সংবাদ

ফুলছড়া চা বাগান মাঠে চলছে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’


আনোয়ারুল ইসলাম জাবেদ, মৌলভীবাজার
আনোয়ারুল ইসলাম জাবেদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

ফুলছড়া চা বাগান মাঠে চলছে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’
মৌলভীবাজারের খাসিয়া সম্প্রদায়ের সাস্কৃতিক ঐতিহ্য খাসি নৃত্যের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। -সংবাদ

‘বর্ণিল জীবন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন’- এই প্রতিপাদ্যে পর্যটন শিল্পে পণ্য উন্নয়ন ও প্রচারের অংশ হিসেবে পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে চলছে ৩দিন ব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল। আজ শনিবার (২০ জুন) দ্বিতীয় দিন।

শুক্রবার (১৯ জুন) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে শুরু হওয়া এ ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-উৎসব আগামী ২১ জুন পর্যন্ত এ উৎসব চলবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে তিন দিনব্যাপী ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধনী করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর বিলুপ্তপ্রায় ও বৈচিত্রময় সংস্কৃতির পুনরুদ্ধার এবং টেকসই রূপদানের লক্ষ্যে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’-এর আয়োজন করেছে। এতে মৌলভীবাজার জেলায় বসবাসকারি নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, পণ্য ও বৈচিত্রময় সংস্কৃতি উপস্থাপন করবে।

উদ্বোধনী দিনে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জিতে বসবাসকারি খাসিয়া সম্প্রদানের সাস্কৃতিক ঐতিহ্য খাসি নৃত্যের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। এরপর একে একে ত্রিপুড়া জনগগোষ্টি নিজস্ব সংস্কৃতির উপস্থাপনা পরিবেশন করেন। সিলেট ধামাই পরিবেশ করে স্থানীয় শিল্পীরা। সাওতাল, চা শ্রমিক, মনিপুরীসহ বিভিন্ন নৃ-তাত্বিক জনগোষ্টি পরিবেশন করে নিজস্ব সংস্কৃতির পরিবেশনা।

অনষ্ঠান চলে সন্ধ্যা অবদি। শনিবার দিনভর নানা পরিবেশনার পর আগামিকাল শেষ হবে এ আয়োজন। এতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি মনিপুরী তাতের শাড়ী, নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্টির ব্যবহার্য্য নানা ধরণের সৌখিন পণ এবং খাবার উপস্থাপন করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির সংস্কৃতিকে পর্যটন সম্পদে পরিনত করা হবে। নৃ-গোষ্ঠির জনগোষ্ঠির সংস্কৃতিক বাংলাদেশেরও সংস্কৃতি।

‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল’ কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য মিলনমেলা।  

পর্যটন মন্ত্রী আরো বলেন, ট্যুরিজম উন্নয়নের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যার অন্যতম অগ্রাধিকারে রয়েছে সিলেট। সিলেটকে পর্যটনের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এলক্ষ্যে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেটের পর্যটন খাত, যোগাযোগ ও বিমানবন্দর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। 

তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। - সংবাদ

উল্লেখ্য, এবারের হারমোনি ফেস্টিভ্যালে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ২৭টি নৃ তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বৈচিত্রময় জীবন, সাংস্কৃতিক, ভাষা, ঐতিহ্য, খাবার, নৃত্য ও শৈল্পিক কারু কাজ প্রদর্শন করবে। 

উদ্বোধনের পরপর বিভিন্ন নৃ-গোষ্টি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশ করে। এতে স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাসিয়া, মনিপুরী, গারো, ত্রিপুরা, উরাও, বুনারজি, শবর, গঞ্জু, কড়া, গৌড়, তেলেগু, রবিদাসসহ ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য, খাবার, উৎপাদিত পণ্য এবং কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকার অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


ফুলছড়া চা বাগান মাঠে চলছে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

‘বর্ণিল জীবন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন’- এই প্রতিপাদ্যে পর্যটন শিল্পে পণ্য উন্নয়ন ও প্রচারের অংশ হিসেবে পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে চলছে ৩দিন ব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল। আজ শনিবার (২০ জুন) দ্বিতীয় দিন।

শুক্রবার (১৯ জুন) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে শুরু হওয়া এ ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-উৎসব আগামী ২১ জুন পর্যন্ত এ উৎসব চলবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে তিন দিনব্যাপী ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধনী করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর বিলুপ্তপ্রায় ও বৈচিত্রময় সংস্কৃতির পুনরুদ্ধার এবং টেকসই রূপদানের লক্ষ্যে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’-এর আয়োজন করেছে। এতে মৌলভীবাজার জেলায় বসবাসকারি নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, পণ্য ও বৈচিত্রময় সংস্কৃতি উপস্থাপন করবে।

উদ্বোধনী দিনে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জিতে বসবাসকারি খাসিয়া সম্প্রদানের সাস্কৃতিক ঐতিহ্য খাসি নৃত্যের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। এরপর একে একে ত্রিপুড়া জনগগোষ্টি নিজস্ব সংস্কৃতির উপস্থাপনা পরিবেশন করেন। সিলেট ধামাই পরিবেশ করে স্থানীয় শিল্পীরা। সাওতাল, চা শ্রমিক, মনিপুরীসহ বিভিন্ন নৃ-তাত্বিক জনগোষ্টি পরিবেশন করে নিজস্ব সংস্কৃতির পরিবেশনা।

অনষ্ঠান চলে সন্ধ্যা অবদি। শনিবার দিনভর নানা পরিবেশনার পর আগামিকাল শেষ হবে এ আয়োজন। এতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি মনিপুরী তাতের শাড়ী, নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্টির ব্যবহার্য্য নানা ধরণের সৌখিন পণ এবং খাবার উপস্থাপন করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির সংস্কৃতিকে পর্যটন সম্পদে পরিনত করা হবে। নৃ-গোষ্ঠির জনগোষ্ঠির সংস্কৃতিক বাংলাদেশেরও সংস্কৃতি।

‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল’ কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য মিলনমেলা।  

পর্যটন মন্ত্রী আরো বলেন, ট্যুরিজম উন্নয়নের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যার অন্যতম অগ্রাধিকারে রয়েছে সিলেট। সিলেটকে পর্যটনের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এলক্ষ্যে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেটের পর্যটন খাত, যোগাযোগ ও বিমানবন্দর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। 

তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। - সংবাদ

উল্লেখ্য, এবারের হারমোনি ফেস্টিভ্যালে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ২৭টি নৃ তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বৈচিত্রময় জীবন, সাংস্কৃতিক, ভাষা, ঐতিহ্য, খাবার, নৃত্য ও শৈল্পিক কারু কাজ প্রদর্শন করবে। 

উদ্বোধনের পরপর বিভিন্ন নৃ-গোষ্টি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশ করে। এতে স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাসিয়া, মনিপুরী, গারো, ত্রিপুরা, উরাও, বুনারজি, শবর, গঞ্জু, কড়া, গৌড়, তেলেগু, রবিদাসসহ ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য, খাবার, উৎপাদিত পণ্য এবং কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকার অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত