গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত তিন দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ১০০ বসতভিটা ও ৩০০ একর ফসলি জমি। ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের। পানির তোড়ে ঘরবাড়ি রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, চন্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নে ভাঙন সবচেয়ে বেশি। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলে এসব এলাকার রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে। কাপাসিয়া ইউনিয়নের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষ দিশেহারা হয়ে রাতের আঁধারে বসতঘর সরিয়ে নিচ্ছেন। জিও ব্যাগ বা টিউব ফেলেও ভাঙন থামানো যাচ্ছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে এই উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার বসতভিটা, ৫০ কিলোমিটার রাস্তা ও ৩০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিবছর গড়ে ৩০০ হেক্টর ফসলি জমি বিলীন হওয়ায় কৃষকেরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তিস্তার চরাঞ্চল কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু স্থায়ী ভাঙন রোধ করা না গেলে কৃষকদের এই স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যাবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, নদী খনন, ড্রেজিং ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান জানান, তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার পাশাপাশি সাময়িকভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
/

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত তিন দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ১০০ বসতভিটা ও ৩০০ একর ফসলি জমি। ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের। পানির তোড়ে ঘরবাড়ি রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, চন্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নে ভাঙন সবচেয়ে বেশি। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলে এসব এলাকার রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে। কাপাসিয়া ইউনিয়নের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষ দিশেহারা হয়ে রাতের আঁধারে বসতঘর সরিয়ে নিচ্ছেন। জিও ব্যাগ বা টিউব ফেলেও ভাঙন থামানো যাচ্ছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে এই উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার বসতভিটা, ৫০ কিলোমিটার রাস্তা ও ৩০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিবছর গড়ে ৩০০ হেক্টর ফসলি জমি বিলীন হওয়ায় কৃষকেরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তিস্তার চরাঞ্চল কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু স্থায়ী ভাঙন রোধ করা না গেলে কৃষকদের এই স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যাবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, নদী খনন, ড্রেজিং ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান জানান, তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার পাশাপাশি সাময়িকভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
/

আপনার মতামত লিখুন