জুলাই আন্দোলনের সময় কলেজছাত্র হৃদয় হোসেনকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার পর লাশ গুমের মামলায় ট্রাইব্যুনালে ধাক্কা খেলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় গাজীপুরের কোনাবাড়ি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আশরাফ উদ্দিন এবং গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেননি আদালত। একইসাথে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা
মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক
প্যানেল এই আদেশ দেন।
প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন
বিচারক মো. মোহিতুল হক
এনাম চৌধুরী। শুনানিতে আসামিপক্ষ দীর্ঘ সময় তদন্ত শেষ
না হওয়া এবং অসুস্থতার
গ্রাউন্ড দেখিয়ে জামিন প্রার্থনা করলে প্রসিকিউশন এর
তীব্র বিরোধিতা করে।
শুনানিতে
সাবেক ওসি আশরাফের পক্ষে
আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ অসুস্থতার বিষয়টি
মানবিক বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়ার এক বছরেও প্রসিকিউশন
তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারার
আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে পরিদর্শক
শফিকুলের জামিন চান তার আইনজীবী
মোহাম্মদ এনাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ বলেন, “এক
বছরের বেশি সময় পার
হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি
প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল আমাদের জামিনের আবেদন আমলে নিয়ে পরবর্তী
তারিখে শুনানির জন্য রেখেছেন। প্রসিকিউশনকে
আগামী ধার্য তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। ঐদিন
জামিনের বিষয়ে আবারো শুনানি হবে।”
তবে
আসামিপক্ষের এই যুক্তির তীব্র
বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর মঈনুল
করিম। তিনি আদালতকে জানান,
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আশরাফ
ও শফিকুলের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার যথেষ্ট
তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে
ট্রাইব্যুনাল জামিনের বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ
না দিয়ে সরাসরি তদন্ত
প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর মঈনুল করিম বলেন, “গাজীপুরের
কোনাবাড়িতে হৃদয় নামের এক
শিক্ষার্থীকে খুব কাছ থেকে
গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গুলি
চালান আকরাম। তিনি স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।
সেই মামলায় গত ১২ মে
ডিবির শফিকুল ইসলাম ও সাবেক ওসি
আশরাফুল উদ্দিনের জামিন চেয়ে আবেদন করেছিল
আসামিপক্ষ। আজ শুনানির জন্য
দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।”
তিনি
আসামিদের জামিন চাওয়ার গ্রাউন্ড প্রসঙ্গে আরো বলেন, “শফিকুল
ইসলামের পক্ষে গ্রাউন্ড দেখানো হয়েছে যে, যদি গ্রেপ্তারের
এক বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়া হয়,
তাহলে জামিন দিতে পারেন আদালত।
এ ছাড়া আশরাফের ক্ষেত্রেও
একই গ্রাউন্ডসহ অসুস্থতা দেখিয়ে জামিন চেয়েছেন। একই সঙ্গে কিছু
স্বাস্থ্য সনদও দেওয়া হয়েছে।
তবে আমরা বলেছি আদালত
চাইলে এ সময় আরও
ছয় মাস বাড়াতে পারেন।
পরে কোনো ধরনের আদেশ
দেননি আদালত।”
অপরাধের
ভয়াবহতা উল্লেখ করে প্রসিকিউটর মঈনুল
বলেন, “এ মামলার তদন্ত
প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই
দুজনের জড়িত থাকার পর্যাপ্ত
প্রমাণাদি পেয়েছি আমরা। এছাড়া লাশটি এখনও খুঁজে পাওয়া
যায়নি। গুলি করে হত্যার
পর গভীর রাতে গাড়িতে
তুলে আশরাফ ও শফিকুলের মদদে
লাশটি করতোয়া নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”
প্রসিকিউশনের
পক্ষ থেকে জানানো হয়,
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ
হাসিনার পতনের পর ছাত্র-জনতার
ঐতিহাসিক বিজয় মিছিলে অংশ
নিয়েছিলেন কলেজছাত্র হৃদয়। সেই আনন্দ মিছিলেই
পুলিশ তাকে নৃশংসভাবে গুলি
করে হত্যা করে এবং অপরাধ
ঢাকতে রক্তাক্ত দেহটি গভীর রাতে করতোয়া
নদীতে ফেলে দেয়। হৃদয়ের
সেই মরদেহের সন্ধান আজও মেলেনি। এই
লোমহর্ষক মামলায় এই দুজন ছাড়াও
ঢাকা উত্তরের উপ-পুলিশ কমিশনার
আব্দুল্লাহ হেল কাফি, এসআই
শেখ আবজালুল হক, কনস্টেবল আকরাম
হোসেন, কনস্টেবল ফাহিম ও কনস্টেবল মাহমুদুল
হাসান সজিবসহ আরও পাঁচ পুলিশ
কর্মকর্তা বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
জুলাই আন্দোলনের সময় কলেজছাত্র হৃদয় হোসেনকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার পর লাশ গুমের মামলায় ট্রাইব্যুনালে ধাক্কা খেলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় গাজীপুরের কোনাবাড়ি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আশরাফ উদ্দিন এবং গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেননি আদালত। একইসাথে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা
মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক
প্যানেল এই আদেশ দেন।
প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন
বিচারক মো. মোহিতুল হক
এনাম চৌধুরী। শুনানিতে আসামিপক্ষ দীর্ঘ সময় তদন্ত শেষ
না হওয়া এবং অসুস্থতার
গ্রাউন্ড দেখিয়ে জামিন প্রার্থনা করলে প্রসিকিউশন এর
তীব্র বিরোধিতা করে।
শুনানিতে
সাবেক ওসি আশরাফের পক্ষে
আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ অসুস্থতার বিষয়টি
মানবিক বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়ার এক বছরেও প্রসিকিউশন
তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারার
আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে পরিদর্শক
শফিকুলের জামিন চান তার আইনজীবী
মোহাম্মদ এনাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ বলেন, “এক
বছরের বেশি সময় পার
হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি
প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল আমাদের জামিনের আবেদন আমলে নিয়ে পরবর্তী
তারিখে শুনানির জন্য রেখেছেন। প্রসিকিউশনকে
আগামী ধার্য তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। ঐদিন
জামিনের বিষয়ে আবারো শুনানি হবে।”
তবে
আসামিপক্ষের এই যুক্তির তীব্র
বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর মঈনুল
করিম। তিনি আদালতকে জানান,
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আশরাফ
ও শফিকুলের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার যথেষ্ট
তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে
ট্রাইব্যুনাল জামিনের বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ
না দিয়ে সরাসরি তদন্ত
প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর মঈনুল করিম বলেন, “গাজীপুরের
কোনাবাড়িতে হৃদয় নামের এক
শিক্ষার্থীকে খুব কাছ থেকে
গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গুলি
চালান আকরাম। তিনি স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।
সেই মামলায় গত ১২ মে
ডিবির শফিকুল ইসলাম ও সাবেক ওসি
আশরাফুল উদ্দিনের জামিন চেয়ে আবেদন করেছিল
আসামিপক্ষ। আজ শুনানির জন্য
দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।”
তিনি
আসামিদের জামিন চাওয়ার গ্রাউন্ড প্রসঙ্গে আরো বলেন, “শফিকুল
ইসলামের পক্ষে গ্রাউন্ড দেখানো হয়েছে যে, যদি গ্রেপ্তারের
এক বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়া হয়,
তাহলে জামিন দিতে পারেন আদালত।
এ ছাড়া আশরাফের ক্ষেত্রেও
একই গ্রাউন্ডসহ অসুস্থতা দেখিয়ে জামিন চেয়েছেন। একই সঙ্গে কিছু
স্বাস্থ্য সনদও দেওয়া হয়েছে।
তবে আমরা বলেছি আদালত
চাইলে এ সময় আরও
ছয় মাস বাড়াতে পারেন।
পরে কোনো ধরনের আদেশ
দেননি আদালত।”
অপরাধের
ভয়াবহতা উল্লেখ করে প্রসিকিউটর মঈনুল
বলেন, “এ মামলার তদন্ত
প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই
দুজনের জড়িত থাকার পর্যাপ্ত
প্রমাণাদি পেয়েছি আমরা। এছাড়া লাশটি এখনও খুঁজে পাওয়া
যায়নি। গুলি করে হত্যার
পর গভীর রাতে গাড়িতে
তুলে আশরাফ ও শফিকুলের মদদে
লাশটি করতোয়া নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”
প্রসিকিউশনের
পক্ষ থেকে জানানো হয়,
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ
হাসিনার পতনের পর ছাত্র-জনতার
ঐতিহাসিক বিজয় মিছিলে অংশ
নিয়েছিলেন কলেজছাত্র হৃদয়। সেই আনন্দ মিছিলেই
পুলিশ তাকে নৃশংসভাবে গুলি
করে হত্যা করে এবং অপরাধ
ঢাকতে রক্তাক্ত দেহটি গভীর রাতে করতোয়া
নদীতে ফেলে দেয়। হৃদয়ের
সেই মরদেহের সন্ধান আজও মেলেনি। এই
লোমহর্ষক মামলায় এই দুজন ছাড়াও
ঢাকা উত্তরের উপ-পুলিশ কমিশনার
আব্দুল্লাহ হেল কাফি, এসআই
শেখ আবজালুল হক, কনস্টেবল আকরাম
হোসেন, কনস্টেবল ফাহিম ও কনস্টেবল মাহমুদুল
হাসান সজিবসহ আরও পাঁচ পুলিশ
কর্মকর্তা বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন