গত শুক্রবার স্থগিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত সরাসরি আলোচনা অবশেষে আজ রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে যাচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঐতিহাসিক এই আলোচনায় যোগ দিতে ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস
প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে
অবতরণ করেছেন। অন্যদিকে ইরানের আলোচক দলও সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে পৌঁছে গেছে বলে
নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
এর আগে শনিবার
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেন যে, পার্লামেন্ট
স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং অন্য ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডের পথে রওনা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন তিনি এই
সফরে মাত্র এক বা দুইদিন থাকতে পারবেন। তবে সংক্ষিপ্ত এই সফরেই লেবানন যুদ্ধবিরতি ও
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আজ রোববারের
এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে কারিগরি পর্যায়ের
আলোচনা শুরু হবে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে উভয়পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)
স্বাক্ষর করেছে, যেখানে লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান’ স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা
দেওয়া হয়েছে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয়পক্ষকে একটি চূড়ান্ত
চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে; তবে প্রয়োজনে দুই পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে
পারে।
সমঝোতা স্মারক
স্বাক্ষরের পর দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনাটা বেশ কঠিন প্রমাণিত হয়েছে। মূলত লেবাননে
ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা অব্যাহত থাকার কারণে ইরান তাদের প্রতিনিধি দল না পাঠানোয় শুক্রবারের
নির্ধারিত আলোচনাটি পিছিয়ে যায়।
যদিও শুক্রবার
ইসরায়েল হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, তা সত্ত্বেও লেবাননে
তাদের হামলা শনিবার পর্যন্ত চলেছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের
তথ্য অনুযায়ী, শনিববারের হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছে। এর আগে শুধু শুক্রবারই ইসরায়েলি
হামলায় ৮৩ জন নিহত এবং ১৪১ জন আহত হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
পাকিস্তানের
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার সফলতায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির এবং কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা রবিবার
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে এই বৈঠকে যোগ দেবেন।
আন্তর্জাতিক
গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক
তৎপরতা চলছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল থানি
এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসহাক দার মিশরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি
ইরান সফর করেছেন।
আলোচনা শুরু
হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুযায়ী
পুরোপুরি কাজ না করা পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা কম।
ইরানের আইআরআইবিতে
সম্প্রচারিত এক মন্তব্যে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের ‘প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার’
নজির বিবেচনা করে, এবার ইরানকে অবশ্যই নিজের অধিকার ও তাদের দায়িত্ব পালনের দাবিতে
খুব দৃঢ় ও কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
গত শুক্রবার স্থগিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত সরাসরি আলোচনা অবশেষে আজ রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে যাচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঐতিহাসিক এই আলোচনায় যোগ দিতে ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস
প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে
অবতরণ করেছেন। অন্যদিকে ইরানের আলোচক দলও সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে পৌঁছে গেছে বলে
নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
এর আগে শনিবার
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেন যে, পার্লামেন্ট
স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং অন্য ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডের পথে রওনা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন তিনি এই
সফরে মাত্র এক বা দুইদিন থাকতে পারবেন। তবে সংক্ষিপ্ত এই সফরেই লেবানন যুদ্ধবিরতি ও
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আজ রোববারের
এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে কারিগরি পর্যায়ের
আলোচনা শুরু হবে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে উভয়পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)
স্বাক্ষর করেছে, যেখানে লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান’ স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা
দেওয়া হয়েছে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয়পক্ষকে একটি চূড়ান্ত
চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে; তবে প্রয়োজনে দুই পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে
পারে।
সমঝোতা স্মারক
স্বাক্ষরের পর দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনাটা বেশ কঠিন প্রমাণিত হয়েছে। মূলত লেবাননে
ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা অব্যাহত থাকার কারণে ইরান তাদের প্রতিনিধি দল না পাঠানোয় শুক্রবারের
নির্ধারিত আলোচনাটি পিছিয়ে যায়।
যদিও শুক্রবার
ইসরায়েল হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, তা সত্ত্বেও লেবাননে
তাদের হামলা শনিবার পর্যন্ত চলেছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের
তথ্য অনুযায়ী, শনিববারের হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছে। এর আগে শুধু শুক্রবারই ইসরায়েলি
হামলায় ৮৩ জন নিহত এবং ১৪১ জন আহত হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
পাকিস্তানের
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার সফলতায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির এবং কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা রবিবার
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে এই বৈঠকে যোগ দেবেন।
আন্তর্জাতিক
গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক
তৎপরতা চলছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল থানি
এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসহাক দার মিশরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি
ইরান সফর করেছেন।
আলোচনা শুরু
হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুযায়ী
পুরোপুরি কাজ না করা পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা কম।
ইরানের আইআরআইবিতে
সম্প্রচারিত এক মন্তব্যে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের ‘প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার’
নজির বিবেচনা করে, এবার ইরানকে অবশ্যই নিজের অধিকার ও তাদের দায়িত্ব পালনের দাবিতে
খুব দৃঢ় ও কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন