সাড়ে তিন বছর আগে চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় আসামি মো. আবিরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে লাশ গুমের অপরাধে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, হত্যার দায়ে আসামির ফাঁসির আদেশ ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম ও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী।
চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আয়াত। ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যায় জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির। ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যেই আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। নির্মমভাবে হত্যার পর শিশুটির মরদেহ ছয় টুকরা করে বস্তাবন্দী করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মুস্তাফিজুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে আবির ও তাঁর ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর বন্ধুকে আসামি করা হয়। শিশু আদালতে ওই কিশোরের বিচার চলছে।
রায় ঘোষণার পর শিশুটির বাবা সোহেল রানা বলেন, ‘রায়ের আদেশে খুশি। আসামির ফাঁসির আদেশ যাতে দ্রুত কার্যকর হয়। নইলে আসামিরা উৎসাহিত হবে।’
আদালত প্রাঙ্গণে আয়াতের স্বজনরা আসামির ফাঁসি দাবি করে ব্যানার নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
সাড়ে তিন বছর আগে চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় আসামি মো. আবিরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে লাশ গুমের অপরাধে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, হত্যার দায়ে আসামির ফাঁসির আদেশ ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম ও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী।
চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আয়াত। ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যায় জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির। ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যেই আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। নির্মমভাবে হত্যার পর শিশুটির মরদেহ ছয় টুকরা করে বস্তাবন্দী করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মুস্তাফিজুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে আবির ও তাঁর ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর বন্ধুকে আসামি করা হয়। শিশু আদালতে ওই কিশোরের বিচার চলছে।
রায় ঘোষণার পর শিশুটির বাবা সোহেল রানা বলেন, ‘রায়ের আদেশে খুশি। আসামির ফাঁসির আদেশ যাতে দ্রুত কার্যকর হয়। নইলে আসামিরা উৎসাহিত হবে।’
আদালত প্রাঙ্গণে আয়াতের স্বজনরা আসামির ফাঁসি দাবি করে ব্যানার নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন