সংবাদ

ক্লোসেকে ছুঁলেন এমবাপে, বজ্রবৃষ্টি উপেক্ষা করে নকআউটে ফ্রান্স


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০২ এএম

ক্লোসেকে ছুঁলেন এমবাপে, বজ্রবৃষ্টি উপেক্ষা করে নকআউটে ফ্রান্স

​চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সাথে সর্বোচ্চ গোলের লড়াইয়ে দারুণভাবে টিকে রইলেন কিলিয়ান এমবাপে। দুই ম্যাচে মেসি করেছেন ৫ গোল, আর এমবাপের ঝুলিতে এখন ৪ গোল।

ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ইরাকের বিপক্ষে অনবদ্য এক জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ‘আই’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে ইতিহাস গড়া জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে এবং ফরাসীদের হয়ে বাকি গোলটি করেছেন ওসমান ডেম্বেলে। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে এমবাপে বিশ্বকাপে ১৬টি গোল করে স্পর্শ করেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে। যেখানে ১৬ গোল করতে মেসি খেলেছেন ২৭ ম্যাচ, সেখানে এমবাপে এই কীর্তি গড়লেন মাত্র ১৬ ম্যাচেই।
​ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর মাঠে হানা দেয় প্রবল বজ্রবৃষ্টি। আর এই খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন আয়োজকরা। তবে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
প্রথমার্ধের ১৪তম মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক বাঁ-পায়ের শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ১৫তম গোল। পিছিয়ে পড়ে প্রথমার্ধে সাহসী ফুটবল খেললেও জালের দেখা পায়নি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক।
​দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে ইরাক।
কিন্তু ম্যাচের ৫৪ মিনিটে নিজেদের রক্ষণভাগের এক ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে বসে তারা। ডিফেন্ডারদের ছোট পাসে গোলরক্ষক জালাল হাসান বাসিল চাপে পড়ে বল হারিয়ে ফেললে সেই সুযোগ কাজে লাগান ফরাসিরা। ওসমান দেম্বেলের নিখুঁত পাস থেকে সহজেই নিজের দ্বিতীয় ও দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। এই গোলের মাধ্যমেই তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসের সমান উচ্চতায় পৌঁছান।
​দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর ফরাসিদের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ৫৮ মিনিটে অলিসের চিপ করা শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে এবং এর পরের মিনিটে দেম্বেলের একটি জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন ইরাকের গোলরক্ষক বাসিল।
তবে ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি ইরাকের। অলিসের চমৎকার পাসে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শটে গোল নিশ্চিত করেন ওসমান দেম্বেলে। আন্তর্জাতিক বড় কোনো টুর্নামেন্টে এটিই ছিল পিএসজি তারকার প্রথম গোল, আর এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে নিজের তৃতীয় অ্যাসিস্ট পূরণ করেন অলিসে।
​ম্যাচের শেষ দিকে এমবাপের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এলেও কয়েকটি প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮০ মিনিটে তিনি পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। অন্যদিকে ইরাকও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। ৭৬ মিনিটে আলি আল হামাদির একটি দারুণ শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় ইরাকের।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতে থাকায় শেষদিকে কোচ দেশমে বারকোলা, অলিসে, দেম্বেলে, কুন্দে এবং এমবাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের তুলে নিয়ে রায়ান চেরকি, দেজিরে দুয়ে, মাগনেস আকলিউশ, মালো গুস্তো এবং মার্কাস থুরামকে মাঠে নামান। অতিরিক্ত সময়ে এমবাপে আরও একটি সহজ সুযোগ পেয়েও শট উড়িয়ে মারায় হ্যাটট্রিক ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


ক্লোসেকে ছুঁলেন এমবাপে, বজ্রবৃষ্টি উপেক্ষা করে নকআউটে ফ্রান্স

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

​চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সাথে সর্বোচ্চ গোলের লড়াইয়ে দারুণভাবে টিকে রইলেন কিলিয়ান এমবাপে। দুই ম্যাচে মেসি করেছেন ৫ গোল, আর এমবাপের ঝুলিতে এখন ৪ গোল।

ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ইরাকের বিপক্ষে অনবদ্য এক জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ‘আই’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে ইতিহাস গড়া জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে এবং ফরাসীদের হয়ে বাকি গোলটি করেছেন ওসমান ডেম্বেলে। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে এমবাপে বিশ্বকাপে ১৬টি গোল করে স্পর্শ করেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে। যেখানে ১৬ গোল করতে মেসি খেলেছেন ২৭ ম্যাচ, সেখানে এমবাপে এই কীর্তি গড়লেন মাত্র ১৬ ম্যাচেই।
​ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর মাঠে হানা দেয় প্রবল বজ্রবৃষ্টি। আর এই খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন আয়োজকরা। তবে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
প্রথমার্ধের ১৪তম মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক বাঁ-পায়ের শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ১৫তম গোল। পিছিয়ে পড়ে প্রথমার্ধে সাহসী ফুটবল খেললেও জালের দেখা পায়নি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক।
​দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে ইরাক।
কিন্তু ম্যাচের ৫৪ মিনিটে নিজেদের রক্ষণভাগের এক ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে বসে তারা। ডিফেন্ডারদের ছোট পাসে গোলরক্ষক জালাল হাসান বাসিল চাপে পড়ে বল হারিয়ে ফেললে সেই সুযোগ কাজে লাগান ফরাসিরা। ওসমান দেম্বেলের নিখুঁত পাস থেকে সহজেই নিজের দ্বিতীয় ও দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। এই গোলের মাধ্যমেই তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসের সমান উচ্চতায় পৌঁছান।
​দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর ফরাসিদের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ৫৮ মিনিটে অলিসের চিপ করা শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে এবং এর পরের মিনিটে দেম্বেলের একটি জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন ইরাকের গোলরক্ষক বাসিল।
তবে ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি ইরাকের। অলিসের চমৎকার পাসে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শটে গোল নিশ্চিত করেন ওসমান দেম্বেলে। আন্তর্জাতিক বড় কোনো টুর্নামেন্টে এটিই ছিল পিএসজি তারকার প্রথম গোল, আর এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে নিজের তৃতীয় অ্যাসিস্ট পূরণ করেন অলিসে।
​ম্যাচের শেষ দিকে এমবাপের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এলেও কয়েকটি প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮০ মিনিটে তিনি পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। অন্যদিকে ইরাকও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। ৭৬ মিনিটে আলি আল হামাদির একটি দারুণ শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় ইরাকের।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতে থাকায় শেষদিকে কোচ দেশমে বারকোলা, অলিসে, দেম্বেলে, কুন্দে এবং এমবাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের তুলে নিয়ে রায়ান চেরকি, দেজিরে দুয়ে, মাগনেস আকলিউশ, মালো গুস্তো এবং মার্কাস থুরামকে মাঠে নামান। অতিরিক্ত সময়ে এমবাপে আরও একটি সহজ সুযোগ পেয়েও শট উড়িয়ে মারায় হ্যাটট্রিক ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত