সংবাদ

কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের তালিকা চাইলেন হাইকোর্ট


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের তালিকা চাইলেন হাইকোর্ট

সারাদেশের কারাগারগুলোতে বন্দি মায়েদের সঙ্গে কতজন শিশু রয়েছে, তাদের বয়সসহ একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার মাহমুদ দীপা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।

আদালত তার রুলে—কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের প্রয়োজনীয় কল্যাণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব এবং আইজি প্রিজন্সকে (কারা মহাপরিদর্শক) আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ৯ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ কারাবিধির (জেল কোড) ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী, নারী হাজতি ও কয়েদিরা চার বছর বয়স পর্যন্ত তাদের সন্তানদের নিজেদের কাছে রাখতে পারেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত সন্তানকে সঙ্গে রাখার সুযোগ রয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শিশুর বয়স ছয় বছর পার হওয়ার পরও যদি মা কারাগারে থাকেন, তবে যেসব শিশুর স্বজনরা দায়িত্ব নিতে রাজি হন, তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর যেসব শিশুর কোনো স্বজন থাকে না, তাদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি শিশুনিবাসে (এতিমখানা) পাঠানো হয়।

কারা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে বর্তমানে বন্দি মায়েদের সঙ্গে মোট ২৯৯ জন শিশু রয়েছে। এই শিশুদের মায়েদের বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি। ২৯৯টি শিশুর মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩ জন এবং ছেলেশিশু ১৪৬ জন। এই মায়েদের কেউ কেউ সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি, আবার কারও কারও মামলা বিচারাধীন (হাজতি)।

বিভাগভিত্তিক শিশুর সংখ্যা:

ঢাকা বিভাগ: ১৮টি কারাগারে রয়েছে সর্বোচ্চ ১০০ শিশু।

চট্টগ্রাম বিভাগ: ১২টি কারাগারে রয়েছে ৯০ শিশু।

রাজশাহী বিভাগ: ৮টি কারাগারে রয়েছে ২৫ শিশু।

রংপুর বিভাগ: ৮টি কারাগারে রয়েছে ২৫ শিশু।

খুলনা বিভাগ: ১০টি কারাগারে রয়েছে ২০ শিশু।

সিলেট বিভাগ: ৫টি কারাগারে রয়েছে ১৯ শিশু।

ময়মনসিংহ বিভাগ: ৪টি কারাগারে রয়েছে ১৩ শিশু।

বরিশাল বিভাগ: ৬টি কারাগারে রয়েছে ৪ শিশু।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মায়েদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। গত ৪ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে, এই একটি কারাগারেই রয়েছে ৫১ শিশু; যার মধ্যে ২৪ জন ছেলে এবং ২৭ জন কন্যাশিশু।

এই নিষ্পাপ শিশুদের কারাগারের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা সেলে থাকতে হয়, যেখানে অন্য সাধারণ সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি বা হাজতিরাও থাকেন। আর এসব বন্দিদের বেশিরভাগই হত্যা ও মাদক মামলার মতো গুরুতর অপরাধের আসামি, যা শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের তালিকা চাইলেন হাইকোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

সারাদেশের কারাগারগুলোতে বন্দি মায়েদের সঙ্গে কতজন শিশু রয়েছে, তাদের বয়সসহ একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার মাহমুদ দীপা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।

আদালত তার রুলে—কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের প্রয়োজনীয় কল্যাণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব এবং আইজি প্রিজন্সকে (কারা মহাপরিদর্শক) আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ৯ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ কারাবিধির (জেল কোড) ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী, নারী হাজতি ও কয়েদিরা চার বছর বয়স পর্যন্ত তাদের সন্তানদের নিজেদের কাছে রাখতে পারেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত সন্তানকে সঙ্গে রাখার সুযোগ রয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শিশুর বয়স ছয় বছর পার হওয়ার পরও যদি মা কারাগারে থাকেন, তবে যেসব শিশুর স্বজনরা দায়িত্ব নিতে রাজি হন, তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর যেসব শিশুর কোনো স্বজন থাকে না, তাদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি শিশুনিবাসে (এতিমখানা) পাঠানো হয়।

কারা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে বর্তমানে বন্দি মায়েদের সঙ্গে মোট ২৯৯ জন শিশু রয়েছে। এই শিশুদের মায়েদের বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি। ২৯৯টি শিশুর মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩ জন এবং ছেলেশিশু ১৪৬ জন। এই মায়েদের কেউ কেউ সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি, আবার কারও কারও মামলা বিচারাধীন (হাজতি)।

বিভাগভিত্তিক শিশুর সংখ্যা:

ঢাকা বিভাগ: ১৮টি কারাগারে রয়েছে সর্বোচ্চ ১০০ শিশু।

চট্টগ্রাম বিভাগ: ১২টি কারাগারে রয়েছে ৯০ শিশু।

রাজশাহী বিভাগ: ৮টি কারাগারে রয়েছে ২৫ শিশু।

রংপুর বিভাগ: ৮টি কারাগারে রয়েছে ২৫ শিশু।

খুলনা বিভাগ: ১০টি কারাগারে রয়েছে ২০ শিশু।

সিলেট বিভাগ: ৫টি কারাগারে রয়েছে ১৯ শিশু।

ময়মনসিংহ বিভাগ: ৪টি কারাগারে রয়েছে ১৩ শিশু।

বরিশাল বিভাগ: ৬টি কারাগারে রয়েছে ৪ শিশু।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মায়েদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। গত ৪ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে, এই একটি কারাগারেই রয়েছে ৫১ শিশু; যার মধ্যে ২৪ জন ছেলে এবং ২৭ জন কন্যাশিশু।

এই নিষ্পাপ শিশুদের কারাগারের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা সেলে থাকতে হয়, যেখানে অন্য সাধারণ সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি বা হাজতিরাও থাকেন। আর এসব বন্দিদের বেশিরভাগই হত্যা ও মাদক মামলার মতো গুরুতর অপরাধের আসামি, যা শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত