বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ফুটবল মাঠের চিরন্তন সৌন্দর্যকে কলঙ্কিত করল এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক। রাউন্ড অব ৩২-এর বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়ার মাঠে দুই দলের ফুটবলাররা বুট পায়ে নামার আগেই মাঠের বাইরে শুরু হয়ে গেছে সাবেক তারকাদের তুমুল যুদ্ধ।
তবে এই কথার লড়াই এবার রূপ নিয়েছে চরম বর্ণবাদে। ফ্রান্স দলকে সরাসরি ‘আফ্রিকার স্কোয়াড’ বলে খোঁচা দিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছেন প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি গোলকিপার হোসে লুইস চিলভার্ট। ফুটবলপ্রেমীরা চিলভার্টের এই মন্তব্যকে মোটেও ভালোভাবে নেননি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
এই বাগযুদ্ধের সূত্রপাত মূলত ফ্রান্সের সাবেক ফুটবলার ক্রিস্টোফ দুগারির একটি চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য থেকে। টিভি চ্যানেল আরএমসি স্পোর্টের একটি টকশোতে প্যারাগুয়েকে রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছিলেন এই ফরাসি তারকা। ফ্রান্সের পক্ষে জোরাল ভবিষ্যদ্বাণী দিতে গিয়ে দুগারি বলেছিলেন, “(ফ্রান্সের বিপক্ষে) প্যারাগুয়ে বিধ্বস্ত হবে। অপমানিত হবে। তারা রক্ষণাত্মক খেলতে চাইবে কারণ তারা অক্ষম, তারা অক্ষম। আমি এটা দুবার বলছি যাতে পরিষ্কার হয়। আর আক্রমণাত্মক দিক থেকে তারা শোচনীয়।”
প্রতিপক্ষ দেশকে নিয়ে দুগারির এমন অবমাননাকর মন্তব্য ফুটবলীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী হলেও, এর জবাবে চিলভার্ট যা করলেন, তা পুরো ফুটবল বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
দুগারির সেই অহংকারী মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করেন প্যারাগুয়ের সাবেক গোলরক্ষক চিলভার্ট। দুগারিকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, “ক্রিস্টোফ, তুমি ঠিকই বলেছ। তবে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আমরা ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলেছিলাম। আর এবার প্যারাগুয়ে খেলবে আফ্রিকার একটি দলের বিপক্ষে।”
চিলভার্টের এমন মন্তব্যের পেছনে ফরাসি দলে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের আধিক্যের দিকে ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। কিলিয়ান এমবাপে কিংবা উসমান দেম্বেলেদের মতো তারকাদের শেকড় আফ্রিকায় হলেও তারা মনে-প্রাণে ফরাসি এবং ফ্রান্সের নাগরিক। চিলভার্টের এই যুক্তিহীন খোঁচা তাই অবলীলায় বর্ণবাদের রূপ নিয়েছে।
চিলভার্টের এই মন্তব্য দেখার পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে নিন্দার ঝড় উঠেছে। গোলকিপার হয়েও দুর্দান্ত ফ্রি-কিক ও পেনাল্টি নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে চিলভার্টের যে সুনাম ছিল, মুহূর্তের মধ্যে তা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তার পোস্টের নিচে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একজন ভক্ত লিখেছেন, ‘চিলভার্টকে আমি অনেক পছন্দ করতে শুরু করি, যখন জানতে পারি তিনি গোলকিপার হয়েও দুর্দান্ত ফ্রি কিক নিতেন। সেখান থেকে এখন কত অধঃপতন!’
অন্য আরেকজন সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “কী গর্দভের মতো কথাবার্তা!” অনেকেই একে সরাসরি বর্ণবাদী আক্রমণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফিফার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তবে এই নোংরা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি নিয়ে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মাঠের বাইরের এই বিষাক্ত আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত ফিলাডেলফিয়ার সবুজ ঘাসে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ফুটবল মাঠের চিরন্তন সৌন্দর্যকে কলঙ্কিত করল এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক। রাউন্ড অব ৩২-এর বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়ার মাঠে দুই দলের ফুটবলাররা বুট পায়ে নামার আগেই মাঠের বাইরে শুরু হয়ে গেছে সাবেক তারকাদের তুমুল যুদ্ধ।
তবে এই কথার লড়াই এবার রূপ নিয়েছে চরম বর্ণবাদে। ফ্রান্স দলকে সরাসরি ‘আফ্রিকার স্কোয়াড’ বলে খোঁচা দিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছেন প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি গোলকিপার হোসে লুইস চিলভার্ট। ফুটবলপ্রেমীরা চিলভার্টের এই মন্তব্যকে মোটেও ভালোভাবে নেননি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
এই বাগযুদ্ধের সূত্রপাত মূলত ফ্রান্সের সাবেক ফুটবলার ক্রিস্টোফ দুগারির একটি চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য থেকে। টিভি চ্যানেল আরএমসি স্পোর্টের একটি টকশোতে প্যারাগুয়েকে রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছিলেন এই ফরাসি তারকা। ফ্রান্সের পক্ষে জোরাল ভবিষ্যদ্বাণী দিতে গিয়ে দুগারি বলেছিলেন, “(ফ্রান্সের বিপক্ষে) প্যারাগুয়ে বিধ্বস্ত হবে। অপমানিত হবে। তারা রক্ষণাত্মক খেলতে চাইবে কারণ তারা অক্ষম, তারা অক্ষম। আমি এটা দুবার বলছি যাতে পরিষ্কার হয়। আর আক্রমণাত্মক দিক থেকে তারা শোচনীয়।”
প্রতিপক্ষ দেশকে নিয়ে দুগারির এমন অবমাননাকর মন্তব্য ফুটবলীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী হলেও, এর জবাবে চিলভার্ট যা করলেন, তা পুরো ফুটবল বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
দুগারির সেই অহংকারী মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করেন প্যারাগুয়ের সাবেক গোলরক্ষক চিলভার্ট। দুগারিকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, “ক্রিস্টোফ, তুমি ঠিকই বলেছ। তবে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আমরা ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলেছিলাম। আর এবার প্যারাগুয়ে খেলবে আফ্রিকার একটি দলের বিপক্ষে।”
চিলভার্টের এমন মন্তব্যের পেছনে ফরাসি দলে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের আধিক্যের দিকে ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। কিলিয়ান এমবাপে কিংবা উসমান দেম্বেলেদের মতো তারকাদের শেকড় আফ্রিকায় হলেও তারা মনে-প্রাণে ফরাসি এবং ফ্রান্সের নাগরিক। চিলভার্টের এই যুক্তিহীন খোঁচা তাই অবলীলায় বর্ণবাদের রূপ নিয়েছে।
চিলভার্টের এই মন্তব্য দেখার পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে নিন্দার ঝড় উঠেছে। গোলকিপার হয়েও দুর্দান্ত ফ্রি-কিক ও পেনাল্টি নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে চিলভার্টের যে সুনাম ছিল, মুহূর্তের মধ্যে তা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তার পোস্টের নিচে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একজন ভক্ত লিখেছেন, ‘চিলভার্টকে আমি অনেক পছন্দ করতে শুরু করি, যখন জানতে পারি তিনি গোলকিপার হয়েও দুর্দান্ত ফ্রি কিক নিতেন। সেখান থেকে এখন কত অধঃপতন!’
অন্য আরেকজন সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “কী গর্দভের মতো কথাবার্তা!” অনেকেই একে সরাসরি বর্ণবাদী আক্রমণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফিফার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তবে এই নোংরা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি নিয়ে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মাঠের বাইরের এই বিষাক্ত আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত ফিলাডেলফিয়ার সবুজ ঘাসে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন