সংবাদ

আর্কাইভ দেখুন

চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবারের ঈদ-আনন্দ

চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবারের ঈদ-আনন্দ

চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের জন্য এবারের ঈদ ছিল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন দুপুরে সেখানে গিয়ে সস্ত্রীক শিশুদের পাশে দাঁড়ান চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। শিশুদের হাতে তুলে দেন নতুন উপহার। ছিল উন্নত মানের খাবারের আয়োজন।রোজার মধ্যেই নতুন জামা পেয়ে শিশুরা আগেভাগেই ঈদের আনন্দ অনুভব করে। সেই আনন্দ আজ পেয়েছে পূর্ণতা। দুপুর গড়াতেই সবাই একসঙ্গে বসে পোলাও-মাংসসহ নানা পদের খাবার খায়।শিশু পরিবারের কয়েকজন শিশু জানায়, নতুন পোশাক পরে তারা আনন্দ করেছে, ভালো খাবার খেয়েছে। তবু ঈদের দিনে বাবা-মায়ের কথা মনে পড়েছে বারবার।চুয়াডাঙ্গা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আইনাল হক জানান, বিশেষ দিনগুলোতে শিশুদের জন্য বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এভাবে কাছে এসে সময় দেওয়াটা তাদের জন্য আলাদা এক আনন্দ তৈরি করেছে।চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। সবার জন্য আনন্দ-খুশির দিন। আজ এই খুশির দিনে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য এসেছি।’তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষ এতিম শিশুদের ভালোভাবে দেখভাল করছে। এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন।এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক রোম্মানা বিলকিসসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


 জামালপুরে ভাসমান সেতু ভেঙে নিহত বেড়ে ৫

জামালপুরে ভাসমান সেতু ভেঙে নিহত বেড়ে ৫

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান ড্রাম সেতু ভেঙে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই শিশু।ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) বিকালে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ওই সেতু ধসে পড়ে। এর আগে থানার সামনে থাকা ওই সেতুতে ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ উঠলে এটি ভেঙে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।দেওয়ানগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহামদ জানান, থানার সামনে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ভাসমান ড্রাম সেতুটির মাঝামাঝি অংশে লোক সমাগম ছিল অস্বাভাবিক। একপর্যায়ে সেটি ভেঙে নদীতে শতাধিক মানুষ ডুবে যান। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পাঁচ শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়।নিহত ব্যক্তিরা হলেন—দেওয়ানগঞ্জের ডাকাতিয়াপাড়ার জয়নাল আবেদীনের পুত্র নিহাদ ও কন্যা মায়ামনি, ঝালুরচরের শের আলীর কন্যা খাদিজা আক্তার ও পুত্র মোতালেব হোসেন এবং দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার বেলতলীর হাবিবুল্লাহর পুত্র আবির হোসেন।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং দুর্ঘটনাস্থলে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


ব্রহ্মপুত্রে ব্রিজ ভেঙে প্রাণ হারালো দুই সহোদরসহ ৪ শিশু

ব্রহ্মপুত্রে ব্রিজ ভেঙে প্রাণ হারালো দুই সহোদরসহ ৪ শিশু

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনে মেতে থাকা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ বাসীদের ওপর এক মর্মান্তিক শোকের ছায়া নেমে এসেছে।জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ভাসমান ড্রাম সেতু ভেঙে দুই সহোদারসহ ৪ শিশু মারা গেছে। নিখোঁজ আছে আরো অন্তত ৬ জন।শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর থাকা একটি ড্রাম ব্রিজ অতিরিক্ত মানুষের চাপে ভেঙে পড়লে শতাধিক দর্শনার্থী অথৈ পানিতে পড়ে যান।ঈদের দিনে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকার উৎসবের আমেজ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে।​নিহত শিশুরা হলো: দেওয়ানগঞ্জ থানার কালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬) ও মেয়ে খাদিজা আক্তার (১২), ডাকাতিয়াপাড়ার জয়নালের মেয়ে মায়ামনি (১০) এবং বেলতলীর হাবিবুল্লাহর পুত্র আবির হোসেন। দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি মুনসুর আহামদ জানান, থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান ড্রাম সেতুর ওপর ধারন ক্ষমতার বেশি মানুষ উঠে। ভাসমান সেতুর মাঝে ভেঙে নদে ডুবে যায় বেশ কয়েকজন শিশু। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাত ৮ টা পর্যন্ত ৪ শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতি বছর ঈদের দিনে এই ড্রাম ব্রিজ ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও আজ বিকেলের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে না পেরে তা মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে গেলে চারদিকে হাহাকার শুরু হয়। অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কোমলমতি শিশুরা পানির স্রোতে ভেসে যায়। ​দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এখনো দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে এবং তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসায় উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও ব্রহ্মপুত্রের বুকে নিখোঁজ সন্তানদের সন্ধানে স্বজনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে দেওয়ানগঞ্জের আকাশ-বাতাস।


শ্রীমঙ্গলে চা বাগান আর অরণ্যের স্নিগ্ধতায় মাতল পর্যটকরা

শ্রীমঙ্গলে চা বাগান আর অরণ্যের স্নিগ্ধতায় মাতল পর্যটকরা

মৌলভীবাজার জেলায় চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় ঈদের দিন বিকেলে ব্যাপক পর্যটকের উপস্থিতি দেখা গেছে।শ্রীমঙ্গলের পর্যটন এলাকা ভানুগাছ রোড অভিমুখে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতির কারণে ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে তীব্র যানজট ও জনজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্যটকবাহী যানবাহন আটকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরী পর্যটক শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভানুগাছ সড়কের ৭১-এর বধ্যভূমি, পার্শ্ববর্তী চা বাগান এবং লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ভিড় করেন। অনেকে এ সময় গাড়িতে মাইক লাগিয়ে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে উল্লাস করেন।এছাড়া ‘চান্দের গাড়ি’ খ্যাত হুডখোলা জিপে সঙ্গীদের নিয়ে নেচে-গেয়ে উল্লাস করে ঈদ উদযাপন করতে দেখা গেছে। বিপুল সংখ্যক কিশোর-যুবক এক মোটরসাইকেলে তিনজন, এমনকি চারজন করে চড়ে হর্ন বাজিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সড়ক দিয়ে ছুটে চলে উল্লাস করেন।এছাড়া জেলার বাইরে—বিশেষত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পর্যটকরা অরণ্য ও চা বাগানের স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে বের হন। ফলে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার অন্তত পাঁচটি স্পটে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে।আগত পর্যটকদের বহনকারী যানবাহনের চাপে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সামনে থেকে ভানুগাছ রোডের বধ্যভূমি এলাকা পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই রাস্তাটুকু পাড়ি দিতে অন্তত ঘণ্টাখানেক সময় কেটে যায়। বধ্যভূমি থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গেট পর্যন্ত যানবাহনের তীব্র চাপ থাকায় এ রাস্তা দিয়ে ধীর গতিতে যানবাহন চলাচল করতে হয়।স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, আগামীকাল রোববার সরকারি ছুটি থাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি অন্তত দ্বিগুণেরও বেশি হবে। ছুটির দিনে ট্রাফিক পুলিশ ও পর্যটন পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।


সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে জমজমাট ঈদ আয়োজন

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে জমজমাট ঈদ আয়োজন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিলেট মেট্রোপলিটন কারাগারে বন্দিদের মধ্যে ঈদের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটায় কারাভ্যন্তরে ঈদের জামাত শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বন্দিদের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন।বন্দিদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সকালে পায়েস-মুড়ি, দুপুরে পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, সালাদ, চমচম ও কোমল পানীয় দেওয়া হয়।এছাড়া পান-সুপারি-চুনের ব্যবস্থা ছিল। গরুর মাংসে অভ্যস্ত নন—এমন বন্দিদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা করা হয়। রাতে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা দেওয়া হয়।অন্যদিকে আগন্তুক দর্শনার্থীদের জন্য ওয়েলকাম ড্রিংকের ব্যবস্থা করা হয়। দুস্থ ও অসহায় দর্শনার্থী মহিলাদের জন্য শাড়ি এবং পুরুষদের জন্য লুঙ্গি, পান-সুপারি-চুন ও সুগন্ধিযুক্ত মসলা দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য চকলেট ও বেলুন প্রদান করা হয়। দর্শনার্থীদের সচেতন করতে প্রথম কারা মহাপরিদর্শকের বাণীসম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়।বন্দিদের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য ব্যতিক্রমী হাঁড়িভাঙা খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। বিজয়ী প্রতিযোগীকে ডেইরি মিল্ক চকলেট উপহার দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে আগত দর্শনার্থীরা খুবই আনন্দিত হন।কারা মহাপরিদর্শকের ঈদ উপহার হিসেবে বন্দিদের টেলিফোন ও সাক্ষাৎ সুবিধা প্রদান করা হয়। এছাড়া একদিন বাড়ির রান্না করা খাবার আনার অনুমতি দেওয়া হয়। ঈদের দিন মহিলা বন্দিদের সাজসজ্জার জন্য মেহেদি, চুড়ি, আলতা ও স্নো প্রদান করা হয়।কারাভ্যন্তর ও বাহিরের পরিবেশ বেলুন ও ‘ঈদ মোবারক’ ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়। এটি দেখে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা খুবই আনন্দিত হন এবং আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।অন্যদিকে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কারা জামে মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়। তাদের জন্য সকালে সেমাই-মুড়ি, দুপুরে পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির রোস্টের ব্যবস্থা করা হয়। গরুর মাংসে অভ্যস্ত নন—এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য খাসির মাংস দেওয়া হয়। রাতে সাদা ভাত, মুরগির ঝাল তরকারি, মুগ ডাল ও মিষ্টি প্রদান করা হয়।


নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার   ​

নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার ​

ঈদের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক জনকল্যাণমুখী ও প্রতিশ্রুতিশীল বার্তা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলো সুনিশ্চিত করা। দেশকে উন্নয়নের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে দিতে সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। ​বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, জনগণ এক আকাশসম প্রত্যাশা নিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে জনগণের সেই লালিত আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও সরকার দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করে ব‌লেন, ইতোমধ্যেই নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে সরকার সফল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। শ‌নিবার ​সিলেটের এই প্রধান ঈদ জামাতে বাণিজ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ অন‌্যান‌্যরা। পবিত্র এই ঈদের দিনে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই সরকারের পরবর্তী দিনগুলোর প্রধান অগ্রাধিকার হবে বলে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


ঈদের দিন বেড়াতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত

ঈদের দিন বেড়াতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত

মাদারীপুরের শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী মো. শাহাদাত খলিফা (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ঈদের নামাজ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে বের হন শাহাদাত। বেলা তিনটার দিকে কুতুবপুর সীমানা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেল তাকে বহনকারী ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে শাহাদাত ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত শাহাদাত খলিফা শিবচর উপজেলার দ্বিতীয় খন্ড নিয়ামতকান্দি গ্রামের হিরু খলিফার ছেলে। তিনি দ্বিতীয় খন্ড নুর ই আলম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।


উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ডাক কৃষিমন্ত্রীর

উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ডাক কৃষিমন্ত্রীর

উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কৃষি, খাদ্য, এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমির উর রশিদ। শ‌নিবার কুমিল্লার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক আশাব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর খুব অল্প সময় পার করলেও একটি আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণের মিশন নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। ​ঈদের নামাজ পরবর্তী এই আলাপচারিতায় মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, একটি টেকসই এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে সরকারের একার প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়, বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোকে সফলতার বন্দরে পৌঁছে দেবে বলে তিনি প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ​এদিন কুমিল্লার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলার প্রধান ঈদ জামাত অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল ময়দান। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও উত্তরোত্তর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন যাত্রার সফলতা এবং দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। ঈদের এই মিলনমেলা শেষে মন্ত্রী স্থানীয় বি‌ভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


 বৃষ্টির কারণে ঈদগাহে জামাত পেছানো নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৩

বৃষ্টির কারণে ঈদগাহে জামাত পেছানো নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৩

ঈদের দিন সকাল থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। এমন বৈরী আবহাওয়ায় ঈদের নামাজ মসজিদে হবে, নাকি ঈদগাহ মাঠে—এ নিয়ে স্থানীয় দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রামের অধিকাংশ মানুষই ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন—ওই গ্রামের রবিউলের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০), মুনার ছেলে গফুর (৪০) ও আলম (৪৫), শফিকের ছেলে শাকিল (২৫), আলমের ছেলে রিপন (২৬), আইয়ুবের ছেলে সরোয়ার (৪৫), সরোয়ারের ছেলে আশরাফুল (৩৫), ওসমানের ছেলে শাহিন (৩৫), মজিবরের ছেলে জিয়া (৩৭), লবু প্রামাণিকের ছেলে মুসা (৪৫) ও মন্টু (৫৫), মন্টু প্রামাণিকের ছেলে জুয়েল (২৭) ও হিরু প্রামাণিকের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন (৩৩)।আহতরা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গড়াই নদীর চরে অবস্থিত উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রাম। সেখানে অন্তত ১২০টি পরিবারে পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। তাদের ইবাদতের জন্য একটি জামে মসজিদ ও একটি ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। সে জন্য ঈদগাহ কমিটি সকাল সাড়ে আটটার পরিবর্তে ঈদের জামাত সাড়ে নয়টায় নির্ধারণ করেন।এ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যান। মন্টু প্রামাণিকের নেতৃত্বে চর এলঙ্গী আচার্য জামে মসজিদে গ্রামের একাংশের মানুষ নামাজ শুরু করে দেন। এরপর ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে আলম, গফুর, শাকিলসহ কয়েকজন প্রতিপক্ষের লোকদের ঈদগাহে আসার আহ্বান জানান। এ সময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়ে হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এছাড়া এ ঘটনায় মন্টু প্রামাণিকের পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় গ্রামের অন্তত চার ভাগের তিন ভাগ মানুষ এবার ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের বারান্দায় আহত রুবেল, জুয়েল, মন্টু প্রামাণিক ও ফিরোজা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের হাতে, মুখে ও মাথায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে।এ সময় আহত রুবেল বলেন, ‘সকালে বৃষ্টি হচ্ছিল। এক পক্ষ বলে মসজিদে নামাজ হবে। আরেক পক্ষ বলে ঈদগাহ মাঠে। এ নিয়ে তর্কাতর্কি করতে করতে মারামারি শুরু হয়ে যায়। মারামারি ঠেকাতে গেলে জুয়েল, মন্টু, মুসাসহ ১০-১২ জন বাটাম ও বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমার মাথা ফাটিয়ে দেয়।’ চিকিৎসক তার মাথায় আটটি সেলাই দিয়েছেন। তার ভাষ্য, তাদের পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের লোকজন ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি।অভিযোগ অস্বীকার করে আহত জুয়েল বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ শেষে খুতবা চলছিল। এ সময় আলম, শহিদসহ অনেক মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমি, আমার বাবা, চাচাতো ভাবিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছি।’ এছাড়া তাদের পক্ষের কিছু বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তোলেন তিনি।এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আহত মন্টু প্রামাণিক, জুয়েলসহ বেশ কিছু বাড়িতে ভাঙচুরের ক্ষত দেখা গেছে।এ সময় জুয়েলের ভাবি রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘ঈদের নামাজ পড়া নিয়ে রাস্তায় মারামারি হচ্ছিল। আর ওরা এসে আমাদের বাড়িতে ভাঙচুর করে লুট করে নিয়ে গেছে।’রহমানের মা ছারা খাতুন বলেন, ‘এরশেদ, আলম, সাইফুল এসে আমার ছেলের অটোগাড়ি ও বাড়ি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’গ্রামবাসীর সংঘর্ষের কারণে এবার ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে পারেননি স্কুলশিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি উপজেলার এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘সকালে বৈরী আবহাওয়া ছিল। ঈদের নামাজ মসজিদে হবে, নাকি ঈদগাহে হবে—এ নিয়ে নিজেরা নিজেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে আর নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার নামাজই পড়া হয়নি।’চর এলঙ্গী আচার্য ঈদগাহ ময়দানের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘প্রায় পাঁচশ মানুষের বসবাস গ্রামটিতে। বৃষ্টির কারণে সাড়ে আটটার নামাজ সাড়ে নয়টায় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু একটি পক্ষ মসজিদে নামাজ শুরু করলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়। একারণে অন্তত সাড়ে চারশ মানুষ এবার নামাজ পড়তে পারেনি। সংঘর্ষ ও হামলার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ঈদের নামাজ মসজিদে হবে, নাকি ঈদগাহে—এ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না—এ তথ্য তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।


 শাল্লায় পৃথক তিন সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত, আশঙ্কাজনক ৪

শাল্লায় পৃথক তিন সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত, আশঙ্কাজনক ৪

সুনামগঞ্জের শাল্লায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে পৃথক তিনটি স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।শনিবার (২১ মার্চ) সংগঠিত এসব ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইয়াড়াবাদ ও কান্দোকলা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে দুই গ্রামের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।এদিকে ইচাকপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ইট-পাটকেল ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।তৃতীয় সংঘর্ষটি ঘটে কাশীপুর ও চন্ডিপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে। পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের বহু লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।সব মিলিয়ে পৃথক তিনটি সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।এ বিষয়ে শাল্লা থানার এসআই সঞ্জয় কুমার সরকার ও এএসআই ফুলন চন্দ্র দাস জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে।তারা আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।


সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ঢল

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ঢল

ঈদের দিন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বেলা এগারোটার পর থেকে এমন চিত্র দেখা গেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, নানা বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উদ্যান প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছেন। ভ্রমণপিপাসুরা নিজেদের পছন্দমতো স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন।হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিনোদনপ্রেমীরা উদ্যানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। ঈদের দিন আবহাওয়া ভালো থাকায় পর্যটকদের আনাগোনা ছিল অনেক বেশি।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের দিন ও পরের দিন বিকেলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ঢল নামে। দল বেঁধে পর্যটকরা বনের ভেতর প্রবেশ করে ঘোরাফেরা করেন। অনেকে আবার চা বাগানের টিলায় দল বেঁধে ছবিও তোলেন। টিকিট কাউন্টারের সামনে ছিল লম্বা লাইন।এদিকে বন বিভাগ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পাশাপাশি স্থানীয় চুনারুঘাট পুলিশ সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আগত দর্শনার্থীরা জানান, সাতছড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং দুর্লভ প্রজাতির বন্যপ্রাণী দেখা যায়। এ কারণে এই স্থানটি তাঁদের অন্যরকম ভালো লাগার জায়গা। তাঁরা আরও জানান, শহুরে জীবন থেকে প্রাকৃতিক পরিবেশে এসে কিছু সময়ের জন্য হলেও জীবন উপভোগ করা যায়।সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল আমিন জানান, ঈদের দিন থেকে এখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তিনি আরও জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে তাঁরা প্রস্তুত। বনের ভেতর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। বন বিভাগ, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পাশাপাশি অতিরিক্ত দশজন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে রাখা হয়েছে।চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সার্বক্ষণিক পুলিশের টহলের ব্যবস্থা রয়েছে।সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি রেমা-কালেঙ্গা, গ্রিনল্যান্ড পার্ক ও উপজেলার চা বাগানগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় ছিল।


দেশবাসীর কল্যাণ কামনায় আইজিপি

দেশবাসীর কল্যাণ কামনায় আইজিপি

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস প্যারেড গ্রাউন্ডে ঈদের প্রধান জামাত অংশগ্রহণ ক‌রেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ জামাত। এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাধারণ পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ​নামাজ শেষে এক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। মোনাজাতে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, অব্যাহত অগ্রযাত্রা এবং সমৃদ্ধির পাশাপাশি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ প্রার্থনা করেন উপস্থিত মুসল্লিরা। বিশেষ করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি ও দেশবাসীর নিরাপত্তার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। ধর্মীয় এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুরো প্যারেড গ্রাউন্ড জুড়ে। ​নামাজ পরবর্তী সময়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা, সাধারণ সদস্য এবং সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। তিনি ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে তাদের সাথে সময় কাটান এবং ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।


রমনার চত্বরে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর নাগরিক প্রশান্তি

রমনার চত্বরে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর নাগরিক প্রশান্তি

রাজধানীর রমনা পার্কে ঢল নেমেছে সব বয়সী মানুষের। ঈদ মানেই শিশুদের বাধভাঙ্গা আনন্দ, আর সেই আনন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রমনা পার্কের শিশু চত্বর। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে মুখর এই উদ্যানে ছোটদের দৌড়ঝাঁপ, বল খেলা আর বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘাসের ওপর লুটোপুটির দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে যান্ত্রিক নগরীতে এক টুকরো গ্রামীণ উৎসবের আমেজ। ​ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় চিরচেনা যানজটের শহর এখন অনেকটাই শান্ত ও স্থবির। সেই সুযোগে যারা রাজধানীতে ঈদ উদযাপন করছেন, তারা যানজটহীন রাজপথ পাড়ি দিয়ে সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে। শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রমনা পার্কের ভেতর ঘুরে দেখা গেছে এক অপূর্ব ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন। অনেক পরিবার বাসা থেকে চাদর ও দুপুরের খাবার নিয়ে এসে পার্কের বিশাল বকুলতলায় বা মেহগনি গাছের ছায়ায় বসে আড্ডায় মেতেছেন। কেউ কেউ লেকের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে শান্ত জলের আভা দেখছেন, আবার অনেককে দেখা গেছে বোট রাইডে চড়ে জলকেলিতে মেতে উঠতে। প্রিয়জনদের সঙ্গে সেলফি তোলা আর ভিডিও কলে দূরে থাকা স্বজনদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর দৃশ্যে পুরো উদ্যান ছিল প্রাণবন্ত। ​বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের দলবদ্ধ আড্ডা আর হাসাহাসিতে পার্কের প্রতিটি কোণ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। দীর্ঘ ব্যস্ততার পর খোলা আকাশের নিচে প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পেরে দর্শনার্থীদের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির আভা। রমনা পার্কের এই উৎসবমুখর পরিবেশ কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্রের চিত্র নয়, বরং এটি ঘরবন্দী নাগরিক জীবনের এক পশলা স্বস্তির নিঃশ্বাস। সন্ধ্যার আলো ম্লান হয়ে এলেও মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, উৎসবের রঙে রঙিন হতে বাঙালির জন্য কেবল একটু খোলা জায়গাই যথেষ্ট।


রংপুরে ১২০০ বন্দির অন্যরকম ঈদ

রংপুরে ১২০০ বন্দির অন্যরকম ঈদ

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে এ যেন এক অন্যরকম ঈদ। পায়েশ-মুড়ি দিয়ে শুরু, দুপুরে পোলাও-মুরগির রোস্ট, গরু-খাসির মাংস আর মিষ্টি। সঙ্গে কোল্ড ড্রিংকস আর পান-সুপারিও ছিল। শুধু খাবার নয়, স্বজনরা দেখতে এলে ফুল দিয়ে বরণ, সরবত আর বসার ব্যবস্থা। আর এ আয়োজনে ভীষণ খুশি কারাবন্দি ও তাদের স্বজনরা।শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় কারাগারের অভ্যন্তরে ১২০০-র বেশি বন্দি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন তারা। অনেক বন্দিকে দেখা যায় নতুন পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে জামাতে শরীক হতে।স্বজনদের জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন। কারাগারের প্রবেশপথে সামিয়ানা টাঙিয়ে বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়। সিনিয়র জেল সুপার একেএম কামরুল হুদা নিজে ফুল দিয়ে স্বজনদের বরণ করে নেন ও সরবত পান করান।নীলফামারী থেকে আসা আফরোজা ইসলাম বলছিলেন, “স্বামী সামসুলকে দেখতে মেয়ে রাইতাকে নিয়ে এসেছি। কারাগার কর্তৃপক্ষের আচরণ সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।”কারাগারের ভেতরে একসঙ্গে নামাজ আদায়। ছবি: প্রতিনিধিপীরগঞ্জ থেকে রহিমা বেগম এসেছেন ১৩ মাস ধরে আটক থাকা একমাত্র ছেলেকে দেখতে। তিনি জানান, “ছেলের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে এনেছিলাম। কিন্তু ছেলে বলল, এবার খুব ভালো খাবার দিয়েছে কারাগার থেকে।” কারাবন্দির স্বজন মোস্তফার ভাষ্য, “ভাতিজা দেড় বছর ধরে আটক। আগেও এসেছি, এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপট দেখলাম। ফুল, সরবত, বসার ব্যবস্থা- সত্যিই ভালো আচরণ করেছে কর্তৃপক্ষ।”কারাগার সূত্রে জানা গেছে, দুই শতজনের বেশি রাজনৈতিক বন্দিও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেছেন। ঈদের পরের দিন স্বজনরা বাড়িতে তৈরি পছন্দের খাবার দিতে পারবেন। বাড়তি সুযোগ হিসেবে মোবাইল ফোনে পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত কথা বলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। ছবি: প্রতিনিধিরংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার সাখাওয়াত হোসেন জানান, কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এ বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। সিনিয়র জেল সুপার একেএম কামরুল হুদা বলেন, “সব বন্দি একসঙ্গে নামাজ আদায়, কুশল বিনিময়, উন্নতমানের খাবার ও স্বজনদের সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ- সব মিলিয়ে ছিল নানামুখি আয়োজন।”কারাগারের চার দেয়াল যেন ঈদের আনন্দে রঙিন হয়ে উঠল।


ঈদের নামাজের পরই রণক্ষেত্র গোপীনাথপুর, আহত ১০

ঈদের নামাজের পরই রণক্ষেত্র গোপীনাথপুর, আহত ১০

ঈদের নামাজের শান্তি-সৌহার্দ্যের বার্তা যেন ছুঁয়েও যেতে পারেনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামকে। সেখানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে ১৫ থেকে ২০টি বাড়ি।শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে চলে এই সংঘর্ষ। ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন দুই গ্রুপের লোকজন। এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরেই ঈদের নামাজ শেষে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানান, ঈদের নামাজ শেষ হতেই দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়ে যায়। সংঘর্ষে এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”ঈদের আনন্দের দিনে এ সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।


সিডনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবাসীদের ঈদুল ফিতর উদযাপন

সিডনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবাসীদের ঈদুল ফিতর উদযাপন

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম উম্মাহর মধ্যে আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বাংলাদেশের মতো আজ শনিবার (২১ মার্চ) সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করছেন।শুক্রবার সন্ধ্যায় সিডনির আকাশে চাঁদ দেখা দেওয়ার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার 'বাংলাদেশ' খ্যাত লাকাম্বা এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। পাড়ায় পাড়ায় বেজে ওঠে নজরুলের সেই চিরচেনা সুর ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই মুসল্লিরা নতুন পোশাকে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য বেরিয়ে পড়েন।অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের মতো বিশাল কোনো কেন্দ্রীয় ঈদগাহ না থাকলেও মসজিদ, মাসাল্লা, পাবলিক পার্ক, কমিউনিটি হল ও স্কুল প্রাঙ্গণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রতিটি রাজ্যে দফায় দফায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব জামাত পরিণত হয়েছিল বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের এক বিশাল মিলনমেলায়, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।সিডনির সুন্দর রৌদ্রোজ্জ্বল ও শীতল সকালে মুসল্লিরা লাকাম্বার ফয়জান-ই-মদিনা ইসলামিক সেন্টার, প্যারি পার্ক, ব্যাংকস টাউন, লিডকম, লাকাম্বার দারুল উলুম কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং রকডেল মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়া লিভারপুল, মিন্টু, গ্রানভিল, গ্রিন-ভ্যালি, ম্যাসকট, মাউন্ট ডুরিথ, কাম্পবেলটাউন, গ্লেনফিল্ড, ম্যাকুরিফিল্ড এবং ইঙ্গেলবার্নসহ বিভিন্ন উপশহরের মসজিদ ও কনভেনশন হলগুলোতেও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ঈদের জামাতে অংশ নেন।নামাজ শেষে প্রবাসীরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনেও ঈদের এই দিনটিতে ঘরোয়া পরিবেশে দেশীয় খাবারের আয়োজন আর আড্ডায় মেতে ওঠেন সিডনি প্রবাসীরা। অনেকের জন্য এটি দেশের স্বজনদের ছেড়ে ঈদ করার এক মিশ্র অনুভূতির দিন হলেও, কমিউনিটির সবার সঙ্গে মিলেমিশে সেই অভাব ঘোচানোর চেষ্টা করেন তারা।