সুনামগঞ্জ জেলায় গত কয়েক দিন ধরে নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন ও রাতে সমানতালে চলা বিদ্যুতের এই বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। লোডশেডিংয়ের প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পে। এমনকি চলমান বিশ্বকাপের খেলা দেখার সময়ও বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বর্তমানে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা এবং উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। কোথাও কোথাও এই মাত্রা আরও বেশি। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জ পিডিবি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে দৈনিক ১২ থেকে সাড়ে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। ফলে পিডিবির ৯টি ফিডারের মধ্যে ৩ থেকে ৪টি পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ ভাগ করে সরবরাহ করায় ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসিন্দা জিলানী মিয়া জানান, গ্রামাঞ্চলে দিনে গড়ে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়বে। শহরের বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাসির বলেন, "গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ঘুমানো যায় না, শিশুদের পড়াশোনাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।"
এদিকে, সীমাহীন এই ভোগান্তির প্রতিবাদে ১৮ জুন সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের সামনে হারিকেন হাতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। মানববন্ধনে আম্মার হোসেন নামের এক গ্রাহক বলেন, "এই যুগে হারিকেন জ্বালিয়ে কাজ করতে হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।"
সুনামগঞ্জ ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবিএম জাকির হোসেন পারভেজ জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য এখন লাটে ওঠার উপক্রম। সুনামগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমদ জানান, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
সুনামগঞ্জ জেলায় গত কয়েক দিন ধরে নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন ও রাতে সমানতালে চলা বিদ্যুতের এই বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। লোডশেডিংয়ের প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পে। এমনকি চলমান বিশ্বকাপের খেলা দেখার সময়ও বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বর্তমানে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা এবং উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। কোথাও কোথাও এই মাত্রা আরও বেশি। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জ পিডিবি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে দৈনিক ১২ থেকে সাড়ে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। ফলে পিডিবির ৯টি ফিডারের মধ্যে ৩ থেকে ৪টি পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ ভাগ করে সরবরাহ করায় ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসিন্দা জিলানী মিয়া জানান, গ্রামাঞ্চলে দিনে গড়ে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়বে। শহরের বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাসির বলেন, "গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ঘুমানো যায় না, শিশুদের পড়াশোনাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।"
এদিকে, সীমাহীন এই ভোগান্তির প্রতিবাদে ১৮ জুন সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের সামনে হারিকেন হাতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। মানববন্ধনে আম্মার হোসেন নামের এক গ্রাহক বলেন, "এই যুগে হারিকেন জ্বালিয়ে কাজ করতে হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।"
সুনামগঞ্জ ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবিএম জাকির হোসেন পারভেজ জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য এখন লাটে ওঠার উপক্রম। সুনামগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমদ জানান, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন