দিল্লি হাইকোর্টের বড় পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ( ১৯ মে) দিল্লি হাইকোর্ট ফৌজদারি আদালত অবমাননার মামলায় নোটিস জারি করেছে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মনীশ সিসোডিয়া, সঞ্জয় সিংহ-সহ আম আদমি পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দিল্লির বহুল আলোচিত এক্সাইজ পলিসি মামলাকে কেন্দ্র করে বিচারব্যবস্থাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে এবং সংগঠিতভাবে এমন প্রচার চালানো হয়েছে যা আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।
বিচারপতি নভিন চাওলা ও রাভিন্দের দাদেজার ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ১৪ মে বিচারপতি স্বরণা কান্তা শর্মার নির্দেশের ভিত্তিতেই এই অবমাননা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই নির্দেশে সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘অপমানজনক’ ও ‘কুরুচিকর’ প্রচারের বিষয়টি সামনে আসে।
আদালত রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পোস্ট, ইলেকট্রনিক রেকর্ড ও প্রকাশিত সামগ্রী সংরক্ষণ করে আদালতের সামনে পেশ করতে। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিলের সময় দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৪ আগস্ট। উল্লেখযোগ্যভাবে, শুনানির সময় অভিযুক্তদের পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানানো হয়েছে।
আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই মামলায় সহায়তার জন্য একজন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করা হতে পারে। পাশাপাশি নোটিস পাঠানো হয়েছে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, বিনয় মিশ্র ও দুর্গেশ পাঠককেও। বিচারপতি স্বরনা কান্তা শর্মা তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি ‘সমন্বিত সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন’ চালিয়ে বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হয়েছে, যা কেবল আদালতের মর্যাদাই নষ্ট করে না, বরং বিচার প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ ও বিচারকদের স্বাধীন কাজের পরিবেশকে ভয় দেখানোর সামিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদালতের রায়ের সমালোচনা করা গেলেও বিচারককে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে তুলে ধরার সংগঠিত প্রচার এবং জনমতের নামে বিচারব্যবস্থার ওপর আক্রমণের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা রয়েছে।
বিচারপতি শর্মা স্পষ্ট করেন, এই অবমাননা মামলা কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে নয়, বরং বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই শুরু করা হয়েছে। পরবর্তীতে নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না ওঠে, সেই কারণে তিনি নিজেই মূল এক্সাইজ মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে সেই মামলা শুনছেন বিচারপতি মনোজ জৈন, যেখানে সিবিআই-এর রিভিশন পিটিশনের শুনানি চলছে-যা ট্রায়াল কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে কেজরিওয়াল, সিসোদিয়াসহ একাধিক অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে আদালতের বার্তা স্পষ্ট-মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে বিচারব্যবস্থাকে আক্রমণ বা তার প্রতি জনবিশ্বাস নষ্ট করার কোনও প্রচেষ্টা সহ্য করা হবে না। রাজনৈতিক ও আইনি মহলে এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
দিল্লি হাইকোর্টের বড় পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ( ১৯ মে) দিল্লি হাইকোর্ট ফৌজদারি আদালত অবমাননার মামলায় নোটিস জারি করেছে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মনীশ সিসোডিয়া, সঞ্জয় সিংহ-সহ আম আদমি পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দিল্লির বহুল আলোচিত এক্সাইজ পলিসি মামলাকে কেন্দ্র করে বিচারব্যবস্থাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে এবং সংগঠিতভাবে এমন প্রচার চালানো হয়েছে যা আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।
বিচারপতি নভিন চাওলা ও রাভিন্দের দাদেজার ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ১৪ মে বিচারপতি স্বরণা কান্তা শর্মার নির্দেশের ভিত্তিতেই এই অবমাননা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই নির্দেশে সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘অপমানজনক’ ও ‘কুরুচিকর’ প্রচারের বিষয়টি সামনে আসে।
আদালত রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পোস্ট, ইলেকট্রনিক রেকর্ড ও প্রকাশিত সামগ্রী সংরক্ষণ করে আদালতের সামনে পেশ করতে। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিলের সময় দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৪ আগস্ট। উল্লেখযোগ্যভাবে, শুনানির সময় অভিযুক্তদের পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানানো হয়েছে।
আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই মামলায় সহায়তার জন্য একজন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করা হতে পারে। পাশাপাশি নোটিস পাঠানো হয়েছে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, বিনয় মিশ্র ও দুর্গেশ পাঠককেও। বিচারপতি স্বরনা কান্তা শর্মা তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি ‘সমন্বিত সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন’ চালিয়ে বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হয়েছে, যা কেবল আদালতের মর্যাদাই নষ্ট করে না, বরং বিচার প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ ও বিচারকদের স্বাধীন কাজের পরিবেশকে ভয় দেখানোর সামিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদালতের রায়ের সমালোচনা করা গেলেও বিচারককে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে তুলে ধরার সংগঠিত প্রচার এবং জনমতের নামে বিচারব্যবস্থার ওপর আক্রমণের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা রয়েছে।
বিচারপতি শর্মা স্পষ্ট করেন, এই অবমাননা মামলা কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে নয়, বরং বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই শুরু করা হয়েছে। পরবর্তীতে নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না ওঠে, সেই কারণে তিনি নিজেই মূল এক্সাইজ মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে সেই মামলা শুনছেন বিচারপতি মনোজ জৈন, যেখানে সিবিআই-এর রিভিশন পিটিশনের শুনানি চলছে-যা ট্রায়াল কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে কেজরিওয়াল, সিসোদিয়াসহ একাধিক অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে আদালতের বার্তা স্পষ্ট-মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে বিচারব্যবস্থাকে আক্রমণ বা তার প্রতি জনবিশ্বাস নষ্ট করার কোনও প্রচেষ্টা সহ্য করা হবে না। রাজনৈতিক ও আইনি মহলে এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন