সংবাদ

বাংলাদেশ-মায়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব বেইজিংয়ের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

বাংলাদেশ-মায়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব বেইজিংয়ের

​বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি নতুন অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

​দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

​মুখপাত্র বলেন, “আজকে কানেক্টিভিটি নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি ইকোনোমিক করিডোর তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এই করিডোরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো, বাণিজ্যের লেনদেন বৃদ্ধি এবং মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশনকে (বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা) আরও গতিশীল করা।”

​চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে চীন গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন করে এটিকে কীভাবে একটি রিজিওনাল হাব (আঞ্চলিক কেন্দ্র) হিসেবে গড়ে তোলা যায় যা শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্য দেশগুলোর জন্যও কার্যকর হবে তা নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। একই সাথে মোংলা পোর্টকে আপগ্রেড, আরও বেশি প্রোগ্রেসিভ ও সার্ভিস ওরিয়েন্টেড করার জন্য চীন আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা এগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।”

​চীন সফরের শেষ দিন শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

​মাহদী আমিন আরও জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল টু পিপল (জনগণের সাথে জনগণের) যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংস্কৃতি, মিডিয়া, টেকনোলজি, সামগ্রিকভাবে নলেজ ট্রান্সফার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায় উভয় পক্ষ।

​শিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন (চীনা ভাষা) চর্চাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই দুই ক্ষেত্রেই চীন তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়। বিশেষ করে চীনা ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে তারা আমাদের শিক্ষক এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল সাপোর্ট (অবকাঠামোগত সহায়তা) দেবে।”

​চিকিৎসা ও ভিসা প্রসেসিং সহজীকরণের বিষয়ে মাহদী আমিন জানান, হেলথকেয়ারের ক্ষেত্রে কীভাবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, বিশেষ করে রোবোটিক সার্জারি এবং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান, তাই চীন ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করে বাংলাদেশিদের জন্য তাদের দ্বার উন্মোচন করতে ইচ্ছুক।

​রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীন পাশে থাকবে উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, “রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান খুব স্পষ্ট। আমরা তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চাই। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সাথে কোনো সংলাপের প্রয়োজন হলে চীন আমাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের একটি আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বোঝাপড়া) হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত ভিত্তিতে ডায়লগ (আলোচনা) শুরু হবে। এ নিয়ে বিস্তারিত ওয়ার্কআউট করা হচ্ছে।”

​সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬


বাংলাদেশ-মায়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব বেইজিংয়ের

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

​বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি নতুন অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

​দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

​মুখপাত্র বলেন, “আজকে কানেক্টিভিটি নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি ইকোনোমিক করিডোর তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এই করিডোরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো, বাণিজ্যের লেনদেন বৃদ্ধি এবং মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশনকে (বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা) আরও গতিশীল করা।”

​চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে চীন গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন করে এটিকে কীভাবে একটি রিজিওনাল হাব (আঞ্চলিক কেন্দ্র) হিসেবে গড়ে তোলা যায় যা শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্য দেশগুলোর জন্যও কার্যকর হবে তা নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। একই সাথে মোংলা পোর্টকে আপগ্রেড, আরও বেশি প্রোগ্রেসিভ ও সার্ভিস ওরিয়েন্টেড করার জন্য চীন আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা এগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।”

​চীন সফরের শেষ দিন শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

​মাহদী আমিন আরও জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল টু পিপল (জনগণের সাথে জনগণের) যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংস্কৃতি, মিডিয়া, টেকনোলজি, সামগ্রিকভাবে নলেজ ট্রান্সফার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায় উভয় পক্ষ।

​শিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন (চীনা ভাষা) চর্চাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই দুই ক্ষেত্রেই চীন তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়। বিশেষ করে চীনা ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে তারা আমাদের শিক্ষক এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল সাপোর্ট (অবকাঠামোগত সহায়তা) দেবে।”

​চিকিৎসা ও ভিসা প্রসেসিং সহজীকরণের বিষয়ে মাহদী আমিন জানান, হেলথকেয়ারের ক্ষেত্রে কীভাবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, বিশেষ করে রোবোটিক সার্জারি এবং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান, তাই চীন ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করে বাংলাদেশিদের জন্য তাদের দ্বার উন্মোচন করতে ইচ্ছুক।

​রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীন পাশে থাকবে উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, “রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান খুব স্পষ্ট। আমরা তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চাই। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সাথে কোনো সংলাপের প্রয়োজন হলে চীন আমাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের একটি আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বোঝাপড়া) হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত ভিত্তিতে ডায়লগ (আলোচনা) শুরু হবে। এ নিয়ে বিস্তারিত ওয়ার্কআউট করা হচ্ছে।”

​সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত