সবুজ গাছপালা আর পাখির কলকাকলিতে ঘেরা নাটোরের লালপুরের গ্রীন ভ্যালি পার্ক। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত দুই রাশিয়ান নাগরিক একটু শান্তির খোঁজে এসেছিলেন এই বিনোদন কেন্দ্রে। কিন্তু প্রকৃতির সেই স্নিগ্ধতা মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কারণে। ‘টিকটক বন্ধু মিলন মেলা ২০২৬’-এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা কতিপয় বিকৃত মানসিকতার যুবকের হাতে চরম লাঞ্ছনার শিকার হন এই বিদেশী অতিথিরা। তবে পার পেয়ে যায়নি অপরাধীরা; পুলিশের দীর্ঘ ও নিখুঁত অনুসন্ধানের পর অবশেষে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে এই ঘটনার মূল হোতা মো. আকাশ।
টিকটকের
নামে পৈশাচিক উৎসব ও রূপপুরের অতিথিদের অবরুদ্ধ করার গল্প
গত ৮ মে লালচানপাড়া গ্রীন ভ্যালি পার্কে ‘মোহাম্মদ সাধু’ নামের এক কথিত টিকটকার মিলন মেলার ব্যানারে মাঠ ভাড়া নিয়েছিল। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শ’খানেক তরুণ-তরুণী সেখানে জড়ো হয়ে নাচ-গানের আসর বসায়। দুপুরের দিকে পার্কের ‘সন্ধ্যা মালতি’ পিকনিক স্পটের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন দুই রাশিয়ান নাগরিক। ঠিক তখনই ১০-১৫ জন ‘টিকটকার’ তাদের পথরোধ করে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে, অঙ্গভঙ্গি করে শুরু হয় চরম উত্যক্তকরণ।
বিদেশী নাগরিকরা বার বার হাতজোড়
করে চলে যেতে চাইলেও
কুলাঙ্গাররা তাদের গায়ে হাত তোলে
এবং মোটা অঙ্কের টাকা
দাবি করে। টাকা না
দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে পার্কের
ম্যানেজার এসএম ওয়াজেদুর রহমান
কর্মচারীদের নিয়ে ছুটে এসে
বিদেশী বন্ধুদের উদ্ধার করেন।
সোশ্যাল
মিডিয়ায় ঝড়
পরদিন
৯ মে ‘আমিনুল খান’
নামের একটি ফেসবুক আইডি
থেকে সেই লাঞ্ছনার ভিডিওটি
ভাইরাল করে দেওয়া হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই
বিদেশীদের ঘিরে ধরে অত্যন্ত
অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায়
হেনস্থা করা হচ্ছে। এই
ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিলে পার্কের
ম্যানেজার বাদী হয়ে লালপুর
থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের
করেন। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্লেষণ করে মূল আসামী
সিরাজগঞ্জ কলোনীর সেলিমের ছেলে আকাশকে শনাক্ত
করে।
অপরাধীদের
কোনো ছাড় নেই: পুলিশের কঠোর অবস্থান
ঘটনার পর থেকেই রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশ ও নাটোর জেলা পুলিশ অপরাধীদের ধরতে জাল বিছিয়েছিল। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, "ঘটনার পর থেকেই পুলিশ আসামিদের চিহ্নিত করতে তৎপর ছিল। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও পুলিশের হাতে রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি আকাশকে আদালত থেকে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং তার রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।"
মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, "ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত
ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত
অন্যদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায়
আনতে চেষ্টা চলছে।"
এই ঘটনার পর গ্রীন ভ্যালি
পার্কসহ নাটোরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলা
ও রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
সবুজ গাছপালা আর পাখির কলকাকলিতে ঘেরা নাটোরের লালপুরের গ্রীন ভ্যালি পার্ক। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত দুই রাশিয়ান নাগরিক একটু শান্তির খোঁজে এসেছিলেন এই বিনোদন কেন্দ্রে। কিন্তু প্রকৃতির সেই স্নিগ্ধতা মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কারণে। ‘টিকটক বন্ধু মিলন মেলা ২০২৬’-এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা কতিপয় বিকৃত মানসিকতার যুবকের হাতে চরম লাঞ্ছনার শিকার হন এই বিদেশী অতিথিরা। তবে পার পেয়ে যায়নি অপরাধীরা; পুলিশের দীর্ঘ ও নিখুঁত অনুসন্ধানের পর অবশেষে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে এই ঘটনার মূল হোতা মো. আকাশ।
টিকটকের
নামে পৈশাচিক উৎসব ও রূপপুরের অতিথিদের অবরুদ্ধ করার গল্প
গত ৮ মে লালচানপাড়া গ্রীন ভ্যালি পার্কে ‘মোহাম্মদ সাধু’ নামের এক কথিত টিকটকার মিলন মেলার ব্যানারে মাঠ ভাড়া নিয়েছিল। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শ’খানেক তরুণ-তরুণী সেখানে জড়ো হয়ে নাচ-গানের আসর বসায়। দুপুরের দিকে পার্কের ‘সন্ধ্যা মালতি’ পিকনিক স্পটের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন দুই রাশিয়ান নাগরিক। ঠিক তখনই ১০-১৫ জন ‘টিকটকার’ তাদের পথরোধ করে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে, অঙ্গভঙ্গি করে শুরু হয় চরম উত্যক্তকরণ।
বিদেশী নাগরিকরা বার বার হাতজোড়
করে চলে যেতে চাইলেও
কুলাঙ্গাররা তাদের গায়ে হাত তোলে
এবং মোটা অঙ্কের টাকা
দাবি করে। টাকা না
দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে পার্কের
ম্যানেজার এসএম ওয়াজেদুর রহমান
কর্মচারীদের নিয়ে ছুটে এসে
বিদেশী বন্ধুদের উদ্ধার করেন।
সোশ্যাল
মিডিয়ায় ঝড়
পরদিন
৯ মে ‘আমিনুল খান’
নামের একটি ফেসবুক আইডি
থেকে সেই লাঞ্ছনার ভিডিওটি
ভাইরাল করে দেওয়া হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই
বিদেশীদের ঘিরে ধরে অত্যন্ত
অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায়
হেনস্থা করা হচ্ছে। এই
ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিলে পার্কের
ম্যানেজার বাদী হয়ে লালপুর
থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের
করেন। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্লেষণ করে মূল আসামী
সিরাজগঞ্জ কলোনীর সেলিমের ছেলে আকাশকে শনাক্ত
করে।
অপরাধীদের
কোনো ছাড় নেই: পুলিশের কঠোর অবস্থান
ঘটনার পর থেকেই রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশ ও নাটোর জেলা পুলিশ অপরাধীদের ধরতে জাল বিছিয়েছিল। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, "ঘটনার পর থেকেই পুলিশ আসামিদের চিহ্নিত করতে তৎপর ছিল। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও পুলিশের হাতে রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি আকাশকে আদালত থেকে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং তার রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।"
মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, "ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত
ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত
অন্যদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায়
আনতে চেষ্টা চলছে।"
এই ঘটনার পর গ্রীন ভ্যালি
পার্কসহ নাটোরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলা
ও রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

আপনার মতামত লিখুন