সংবাদ

ধনবাড়ীতে গড়ে উঠেছে জীবন্ত জার্মপ্লাজম সংরক্ষণাগার


প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

ধনবাড়ীতে গড়ে উঠেছে জীবন্ত জার্মপ্লাজম সংরক্ষণাগার
ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার। ছবি : সংবাদ

দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির মাতৃগাছে ঘেরা চারপাশ। কোনোটিতে ফুল এসেছে, কোনোটি ফলে ঠাসা, আবার কোনোটিতে পাক ধরেছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার এখন এমনই এক বৈচিত্র্যময় উদ্যানে পরিণত হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি জৈব সার ও কম্পোস্ট ব্যবহার করে এখানে ফল চাষ করা হচ্ছে। গত ৩ বছরে সাধারণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এটি দেশের উদ্যান উন্নয়ন ও কৃষি সম্ভাবনার অন্যতম কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে।

সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ১২৭ প্রজাতির দেশি-বিদেশি মাতৃগাছ রয়েছে। শুধু আমেরই আছে ৩৮টি উন্নত জাত। এর মধ্যে বারমাসি কাটিমন, বারি-১১, মিয়াজাকি, ব্রুনাই কিং, কিং অব চাকাপাত, নাম ডক মাই, গৌড়মতি ও ব্ল্যাক স্টোনের মতো বিদেশি জাতের পাশাপাশি ল্যাংড়া, হাড়িভাঙ্গা ও হিমসাগরের মতো জনপ্রিয় দেশি জাতও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেন্টারের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে গড়ে তোলা হয়েছে সমৃদ্ধ এক মসলা বাগান। সেখানে দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ, চুইঝাল, লবঙ্গ, জয়ফল ও অলস্পাইসের গাছ রয়েছে। উত্তর সীমানার পতিত জমিতে রোপণ করা হয়েছে ৩০টি ভিয়েতনামি বারমাসি আঠাবিহীন কাঁঠাল গাছ। এ ছাড়া পুকুরপাড়ে অ্যাভোকাডো, স্টার অ্যাপেল, ম্যাকাডেমিয়া, রোলেনিয়া, করসল, রুবি-লংগান, মিরাকল বেরি ও ডুরিয়ানের মতো উচ্চমূল্যের বিদেশি ফলের সংগ্রহশালা নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের।

ফলের পাশাপাশি এখানে রয়েছে শতাধিক অ্যারাবিকা কফি গাছ, ড্রাগন ফল, কাশ্মিরি আনার, বিভিন্ন জাতের লেবু, লিচু, লটকন, কোকো ও জি-৯ কলা। দৃষ্টিনন্দন অর্কিড, ক্যাকটাস, বনসাই ও নানা প্রজাতির ইনডোর প্ল্যান্ট সেন্টারটিকে দিয়েছে নান্দনিক রূপ। আছে অর্জুন, নিম ও বহেরার মতো ঔষধি গাছও।

সেন্টারের নিজস্ব মাতৃগাছ থেকে উৎপাদিত চারা ও কলম সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। পাশাপাশি মাশরুম উৎপাদন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান সম্প্রতি সেন্টারটি পরিদর্শন করে এর আমূল পরিবর্তনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কৃষিবিদ মো. রাসেল পারভেজ তমালের দক্ষ নেতৃত্ব ও নিরলস পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠানটি আজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ রাসেল পারভেজ তমাল বলেন, "পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও মানবিকতা ও আন্তরিকতা নিয়ে আমরা কাজ করছি। কৃষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সেবাকেন্দ্র হিসেবে এটিকে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।"

স্থানীয়রা জানান, এই সেন্টারটি এখন কেবল চারা উৎপাদন কেন্দ্র নয়, বরং একটি জীবন্ত জার্মপ্লাজম সংরক্ষণাগারে পরিণত হয়েছে। এখানে নির্মাণাধীন টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি চালু হলে অত্র অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে আরও বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


ধনবাড়ীতে গড়ে উঠেছে জীবন্ত জার্মপ্লাজম সংরক্ষণাগার

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির মাতৃগাছে ঘেরা চারপাশ। কোনোটিতে ফুল এসেছে, কোনোটি ফলে ঠাসা, আবার কোনোটিতে পাক ধরেছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার এখন এমনই এক বৈচিত্র্যময় উদ্যানে পরিণত হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি জৈব সার ও কম্পোস্ট ব্যবহার করে এখানে ফল চাষ করা হচ্ছে। গত ৩ বছরে সাধারণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এটি দেশের উদ্যান উন্নয়ন ও কৃষি সম্ভাবনার অন্যতম কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে।

সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ১২৭ প্রজাতির দেশি-বিদেশি মাতৃগাছ রয়েছে। শুধু আমেরই আছে ৩৮টি উন্নত জাত। এর মধ্যে বারমাসি কাটিমন, বারি-১১, মিয়াজাকি, ব্রুনাই কিং, কিং অব চাকাপাত, নাম ডক মাই, গৌড়মতি ও ব্ল্যাক স্টোনের মতো বিদেশি জাতের পাশাপাশি ল্যাংড়া, হাড়িভাঙ্গা ও হিমসাগরের মতো জনপ্রিয় দেশি জাতও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেন্টারের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে গড়ে তোলা হয়েছে সমৃদ্ধ এক মসলা বাগান। সেখানে দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ, চুইঝাল, লবঙ্গ, জয়ফল ও অলস্পাইসের গাছ রয়েছে। উত্তর সীমানার পতিত জমিতে রোপণ করা হয়েছে ৩০টি ভিয়েতনামি বারমাসি আঠাবিহীন কাঁঠাল গাছ। এ ছাড়া পুকুরপাড়ে অ্যাভোকাডো, স্টার অ্যাপেল, ম্যাকাডেমিয়া, রোলেনিয়া, করসল, রুবি-লংগান, মিরাকল বেরি ও ডুরিয়ানের মতো উচ্চমূল্যের বিদেশি ফলের সংগ্রহশালা নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের।

ফলের পাশাপাশি এখানে রয়েছে শতাধিক অ্যারাবিকা কফি গাছ, ড্রাগন ফল, কাশ্মিরি আনার, বিভিন্ন জাতের লেবু, লিচু, লটকন, কোকো ও জি-৯ কলা। দৃষ্টিনন্দন অর্কিড, ক্যাকটাস, বনসাই ও নানা প্রজাতির ইনডোর প্ল্যান্ট সেন্টারটিকে দিয়েছে নান্দনিক রূপ। আছে অর্জুন, নিম ও বহেরার মতো ঔষধি গাছও।

সেন্টারের নিজস্ব মাতৃগাছ থেকে উৎপাদিত চারা ও কলম সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। পাশাপাশি মাশরুম উৎপাদন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান সম্প্রতি সেন্টারটি পরিদর্শন করে এর আমূল পরিবর্তনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কৃষিবিদ মো. রাসেল পারভেজ তমালের দক্ষ নেতৃত্ব ও নিরলস পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠানটি আজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ রাসেল পারভেজ তমাল বলেন, "পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও মানবিকতা ও আন্তরিকতা নিয়ে আমরা কাজ করছি। কৃষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সেবাকেন্দ্র হিসেবে এটিকে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।"

স্থানীয়রা জানান, এই সেন্টারটি এখন কেবল চারা উৎপাদন কেন্দ্র নয়, বরং একটি জীবন্ত জার্মপ্লাজম সংরক্ষণাগারে পরিণত হয়েছে। এখানে নির্মাণাধীন টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি চালু হলে অত্র অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে আরও বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত