রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে অভিষেক ব্যানার্জীকে ঘিরে কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি মুখ খুলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কালীঘাটে দলীয় বৈঠকের ফাঁকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাড়ি ভেঙে দিন, তবু আমি মাথা নত করব না।” একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করে তাঁর দাবি, “এত প্রতিহিংসাপরায়ণ মুখ্যমন্ত্রী আমি আগে দেখিনি।”
সূত্রের খবর, নতুন রাজ্য সরকারের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য বেশ কিছুদিন ধরেই খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। সোমবার ভবানীপুরের একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যে যারা দুর্নীতি ও বেআইনি সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সভা থেকেই তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, অভিষেকের মোট ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি ‘লিপস এন্ড বাউন্ড’ সংস্থার নামে, ৪টি তার নিজের নামে এবং ৬টি তার বাবার নামে। পাশাপাশি জাভেদ খানের পরিবারের নামেও সম্পত্তি থাকার অভিযোগ তোলেন তিনি।
এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং দপ্তর কলকাতা পুর আইন ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারায় দুটি নোটিস জারি করে। নোটিস পাঠানো হয় কালীঘাট রোডের ১২১ নম্বর এবং হরিশ মুখার্জি রোডের ১৮৮এ নম্বর ঠিকানায় থাকা সম্পত্তি নিয়ে।
একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে এবং অন্যটি ‘লিপস এন্ড বাউন্ড’ সংস্থার উদ্দেশে। পুরসভার অভিযোগ, ওই দুই সম্পত্তিতে অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি ঘটিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সেই কারণেই বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলতে হবে, নাহলে কেন পুরসভা নিজে ভাঙার কাজ শুরু করবে না, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত নকশা, মানচিত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নেওয়া পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাকে চাপে ফেলার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, বিজেপির বক্তব্য, আইন মেনেই তদন্ত এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বেআইনি কিছু প্রমাণিত হলে ছাড় দেওয়া হবে না। ফলে এই মুহূর্তে পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, আর আগামী দিনে এই ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে অভিষেক ব্যানার্জীকে ঘিরে কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি মুখ খুলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কালীঘাটে দলীয় বৈঠকের ফাঁকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাড়ি ভেঙে দিন, তবু আমি মাথা নত করব না।” একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করে তাঁর দাবি, “এত প্রতিহিংসাপরায়ণ মুখ্যমন্ত্রী আমি আগে দেখিনি।”
সূত্রের খবর, নতুন রাজ্য সরকারের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য বেশ কিছুদিন ধরেই খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। সোমবার ভবানীপুরের একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যে যারা দুর্নীতি ও বেআইনি সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সভা থেকেই তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, অভিষেকের মোট ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি ‘লিপস এন্ড বাউন্ড’ সংস্থার নামে, ৪টি তার নিজের নামে এবং ৬টি তার বাবার নামে। পাশাপাশি জাভেদ খানের পরিবারের নামেও সম্পত্তি থাকার অভিযোগ তোলেন তিনি।
এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং দপ্তর কলকাতা পুর আইন ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারায় দুটি নোটিস জারি করে। নোটিস পাঠানো হয় কালীঘাট রোডের ১২১ নম্বর এবং হরিশ মুখার্জি রোডের ১৮৮এ নম্বর ঠিকানায় থাকা সম্পত্তি নিয়ে।
একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে এবং অন্যটি ‘লিপস এন্ড বাউন্ড’ সংস্থার উদ্দেশে। পুরসভার অভিযোগ, ওই দুই সম্পত্তিতে অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি ঘটিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সেই কারণেই বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলতে হবে, নাহলে কেন পুরসভা নিজে ভাঙার কাজ শুরু করবে না, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত নকশা, মানচিত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নেওয়া পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাকে চাপে ফেলার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, বিজেপির বক্তব্য, আইন মেনেই তদন্ত এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বেআইনি কিছু প্রমাণিত হলে ছাড় দেওয়া হবে না। ফলে এই মুহূর্তে পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, আর আগামী দিনে এই ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন