আজ রাতে আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে ‘এফ’ গ্রুপের এক জমজমাট ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস ও জাপান। বিশ্বকাপের মঞ্চে ডাচরা বরাবরই একটি অনন্য ফুটবল দর্শনের প্রতীক, অন্যদিকে জাপান গত এক দশকে প্রমাণ করেছে যে বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিদের সামনে তারা আর গুটিয়ে থাকার দল নয়।
আজ রাতের এই ম্যাচটি মূলত ডাচদের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের সামনে জাপানের গতি আর বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণের এক তীব্র লড়াই হতে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের ধারাবাহিকতার ইতিহাস বেশ দারুণ, কারণ নিজেদের শেষ ১৬টি গ্রুপ ম্যাচে তারা অপরাজিত রয়েছে। ডাচদের নিয়ে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা সবশেষ হেরেছিল সেই ১৯৩৮ সালে।
এরপর আরও নয়টি বিশ্বকাপ খেললেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের মুখ দেখেনি ‘অরাঞ্জ’ বাহিনী। স্বাভাবিকভাবেই ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যানের দলের পক্ষে ইতিহাস কথা বলছে। তবে বর্তমান জাপানকে কেবল অতীতের পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা ভুল হবে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল ‘সামুরাই ব্লু’। জাপানের দ্রুত গতির ট্রানজিশন, সুসংগঠিত রক্ষণভাগ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই এখন বড় ভয়ের কারণ।
আজকের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের আক্রমণের মূল ভরসা হয়ে থাকবেন মেমফিস ডিপাই, যিনি বাছাইপর্বে দলের সর্বোচ্চ গোল ও অ্যাসিস্ট করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে কোডি গাকপো, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, তিজানি রেইন্ডার্স ও ডেনজেল ডামফ্রিসদের উপস্থিতি ডাচ শিবিরকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিপরীতে জাপানের বড় আশা টেকেফুসা কুবো, জুনিয়া ইতো এবং আয়াসে উয়েদাকে ঘিরে। বাছাইপর্বে এই ত্রয়ীর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই জাপান এশিয়ার সর্বোচ্চ গোলদাতা দলে পরিণত হয়েছিল।
আজকের ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে মূলত মাঝমাঠের লড়াইয়ে। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের নিখুঁত পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দোর নেতৃত্বে থাকবে এক নিরলস পরিশ্রমী মিডফিল্ড ইউনিট। যে দল মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নিতে পারবে, তারাই ম্যাচের গতি ঠিক করে দেবে। দুই দলের অতীত ইতিহাস অবশ্য নেদারল্যান্ডসের কথাই বলছে। বিশ্বকাপে একমাত্র দেখায় ২০১০ সালে ওয়েসলি স্নেইডারের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ডাচরা এবং সব মিলিয়ে তিনবারের দেখায় জাপান এখনও নেদারল্যান্ডসকে হারাতে পারেনি।
তবে বর্তমান জাপান অতীতের সেই দল নয়, তারা এখন বিশ্বাস করে যে বিশ্বমঞ্চে যেকোনো বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে। এই ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ফেভারিট ধরা হলেও জাপানের গোছানো ফুটবল এবং কাউন্টার অ্যাটাকের গতি ম্যাচটিকে একপেশে হতে দেবে না। ডাচদের বল দখলের ফুটবলের বিপরীতে জাপানের ক্ষীপ্র আক্রমণই হতে যাচ্ছে আজ রাতের ম্যাচের মূল আকর্ষণ।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
আজ রাতে আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে ‘এফ’ গ্রুপের এক জমজমাট ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস ও জাপান। বিশ্বকাপের মঞ্চে ডাচরা বরাবরই একটি অনন্য ফুটবল দর্শনের প্রতীক, অন্যদিকে জাপান গত এক দশকে প্রমাণ করেছে যে বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিদের সামনে তারা আর গুটিয়ে থাকার দল নয়।
আজ রাতের এই ম্যাচটি মূলত ডাচদের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের সামনে জাপানের গতি আর বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণের এক তীব্র লড়াই হতে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের ধারাবাহিকতার ইতিহাস বেশ দারুণ, কারণ নিজেদের শেষ ১৬টি গ্রুপ ম্যাচে তারা অপরাজিত রয়েছে। ডাচদের নিয়ে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা সবশেষ হেরেছিল সেই ১৯৩৮ সালে।
এরপর আরও নয়টি বিশ্বকাপ খেললেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের মুখ দেখেনি ‘অরাঞ্জ’ বাহিনী। স্বাভাবিকভাবেই ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যানের দলের পক্ষে ইতিহাস কথা বলছে। তবে বর্তমান জাপানকে কেবল অতীতের পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা ভুল হবে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল ‘সামুরাই ব্লু’। জাপানের দ্রুত গতির ট্রানজিশন, সুসংগঠিত রক্ষণভাগ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই এখন বড় ভয়ের কারণ।
আজকের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের আক্রমণের মূল ভরসা হয়ে থাকবেন মেমফিস ডিপাই, যিনি বাছাইপর্বে দলের সর্বোচ্চ গোল ও অ্যাসিস্ট করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে কোডি গাকপো, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, তিজানি রেইন্ডার্স ও ডেনজেল ডামফ্রিসদের উপস্থিতি ডাচ শিবিরকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিপরীতে জাপানের বড় আশা টেকেফুসা কুবো, জুনিয়া ইতো এবং আয়াসে উয়েদাকে ঘিরে। বাছাইপর্বে এই ত্রয়ীর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই জাপান এশিয়ার সর্বোচ্চ গোলদাতা দলে পরিণত হয়েছিল।
আজকের ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে মূলত মাঝমাঠের লড়াইয়ে। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের নিখুঁত পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দোর নেতৃত্বে থাকবে এক নিরলস পরিশ্রমী মিডফিল্ড ইউনিট। যে দল মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নিতে পারবে, তারাই ম্যাচের গতি ঠিক করে দেবে। দুই দলের অতীত ইতিহাস অবশ্য নেদারল্যান্ডসের কথাই বলছে। বিশ্বকাপে একমাত্র দেখায় ২০১০ সালে ওয়েসলি স্নেইডারের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ডাচরা এবং সব মিলিয়ে তিনবারের দেখায় জাপান এখনও নেদারল্যান্ডসকে হারাতে পারেনি।
তবে বর্তমান জাপান অতীতের সেই দল নয়, তারা এখন বিশ্বাস করে যে বিশ্বমঞ্চে যেকোনো বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে। এই ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ফেভারিট ধরা হলেও জাপানের গোছানো ফুটবল এবং কাউন্টার অ্যাটাকের গতি ম্যাচটিকে একপেশে হতে দেবে না। ডাচদের বল দখলের ফুটবলের বিপরীতে জাপানের ক্ষীপ্র আক্রমণই হতে যাচ্ছে আজ রাতের ম্যাচের মূল আকর্ষণ।

আপনার মতামত লিখুন