২০০২ বিশ্বকাপের সেই দুঃসহ স্মৃতি আবারও উঁকি দিচ্ছিল ফরাসি শিবিরে। সেবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এসেও প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের কাছে হেরে আসর থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। দীর্ঘ বছর পর আবারও সেই সেনেগালের মুখোমুখি হয়ে প্রথমার্ধে যেভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ফরাসিরা, তাতে পুরনো অতীত মনে পড়তে বাধ্য। তবে এবার আর সেই অঘটনের পুনরাবৃত্তি হতে দেননি কিলিয়ান এমবাপে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে ফ্রান্স। প্রথমার্ধে সেনেগাল দুর্দান্ত খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় ফরাসিরা, যার ফলশ্রুতিতে ম্যাচের শেষ ১৪ মিনিটে দেখা যায় তিন তিনটি গোল।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিউ জার্সির মাঠে ফরাসিদের বেশ ছন্নছাড়া দেখিয়েছে। প্রথম ২০ মিনিটে জুতসই কোনো আক্রমণই করতে পারেনি তারা। উল্টো ২৫ মিনিটে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় ফ্রান্স। সেনেগালের ডিওফের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে জ্যাকসন কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ের শট নিলেও বল পোস্টে লেগে গোলরক্ষক মেইনানের গায়ে প্রতিহত হয়ে কর্নার হয়। ৪০ মিনিটে সাদিও মানের ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শট সহজেই লুফে নেন মেইনান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের মাঝে বল পেয়েও সেটি উপরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন মানে, যার ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর সম্পূর্ণ অন্য এক ফ্রান্সের দেখা মেলে। ৪৮ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন দায়ত উপামেকানো, তবে বল পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৫৪ মিনিটে মাইকেল ওলিসের চমৎকার চিপ শট কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন সেনেগাল গোলরক্ষক এডোয়ার্ড মেন্ডি। এর চার মিনিট পর এমবাপে গোলরক্ষককে একা পেয়েও মেন্ডির দুর্দান্ত পায়ের ট্যাকলে গোল করতে ব্যর্থ হন। ৬৪ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে অল্পের জন্য বলের নাগাল পাননি এমবাপে।
তবে গোল পেতে আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ৬৬ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত পাস ধরে প্রথম স্পর্শেই বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এমবাপে।
দুই মিনিট পরেই সমতায় ফিরতে পারতো সেনেগাল। নিকোলাস জ্যাকসন বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে জালে পাঠালে উল্লাসে মেতে ওঠে সেনেগাল শিবির। তবে সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এরপর ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। আদ্রিয়ান রাবিওটের পাস থেকে বল পেয়ে ব্র্যাডলি বার্কোলা দারুণ দক্ষতায় গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান।
ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে ইব্রাহিম এমবায়ে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে এনে সেনেগালের আশা বাঁচিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু পরের মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এমবাপে। ফলে ৩-১ গোলের দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
২০০২ বিশ্বকাপের সেই দুঃসহ স্মৃতি আবারও উঁকি দিচ্ছিল ফরাসি শিবিরে। সেবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এসেও প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের কাছে হেরে আসর থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। দীর্ঘ বছর পর আবারও সেই সেনেগালের মুখোমুখি হয়ে প্রথমার্ধে যেভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ফরাসিরা, তাতে পুরনো অতীত মনে পড়তে বাধ্য। তবে এবার আর সেই অঘটনের পুনরাবৃত্তি হতে দেননি কিলিয়ান এমবাপে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে ফ্রান্স। প্রথমার্ধে সেনেগাল দুর্দান্ত খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় ফরাসিরা, যার ফলশ্রুতিতে ম্যাচের শেষ ১৪ মিনিটে দেখা যায় তিন তিনটি গোল।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিউ জার্সির মাঠে ফরাসিদের বেশ ছন্নছাড়া দেখিয়েছে। প্রথম ২০ মিনিটে জুতসই কোনো আক্রমণই করতে পারেনি তারা। উল্টো ২৫ মিনিটে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় ফ্রান্স। সেনেগালের ডিওফের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে জ্যাকসন কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ের শট নিলেও বল পোস্টে লেগে গোলরক্ষক মেইনানের গায়ে প্রতিহত হয়ে কর্নার হয়। ৪০ মিনিটে সাদিও মানের ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শট সহজেই লুফে নেন মেইনান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের মাঝে বল পেয়েও সেটি উপরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন মানে, যার ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর সম্পূর্ণ অন্য এক ফ্রান্সের দেখা মেলে। ৪৮ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন দায়ত উপামেকানো, তবে বল পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৫৪ মিনিটে মাইকেল ওলিসের চমৎকার চিপ শট কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন সেনেগাল গোলরক্ষক এডোয়ার্ড মেন্ডি। এর চার মিনিট পর এমবাপে গোলরক্ষককে একা পেয়েও মেন্ডির দুর্দান্ত পায়ের ট্যাকলে গোল করতে ব্যর্থ হন। ৬৪ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে অল্পের জন্য বলের নাগাল পাননি এমবাপে।
তবে গোল পেতে আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ৬৬ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত পাস ধরে প্রথম স্পর্শেই বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এমবাপে।
দুই মিনিট পরেই সমতায় ফিরতে পারতো সেনেগাল। নিকোলাস জ্যাকসন বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে জালে পাঠালে উল্লাসে মেতে ওঠে সেনেগাল শিবির। তবে সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এরপর ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। আদ্রিয়ান রাবিওটের পাস থেকে বল পেয়ে ব্র্যাডলি বার্কোলা দারুণ দক্ষতায় গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান।
ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে ইব্রাহিম এমবায়ে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে এনে সেনেগালের আশা বাঁচিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু পরের মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এমবাপে। ফলে ৩-১ গোলের দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।

আপনার মতামত লিখুন