সংবাদ

বিশ্বকাপের ম্যাচসেরারা আসলে কত টাকা পান?


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

বিশ্বকাপের ম্যাচসেরারা আসলে কত টাকা পান?

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চ মানেই কোটি কোটি টাকার ঝলকানি। টুর্নামেন্ট জুড়ে গ্যালারি মাতানো উন্মাদনা, চোখ ধাঁধানো আয়োজন আর কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন। প্রতিটি ম্যাচ শেষেই দেখা যায় এক অন্যরকম দৃশ্য। যিনি পুরো ম্যাচে অনবদ্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন, তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ম্যাচসেরা বা ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’-এর জমকালো একটি ট্রফি।

বিশ্বের নামী-দামি তারকা ফুটবলাররা এই ট্রফিটি হাতে নিয়ে হাসিমুখে ফ্রেমবন্দি হন। ট্রফিটি হাতে নেওয়ার সময় তাদের চোখে-মুখে যে তৃপ্তি ফুটে ওঠে, তা কোটি টাকার চেয়েও যেন দামি। কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই মহামূল্যবান ম্যাচসেরার ট্রফিটির সাথে ফুটবলাররা নগদ কত টাকা পান?

২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপ থেকে অফিসিয়ালি ম্যাচসেরার পুরস্কার দেওয়া শুরু করে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা। সে সময় এবং ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা কে হবেন, তা নির্ধারণ করত ফিফার একটি বিশেষ কারিগরি প্যানেল বা ‘টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ’।

তবে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে ফুটবলপ্রেমীদের যুক্ত করতে নিয়মে বড় পরিবর্তন আনে ফিফা। তখন থেকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সরাসরি লাইভ ভোটের মাধ্যমে বেছে নেন তাদের প্রিয় ম্যাচের সেরা নায়ককে। প্রিয় তারকাকে ম্যাচসেরা বানানোর এই ডিজিটাল লড়াই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ।

শুনতে অবিশ্বাস্য এবং কিছুটা চমকপ্রদ মনে হলেও সত্যি যে, বিশ্বকাপের এই ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারটি স্রেফ একটি সম্মাননা মাত্র। এই অর্জনের জন্য ফিফার পক্ষ থেকে বিজয়ী খেলোয়াড়কে কোনো ধরনের প্রাইজমানি বা নগদ অর্থ দেওয়া হয় না। শুধু ম্যাচসেরার ট্রফিই নয়, বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুট কিংবা গোল্ডেন গ্লাভসের মতো বিশ্বকাঁপানো মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ফিফা এই ট্রফিগুলোর সঙ্গে কোনো নগদ ডলার বা ইউরো দেয় না। মাঠের লড়াইয়ে ঘাম ঝরিয়ে জেতা সেই লালিত ট্রফিটিই খেলোয়াড়দের একমাত্র প্রাপ্তি।

ফিফা সরাসরি কোনো টাকা না দিলেও, বিশ্বমঞ্চে এমন স্বীকৃতি পাওয়ার পর ফুটবলারদের ভাগ্য বদলে যায় অন্যভাবে। ম্যাচসেরা হওয়ার পর ট্রান্সফার মার্কেটে খেলোয়াড়দের দাম এক লাফে তরতরিয়ে বেড়ে যায়। বিশ্বের বড় বড় ক্লাবগুলো তখন কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাদের দলে ভেড়াতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি নামী-দামি স্পনসররা বড় অঙ্কের বোনাস নিয়ে হাজির হয় এবং বিশ্বজোড়া ব্র্যান্ড ভ্যালু বা খ্যাতি রাতারাতি আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।

ফিফা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্য সরাসরি কোনো অর্থ না দিলেও বড় অঙ্কের অর্থ দেয় দলগত সাফল্যের জন্য। যেখানে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নির্ধারিত থাকে রেকর্ড ৫ কোটি মার্কিন ডলারের প্রাইজমানি, যা সরাসরি চলে যায় সেই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের তহবিলে। ফলে ফুটবলারদের কাছে বিশ্বকাপের ম্যাচসেরার ট্রফিটি কোনো টাকার অঙ্কে মাপা যায় না; এটি এক চরম গৌরব, যা চিরকাল ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


বিশ্বকাপের ম্যাচসেরারা আসলে কত টাকা পান?

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চ মানেই কোটি কোটি টাকার ঝলকানি। টুর্নামেন্ট জুড়ে গ্যালারি মাতানো উন্মাদনা, চোখ ধাঁধানো আয়োজন আর কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন। প্রতিটি ম্যাচ শেষেই দেখা যায় এক অন্যরকম দৃশ্য। যিনি পুরো ম্যাচে অনবদ্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন, তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ম্যাচসেরা বা ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’-এর জমকালো একটি ট্রফি।

বিশ্বের নামী-দামি তারকা ফুটবলাররা এই ট্রফিটি হাতে নিয়ে হাসিমুখে ফ্রেমবন্দি হন। ট্রফিটি হাতে নেওয়ার সময় তাদের চোখে-মুখে যে তৃপ্তি ফুটে ওঠে, তা কোটি টাকার চেয়েও যেন দামি। কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই মহামূল্যবান ম্যাচসেরার ট্রফিটির সাথে ফুটবলাররা নগদ কত টাকা পান?

২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপ থেকে অফিসিয়ালি ম্যাচসেরার পুরস্কার দেওয়া শুরু করে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা। সে সময় এবং ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা কে হবেন, তা নির্ধারণ করত ফিফার একটি বিশেষ কারিগরি প্যানেল বা ‘টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ’।

তবে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে ফুটবলপ্রেমীদের যুক্ত করতে নিয়মে বড় পরিবর্তন আনে ফিফা। তখন থেকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সরাসরি লাইভ ভোটের মাধ্যমে বেছে নেন তাদের প্রিয় ম্যাচের সেরা নায়ককে। প্রিয় তারকাকে ম্যাচসেরা বানানোর এই ডিজিটাল লড়াই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ।

শুনতে অবিশ্বাস্য এবং কিছুটা চমকপ্রদ মনে হলেও সত্যি যে, বিশ্বকাপের এই ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারটি স্রেফ একটি সম্মাননা মাত্র। এই অর্জনের জন্য ফিফার পক্ষ থেকে বিজয়ী খেলোয়াড়কে কোনো ধরনের প্রাইজমানি বা নগদ অর্থ দেওয়া হয় না। শুধু ম্যাচসেরার ট্রফিই নয়, বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুট কিংবা গোল্ডেন গ্লাভসের মতো বিশ্বকাঁপানো মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ফিফা এই ট্রফিগুলোর সঙ্গে কোনো নগদ ডলার বা ইউরো দেয় না। মাঠের লড়াইয়ে ঘাম ঝরিয়ে জেতা সেই লালিত ট্রফিটিই খেলোয়াড়দের একমাত্র প্রাপ্তি।

ফিফা সরাসরি কোনো টাকা না দিলেও, বিশ্বমঞ্চে এমন স্বীকৃতি পাওয়ার পর ফুটবলারদের ভাগ্য বদলে যায় অন্যভাবে। ম্যাচসেরা হওয়ার পর ট্রান্সফার মার্কেটে খেলোয়াড়দের দাম এক লাফে তরতরিয়ে বেড়ে যায়। বিশ্বের বড় বড় ক্লাবগুলো তখন কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাদের দলে ভেড়াতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি নামী-দামি স্পনসররা বড় অঙ্কের বোনাস নিয়ে হাজির হয় এবং বিশ্বজোড়া ব্র্যান্ড ভ্যালু বা খ্যাতি রাতারাতি আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।

ফিফা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্য সরাসরি কোনো অর্থ না দিলেও বড় অঙ্কের অর্থ দেয় দলগত সাফল্যের জন্য। যেখানে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নির্ধারিত থাকে রেকর্ড ৫ কোটি মার্কিন ডলারের প্রাইজমানি, যা সরাসরি চলে যায় সেই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের তহবিলে। ফলে ফুটবলারদের কাছে বিশ্বকাপের ম্যাচসেরার ট্রফিটি কোনো টাকার অঙ্কে মাপা যায় না; এটি এক চরম গৌরব, যা চিরকাল ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত