ফুটবল স্রেফ ৯০ মিনিটের কোনো খেলা নয়, এটি যে এক আবেগের মহাসমুদ্র, তার প্রমাণ মিলল আবারও। মাঠের সবুজ গালিচায় আর্লিং হলান্ডের পায়ের জাদু এবার কাঁপন ধরিয়েছে মাঠের বাইরে, সুদূর লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর হাজারো ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে। বিশ্বকাপে একের পর এক গোল করে আলো ছড়ানো নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে পেরুর নবজাতকদের নামকরণে। বিশ্বমঞ্চে মেসি, নেইমার কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যে তুমুল ক্রেজ ছিল, সেখানে এবার রাজকীয়ভাবে ভাগ বসালেন নরওয়েজিয়ান এই গোলমেশিন।
পেরুর জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংস্থা (রেনিয়েক) সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ও রোমাঞ্চকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে পেরুতে জন্ম নেওয়া ৪৯৮ জন নবজাতকের নামের সাথে যুক্ত করা হয়েছে ‘হলান্ড’ শব্দটি। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে ৯১ জন শিশুর পুরো নামই রাখা হয়েছে হুবহু ‘আর্লিং হালান্ড’।
এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এখানেই থেমে থাকেনি, অন্তত ৪ জন নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে একেবারে পূর্ণাঙ্গ রূপে— ‘আর্লিং ব্রাউট হলান্ড’। উল্লেখ্য, ব্রাউট মূলত এই ফুটবলারের মায়ের নাম এবং বাবার নাম থেকে তার নামের সাথে যুক্ত হয়েছে হলান্ড। ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার যেন পেরুর মা-বাবাদের কাছে এক নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন হলান্ড। শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত জোড়া গোল করে নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম শেষ আটে পৌঁছানোর অনন্য গৌরব অর্জন করে নরওয়ে। যদিও পরে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের, কিন্তু হলান্ডের সেই লড়াকু মানসিকতা দাগ কেটে গেছে কোটি ভক্তের মনে।
হলান্ডের নামে এভাবে নাম রাখার ব্যাপারে রেনিয়েকের মুখপাত্র ইভান তোরেস আবেগময় কণ্ঠে বলেন, "ফুটবল তারকারা পেরুর মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা। তাই অনেকেই নিজেদের সন্তানের নাম তাদের নামে রাখেন।"
সংস্থাটির তথ্য বলছে, নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর ‘হলান্ড’ নাম নিবন্ধনের হার নাটকীয়ভাবে আরও বেড়ে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তোরেসের চমৎকার মন্তব্য, "হলান্ড এখন পেরুরও একজন।"
পেরুতে ফুটবল তারকাদের নামে সন্তানের নাম রাখার এই সংস্কৃতি অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকারা এভাবেই পেরুভিয়ানদের মজ্জায় মজ্জায় মিশে গেছেন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পেরুতে বর্তমানে ৩ হাজার ৪০২ জনের নাম রাখা হয়েছে আর্জেন্টাইন জাদুকর ‘মেসি’র নামে, যার মধ্যে ২৯২ জনের পুরো নামই ‘লিওনেল মেসি’। অন্যদিকে পর্তুগিজ যুবরাজ ‘ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো’র নামে নাম রয়েছে ১ হাজার ১৮৫ জনের এবং স্প্যানিশ বিস্ময় বালক ‘ইয়ামাল’-এর নামে রয়েছে ১ হাজার ২৪১ জন।
তবে পেরুর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমারের নাম। দেশটিতে অবিশ্বাস্যভাবে ৩৩ হাজার ৮০৯ জনের নাম রাখা হয়েছে ‘নেইমার’। আর সেই তালিকায় এবার ধুমকেতুর মতো যুক্ত হলো হলান্ডের নাম। ফুটবল যে ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষকে কতটা কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে, সুদূর লাতিন আমেরিকার বুকে ইউরোপের এক নরওয়েজিয়ান তারকার এই জয়ধ্বনি যেন তারই জীবন্ত প্রমাণ।

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
ফুটবল স্রেফ ৯০ মিনিটের কোনো খেলা নয়, এটি যে এক আবেগের মহাসমুদ্র, তার প্রমাণ মিলল আবারও। মাঠের সবুজ গালিচায় আর্লিং হলান্ডের পায়ের জাদু এবার কাঁপন ধরিয়েছে মাঠের বাইরে, সুদূর লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর হাজারো ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে। বিশ্বকাপে একের পর এক গোল করে আলো ছড়ানো নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে পেরুর নবজাতকদের নামকরণে। বিশ্বমঞ্চে মেসি, নেইমার কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যে তুমুল ক্রেজ ছিল, সেখানে এবার রাজকীয়ভাবে ভাগ বসালেন নরওয়েজিয়ান এই গোলমেশিন।
পেরুর জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংস্থা (রেনিয়েক) সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ও রোমাঞ্চকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে পেরুতে জন্ম নেওয়া ৪৯৮ জন নবজাতকের নামের সাথে যুক্ত করা হয়েছে ‘হলান্ড’ শব্দটি। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে ৯১ জন শিশুর পুরো নামই রাখা হয়েছে হুবহু ‘আর্লিং হালান্ড’।
এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এখানেই থেমে থাকেনি, অন্তত ৪ জন নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে একেবারে পূর্ণাঙ্গ রূপে— ‘আর্লিং ব্রাউট হলান্ড’। উল্লেখ্য, ব্রাউট মূলত এই ফুটবলারের মায়ের নাম এবং বাবার নাম থেকে তার নামের সাথে যুক্ত হয়েছে হলান্ড। ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার যেন পেরুর মা-বাবাদের কাছে এক নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন হলান্ড। শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত জোড়া গোল করে নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম শেষ আটে পৌঁছানোর অনন্য গৌরব অর্জন করে নরওয়ে। যদিও পরে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের, কিন্তু হলান্ডের সেই লড়াকু মানসিকতা দাগ কেটে গেছে কোটি ভক্তের মনে।
হলান্ডের নামে এভাবে নাম রাখার ব্যাপারে রেনিয়েকের মুখপাত্র ইভান তোরেস আবেগময় কণ্ঠে বলেন, "ফুটবল তারকারা পেরুর মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা। তাই অনেকেই নিজেদের সন্তানের নাম তাদের নামে রাখেন।"
সংস্থাটির তথ্য বলছে, নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর ‘হলান্ড’ নাম নিবন্ধনের হার নাটকীয়ভাবে আরও বেড়ে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তোরেসের চমৎকার মন্তব্য, "হলান্ড এখন পেরুরও একজন।"
পেরুতে ফুটবল তারকাদের নামে সন্তানের নাম রাখার এই সংস্কৃতি অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকারা এভাবেই পেরুভিয়ানদের মজ্জায় মজ্জায় মিশে গেছেন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পেরুতে বর্তমানে ৩ হাজার ৪০২ জনের নাম রাখা হয়েছে আর্জেন্টাইন জাদুকর ‘মেসি’র নামে, যার মধ্যে ২৯২ জনের পুরো নামই ‘লিওনেল মেসি’। অন্যদিকে পর্তুগিজ যুবরাজ ‘ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো’র নামে নাম রয়েছে ১ হাজার ১৮৫ জনের এবং স্প্যানিশ বিস্ময় বালক ‘ইয়ামাল’-এর নামে রয়েছে ১ হাজার ২৪১ জন।
তবে পেরুর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমারের নাম। দেশটিতে অবিশ্বাস্যভাবে ৩৩ হাজার ৮০৯ জনের নাম রাখা হয়েছে ‘নেইমার’। আর সেই তালিকায় এবার ধুমকেতুর মতো যুক্ত হলো হলান্ডের নাম। ফুটবল যে ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষকে কতটা কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে, সুদূর লাতিন আমেরিকার বুকে ইউরোপের এক নরওয়েজিয়ান তারকার এই জয়ধ্বনি যেন তারই জীবন্ত প্রমাণ।

আপনার মতামত লিখুন