অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার। দ্বিতীয় শ্রেণির ছোট্ট শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় মিলেছে সর্বোচ্চ বিচার। রাজধানী পল্লবীর সেই নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার—উভয়কেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার ঠিক বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই নিজেদের সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ শোনেন ঘাতক দম্পতি। আদালতের এজলাসে তখন পিনপতন নীরবতা। রায় শোনার পরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা। বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন স্বজনেরা। তবে ঘাতকদের এই সর্বোচ্চ শান্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে, দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা। হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চূড়ান্ত রায়—গোটা প্রক্রিয়াটি শেষ হয়েছে মাত্র ১৯ দিনে! যা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও দ্রুততম রেকর্ডের সৃষ্টি করেছে। গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় আট বছরের রামিসার খণ্ডিত মরদেহ। ২০ মে দায়ের হয় মামলা, আর এর মাত্র ৫ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। ১ জুন চার্জগঠনের পর, মাত্র একদিনেই ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। আর আজ ৭ জুন, মামলা দায়েরের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এলো এই ঐতিহাসিক রায়। আইনজীবীরা বলছেন, এই রায় সমাজের অপরাধীদের জন্য এক কঠোর বার্তা।