জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-পাপ্পু, বিজু, বাদশা, জুয়েল, আশরাফুল, জসিম ও আসমত। তারা সবাই বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইদ্রিস আলী নামে এক ব্যক্তিকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথিপত্র ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫ মে দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ শেরপুর জেলার ঝগড়ারচর বাজার থেকে একটি ইজিবাইকে করে বকশীগঞ্জের জানকিপুর এলাকায় নিজের ভাড়া বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে আসামিরা ইজিবাইকটি থামিয়ে গৃহবধূকে জোরপূর্বক একটি ভ্যানে তুলে নিয়ে যান। পরে বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া উত্তরপাড়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে তারা ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক বলেন, ‘এই মামলায় ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।’
আপনার মতামত লিখুন