সংবাদ

বেকহ্যাম-স্কালোনির সেই বারুদঠাসা হাতাহাতির দুই যুগ


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

বেকহ্যাম-স্কালোনির সেই বারুদঠাসা হাতাহাতির দুই যুগ

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড; ফুটবল বিশ্বের অন্যতম এক চিরন্তন ও অগ্নিগর্ভ দ্বৈরথ। বিশ্বমঞ্চে এই দুই পরাশক্তির আরেকটি হাই-ভোল্টেজ মহারণের আবহ তৈরি হতেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ফিরছে একের পর এক স্মৃতি। দুই দশকেরও বেশি সময় আগের এক পুরনো ঘটনা ফুটবলপ্রেমীদের টাইম মেশিনে চড়িয়ে ফিরিয়ে আনল মাঠের চরম উত্তেজনাকর এক মুহূর্তে। বিশেষ বিষয় হলো, সেই ঘটনার দুই প্রাক্তন ফুটবলারের বর্তমান সংযোগ এখন আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে।

আর্জেন্টিনার ডাগআউটে বসে বিশ্বজয়ী মাস্টারমাইন্ড হয়ে ওঠার অনেক আগে, লা লিগার শিরোপা নির্ধারণী এক ম্যাচে ইংল্যান্ডের তৎকালীন পোস্টার বয় ডেভিড বেকহ্যামের সঙ্গে তীব্র এক দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন লিওনেল স্কালোনি। ২৪ বছর আগের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই বারুদঠাসা হাতাহাতির গল্পই এখন বিশ্বমঞ্চের রোমাঞ্চে নতুন করে ফিরে আসছে। মাঠের সেই উত্তপ্ত লড়াই একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে সতীর্থরা ছুটে এসে দুই তারকাকে টেনে না থামালে মাঠেই বেঁধে যেত তুলকালাম এক যুদ্ধ।

সেদিন লা লিগার শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও দেপোর্তিভো লা করুনিয়া। ম্যাচের তখন একদম শেষ দিক। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রাউলের করা এক দুর্দান্ত গোলে সবেমাত্র ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই এক গোলেই রিয়ালের লিগ শিরোপা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, আর অন্যদিকে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় দেপোর্তিভো। ঠিক এমন স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি থাকতে মাঠের ভেতরের চাপা ক্ষোভ রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়।

রিয়ালের সেই এগিয়ে যাওয়া গোলের পরপরই মাঝমাঠে পেছন থেকে লিওনেল স্কালোনিকে ফাউল করে বসেন ডেভিড বেকহ্যাম। দুজনই মাটিতে পড়ে যান এবং আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার স্কালোনি মুহূর্তেই এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। ম্যাচের হাতছাড়া হতে যাওয়া ফলাফল আর বেকহ্যামের এমন বিপজ্জনক ট্যাকল; সব মিলিয়ে রাগ সামলাতে না পেরে স্কালোনি সটান দাঁড়িয়ে সোজা ইংলিশ তারকার মুখোমুখি হন। ইংলিশ মিডফিল্ডারও পিছু হটার পাত্র ছিলেন না। মাঠের উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে দুজনের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।

তবে মাঠের এই হাতাহাতি যেন পূর্ণাঙ্গ কোনো মারামারিতে রূপ না নেয়, সে জন্য রিয়ালের রবার্তো কার্লোসসহ দুই দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দ্রুত ছুটে এসে দুজনকে টেনে আলাদা করেন। শেষ পর্যন্ত রেফারি দুজনকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠের পরিস্থিতি শান্ত করেন।

বহু বছর পর, আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সব রাজকীয় সাফল্যের নেপথ্য কারিগর হয়ে ওঠার পর, স্কালোনি নিজেই সেই পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করেছিলেন। আলবিসেলেস্তা কোচ স্বীকার করেন, বেকহ্যামের সেই ট্যাকলটি ছিল আসলে বারুদে দেশলাই মারার মতো; যা মূলত জমে থাকা হতাশার এক বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্কালোনি বলেন, "আমরা ওদের ঘরের মাঠে, ওদেরই বিপক্ষে শিরোপার জন্য লড়াই করছিলাম। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক তিন মিনিট আগে ওরা ২-১ গোলে এগিয়ে যায়।"

স্কালোনি আরও জানান, ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও তাঁর ভেতরের সেই রাগ পানি হয়ে যায়নি। যখন বেকহ্যাম বার্নাব্যুর গ্যালারিতে রিয়াল সমর্থকদের সঙ্গে উল্লাসে মাতোয়ারা, তখন এই আর্জেন্টাইন মাঠের সেই হৃদয়বিদারক পরাজয় মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে তাঁর কাছে এটা ছিল স্রেফ মাঠের সেই চিরচেনা জেদ আর লড়াইয়ের মানসিকতা, যা ক্যারিয়ারজুড়ে সবসময় তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত।

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের ফুটবলীয় দ্বৈরথে নতুন কোনো বারুদ যোগ করার প্রয়োজন এমনিতেই পড়ে না। তবে এই পুরনো ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম আইকনিক এই মহারণকে আরও একধাপ রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। কারণ, ঠিক তার এক বছর আগেই, ২০০২ বিশ্বকাপে এই ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলেই মার্সেলো বিয়েলসার আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। যে হারের খেসারত হিসেবে সেবার গ্রুপ পর্ব থেকেই আলবিসেলেস্তেদের অবিশ্বাস্য বিদায় ঘটেছিল।

দুই দশকেরও বেশি সময় পর, বিশ্বমঞ্চে ফুটবলীয় মহাযুদ্ধে আবারও মুখোমুখি এই দুই পরাশক্তি। স্কালোনি এখন আর দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার রাইট-ব্যাক হিসেবে মাঠ দাপিয়ে বেড়ান না; তবে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে এবার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ইংল্যান্ডের বাধা পার করানোর ছক কষবেন তিনি। আর সেই সঙ্গে হয়তো মিটিয়ে নিতে চাইবেন ২৪ বছর ধরে মনে জমে থাকা এক পুরনো হিসাবও।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


বেকহ্যাম-স্কালোনির সেই বারুদঠাসা হাতাহাতির দুই যুগ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড; ফুটবল বিশ্বের অন্যতম এক চিরন্তন ও অগ্নিগর্ভ দ্বৈরথ। বিশ্বমঞ্চে এই দুই পরাশক্তির আরেকটি হাই-ভোল্টেজ মহারণের আবহ তৈরি হতেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ফিরছে একের পর এক স্মৃতি। দুই দশকেরও বেশি সময় আগের এক পুরনো ঘটনা ফুটবলপ্রেমীদের টাইম মেশিনে চড়িয়ে ফিরিয়ে আনল মাঠের চরম উত্তেজনাকর এক মুহূর্তে। বিশেষ বিষয় হলো, সেই ঘটনার দুই প্রাক্তন ফুটবলারের বর্তমান সংযোগ এখন আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে।

আর্জেন্টিনার ডাগআউটে বসে বিশ্বজয়ী মাস্টারমাইন্ড হয়ে ওঠার অনেক আগে, লা লিগার শিরোপা নির্ধারণী এক ম্যাচে ইংল্যান্ডের তৎকালীন পোস্টার বয় ডেভিড বেকহ্যামের সঙ্গে তীব্র এক দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন লিওনেল স্কালোনি। ২৪ বছর আগের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই বারুদঠাসা হাতাহাতির গল্পই এখন বিশ্বমঞ্চের রোমাঞ্চে নতুন করে ফিরে আসছে। মাঠের সেই উত্তপ্ত লড়াই একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে সতীর্থরা ছুটে এসে দুই তারকাকে টেনে না থামালে মাঠেই বেঁধে যেত তুলকালাম এক যুদ্ধ।

সেদিন লা লিগার শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও দেপোর্তিভো লা করুনিয়া। ম্যাচের তখন একদম শেষ দিক। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রাউলের করা এক দুর্দান্ত গোলে সবেমাত্র ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই এক গোলেই রিয়ালের লিগ শিরোপা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, আর অন্যদিকে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় দেপোর্তিভো। ঠিক এমন স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি থাকতে মাঠের ভেতরের চাপা ক্ষোভ রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়।

রিয়ালের সেই এগিয়ে যাওয়া গোলের পরপরই মাঝমাঠে পেছন থেকে লিওনেল স্কালোনিকে ফাউল করে বসেন ডেভিড বেকহ্যাম। দুজনই মাটিতে পড়ে যান এবং আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার স্কালোনি মুহূর্তেই এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। ম্যাচের হাতছাড়া হতে যাওয়া ফলাফল আর বেকহ্যামের এমন বিপজ্জনক ট্যাকল; সব মিলিয়ে রাগ সামলাতে না পেরে স্কালোনি সটান দাঁড়িয়ে সোজা ইংলিশ তারকার মুখোমুখি হন। ইংলিশ মিডফিল্ডারও পিছু হটার পাত্র ছিলেন না। মাঠের উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে দুজনের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।

তবে মাঠের এই হাতাহাতি যেন পূর্ণাঙ্গ কোনো মারামারিতে রূপ না নেয়, সে জন্য রিয়ালের রবার্তো কার্লোসসহ দুই দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দ্রুত ছুটে এসে দুজনকে টেনে আলাদা করেন। শেষ পর্যন্ত রেফারি দুজনকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠের পরিস্থিতি শান্ত করেন।

বহু বছর পর, আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সব রাজকীয় সাফল্যের নেপথ্য কারিগর হয়ে ওঠার পর, স্কালোনি নিজেই সেই পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করেছিলেন। আলবিসেলেস্তা কোচ স্বীকার করেন, বেকহ্যামের সেই ট্যাকলটি ছিল আসলে বারুদে দেশলাই মারার মতো; যা মূলত জমে থাকা হতাশার এক বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্কালোনি বলেন, "আমরা ওদের ঘরের মাঠে, ওদেরই বিপক্ষে শিরোপার জন্য লড়াই করছিলাম। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক তিন মিনিট আগে ওরা ২-১ গোলে এগিয়ে যায়।"

স্কালোনি আরও জানান, ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও তাঁর ভেতরের সেই রাগ পানি হয়ে যায়নি। যখন বেকহ্যাম বার্নাব্যুর গ্যালারিতে রিয়াল সমর্থকদের সঙ্গে উল্লাসে মাতোয়ারা, তখন এই আর্জেন্টাইন মাঠের সেই হৃদয়বিদারক পরাজয় মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে তাঁর কাছে এটা ছিল স্রেফ মাঠের সেই চিরচেনা জেদ আর লড়াইয়ের মানসিকতা, যা ক্যারিয়ারজুড়ে সবসময় তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত।

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের ফুটবলীয় দ্বৈরথে নতুন কোনো বারুদ যোগ করার প্রয়োজন এমনিতেই পড়ে না। তবে এই পুরনো ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম আইকনিক এই মহারণকে আরও একধাপ রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। কারণ, ঠিক তার এক বছর আগেই, ২০০২ বিশ্বকাপে এই ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলেই মার্সেলো বিয়েলসার আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। যে হারের খেসারত হিসেবে সেবার গ্রুপ পর্ব থেকেই আলবিসেলেস্তেদের অবিশ্বাস্য বিদায় ঘটেছিল।

দুই দশকেরও বেশি সময় পর, বিশ্বমঞ্চে ফুটবলীয় মহাযুদ্ধে আবারও মুখোমুখি এই দুই পরাশক্তি। স্কালোনি এখন আর দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার রাইট-ব্যাক হিসেবে মাঠ দাপিয়ে বেড়ান না; তবে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে এবার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ইংল্যান্ডের বাধা পার করানোর ছক কষবেন তিনি। আর সেই সঙ্গে হয়তো মিটিয়ে নিতে চাইবেন ২৪ বছর ধরে মনে জমে থাকা এক পুরনো হিসাবও।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত