া। এছাড়া অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মে মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ ছিল গাড়িচাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা এবং ৪২ দশমিক ০৮ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ।

​সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১১টি সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তি নির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়া। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন নির্মাণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করে চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা, বিআরটিএ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, "সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের বাইরেও অনেক ছোট-বড় দুর্ঘটনা থেকে যায়, যার ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা প্রতিবেদনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হতে পারে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত