নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে স্ট্রোক করে এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিক্ষিকার নাম উম্মে কুলসুম (৪৮)। তিনি বদলগাছী লাবণ্য প্রভা পাইলট ও কমিউনিটি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। আর নিহত শিক্ষার্থীর নাম তাসনিম আরা (১৪)। সে একই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং জগন্নাৎপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবুল কালাম চৌধুরীর মেয়ে। দুর্ঘটনায় আহত অপর শিক্ষিকা মমতাজ বেগম (৫৫) বর্তমানে নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উম্মে কুলসুম ও মমতাজ বেগম বোর্ড পরীক্ষার খাতা সংগ্রহের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। পথে বদলগাছী-মাতাজি সড়কের চাকরাইল বটতলী এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভ্রাম্যমাণ ধান মাড়াই মেশিনের (বঙা মেশিন) সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে দুই শিক্ষিকা গুরুতর আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উম্মে কুলসুমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে প্রিয় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থী তাসনিম আরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তাসনিমের বাবা আবুল কালাম চৌধুরী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ফেসবুকে খবর দেখে আমার মেয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল। শিক্ষিকাকে দেখতে এসেই আমার মেয়েটাও চলে গেল।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শামিন ইয়াসার জানান, শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। আর শিক্ষার্থী তাসনিম তীব্র মানসিক ধাক্কায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ওপর ধান ও খড় শুকানোর কারণে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি বলেন, ‘শিক্ষিকা ও ছাত্রীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। সড়কে ধান-খড় শুকানো বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে স্ট্রোক করে এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিক্ষিকার নাম উম্মে কুলসুম (৪৮)। তিনি বদলগাছী লাবণ্য প্রভা পাইলট ও কমিউনিটি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। আর নিহত শিক্ষার্থীর নাম তাসনিম আরা (১৪)। সে একই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং জগন্নাৎপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবুল কালাম চৌধুরীর মেয়ে। দুর্ঘটনায় আহত অপর শিক্ষিকা মমতাজ বেগম (৫৫) বর্তমানে নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উম্মে কুলসুম ও মমতাজ বেগম বোর্ড পরীক্ষার খাতা সংগ্রহের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। পথে বদলগাছী-মাতাজি সড়কের চাকরাইল বটতলী এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভ্রাম্যমাণ ধান মাড়াই মেশিনের (বঙা মেশিন) সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে দুই শিক্ষিকা গুরুতর আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উম্মে কুলসুমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে প্রিয় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থী তাসনিম আরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তাসনিমের বাবা আবুল কালাম চৌধুরী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ফেসবুকে খবর দেখে আমার মেয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল। শিক্ষিকাকে দেখতে এসেই আমার মেয়েটাও চলে গেল।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শামিন ইয়াসার জানান, শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। আর শিক্ষার্থী তাসনিম তীব্র মানসিক ধাক্কায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ওপর ধান ও খড় শুকানোর কারণে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি বলেন, ‘শিক্ষিকা ও ছাত্রীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। সড়কে ধান-খড় শুকানো বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন