ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ। মাঠে যখন ফুটবল তারকারা ইতিহাস গড়ছেন, মাঠের বাইরে তখন চলছে শত কোটি ডলারের বাণিজ্য। কিন্তু সবাই কি লাভ করছে? না, অনেকেই লাভ করছেন। তবে আবার হারছেনও অনেকে।
জয়ী ফিফা: ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করছে। কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ থেকে তারা পেয়েছিল ৭.৬ বিলিয়ন ডলার। এবার তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডয়চে ব্যাংকের গবেষক মারিয়ন লাবুরে বলছেন, চার বছরের চক্রে ফিফার আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ- সব মিলিয়ে ফিফা 'কোনো সন্দেহ ছাড়াই' প্রধান লাভবান পক্ষ।তারা অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্ম থেকেও লেনদেনের ১৫ শতাংশ ফি নিচ্ছে।
জয়ী সম্প্রচারকারী ও স্পনসর: সম্প্রচারকারীরা টুর্নামেন্ট দেখানোর জন্য অনেক টাকা খরচ করলেও বিজ্ঞাপন বিক্রি করে তারা বিশাল অঙ্কের টাকা আয় করতে পারে। ফক্স স্পোর্টস প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কিনলেও, একটি ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন স্লটের দাম ২ থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে। যা মার্কিন ম্যাচের শেষ পর্যায়গুলোতে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছেছিল।
এই টুর্নামেন্টে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি বিরতি চালু করেছে ফিফা। যা সম্প্রচারকারী ও স্পনসরদের জন্য একটি নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করেছে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই বিরতির বিজ্ঞাপন থেকে আয় হতে পারে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। অফিসিয়াল স্পনসর অ্যাডিডাস ও কোকা-কোলার মতো ব্র্যান্ডগুলো নিশ্চিতভাবেই লাভবান হয় ।
জয়ী ডেভিড বেকহ্যাম: মাঠ ছেড়েছেন অনেক আগেই।কিন্তু বাণিজ্যিক দুনিয়ায় তিনি এখনও বড় জয়ী। অ্যাডিডাসের মূল বিজ্ঞাপনে তার এআই সংস্করণ রয়েছে।হোম ডিপো থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক অব আমেরিকা পর্যন্ত এতো বেশি বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছেন যে, কোন ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন তা ভুলে যাওয়ার উপক্রম!তার সহ-মালিকানাধীন ইন্টার মায়ামি আনুমানিক ১.৪৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মেজর লিগ সকারের সবচেয়ে মূল্যবান ফ্র্যাঞ্চাইজি।
জয়ী জুয়া কোম্পানি: ২০২৬ বিশ্বকাপ সর্বকালের সবচেয়ে বড় জুয়ার ইভেন্ট হওয়ার পথে রয়েছে। আনুমানিক ৫০ বিলিয়ন ডলার বাজি ধরা হচ্ছে; প্রতি ম্যাচে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। দল সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালের ৬৪টি ম্যাচের জায়গায় এবার ১০৪টি ম্যাচ খেলা হচ্ছে। যা বাজির পরিমাণ বাড়িয়েছে। ম্যাচ চলাকালীন বাজির (ইন-প্লে বেটিং) ওপর জোর বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভক্তরা: ভক্তদের জন্য এই টুর্নামেন্ট আর্থিকভাবে ছিল কঠিন। ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ নীতিতে টিকিটের দাম চড়া। ফাইনালের একটি টিকিট অফিসিয়ালি ৩২ হাজার ৯৭০ ডলারে অফার করা হয়েছিল। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, তিনি নিজের দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের সম্ভাব্য ১ হাজার ডলার টিকিটের দাম দিতে চাইতেন না। টিকিট ছাড়াও বিমান ভাড়া, খাবার ও আবাসন খরচের কারণেও ভক্তদের পকেট খালি হয়েছে। নিউ জার্সি ট্রানজিট ট্রেনের টিকিটের দাম ১২.৯০ ডলার থেকে এক লাফে বেড়ে ১৫০ ডলার হয়েছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত আয়োজক শহর: ফুটবল ভক্ত ও পর্যটকদের ঢলকে আমেরিকার ১৬টি শহর স্বাগত জানাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুবিধা খুবই সামান্য। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফেলো আলেকজান্ডার বুডজিয়ার বলেন, এই ধরনের বড় ইভেন্টের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুবিধা আসলে দেখা যায় না।আয়োজক শহরগুলোতে প্রায়ই পর্যটকদের সংখ্যা কমে যায়। কারণ অনেকে বিশৃঙ্খলা এড়াতে অন্য কোথাও চলে যায়। কর্মসংস্থানও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কম বেতনের। যা সম্পদ তৈরি করে না।
ক্ষতির শিকার হোটেল: হোটেল রুমের যে চাহিদার আশা করা হয়েছিল তা পূরণ হয়নি। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন ফিফার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে তারা নিজেদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত রুম ব্লক করে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করেছিল। একটি জরিপে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ মার্কিন হোটেল অপারেটর জানিয়েছেন বুকিং তাদের পূর্বাভাসের চেয়ে কম ছিল। অনেকেই এই টুর্নামেন্টটিকে ‘নন-ইভেন্ট’ বা গুরুত্বহীন ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সূত্র: বিবিসি।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ। মাঠে যখন ফুটবল তারকারা ইতিহাস গড়ছেন, মাঠের বাইরে তখন চলছে শত কোটি ডলারের বাণিজ্য। কিন্তু সবাই কি লাভ করছে? না, অনেকেই লাভ করছেন। তবে আবার হারছেনও অনেকে।
জয়ী ফিফা: ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করছে। কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ থেকে তারা পেয়েছিল ৭.৬ বিলিয়ন ডলার। এবার তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডয়চে ব্যাংকের গবেষক মারিয়ন লাবুরে বলছেন, চার বছরের চক্রে ফিফার আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ- সব মিলিয়ে ফিফা 'কোনো সন্দেহ ছাড়াই' প্রধান লাভবান পক্ষ।তারা অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্ম থেকেও লেনদেনের ১৫ শতাংশ ফি নিচ্ছে।
জয়ী সম্প্রচারকারী ও স্পনসর: সম্প্রচারকারীরা টুর্নামেন্ট দেখানোর জন্য অনেক টাকা খরচ করলেও বিজ্ঞাপন বিক্রি করে তারা বিশাল অঙ্কের টাকা আয় করতে পারে। ফক্স স্পোর্টস প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কিনলেও, একটি ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন স্লটের দাম ২ থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে। যা মার্কিন ম্যাচের শেষ পর্যায়গুলোতে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছেছিল।
এই টুর্নামেন্টে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি বিরতি চালু করেছে ফিফা। যা সম্প্রচারকারী ও স্পনসরদের জন্য একটি নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করেছে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই বিরতির বিজ্ঞাপন থেকে আয় হতে পারে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। অফিসিয়াল স্পনসর অ্যাডিডাস ও কোকা-কোলার মতো ব্র্যান্ডগুলো নিশ্চিতভাবেই লাভবান হয় ।
জয়ী ডেভিড বেকহ্যাম: মাঠ ছেড়েছেন অনেক আগেই।কিন্তু বাণিজ্যিক দুনিয়ায় তিনি এখনও বড় জয়ী। অ্যাডিডাসের মূল বিজ্ঞাপনে তার এআই সংস্করণ রয়েছে।হোম ডিপো থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক অব আমেরিকা পর্যন্ত এতো বেশি বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছেন যে, কোন ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন তা ভুলে যাওয়ার উপক্রম!তার সহ-মালিকানাধীন ইন্টার মায়ামি আনুমানিক ১.৪৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মেজর লিগ সকারের সবচেয়ে মূল্যবান ফ্র্যাঞ্চাইজি।
জয়ী জুয়া কোম্পানি: ২০২৬ বিশ্বকাপ সর্বকালের সবচেয়ে বড় জুয়ার ইভেন্ট হওয়ার পথে রয়েছে। আনুমানিক ৫০ বিলিয়ন ডলার বাজি ধরা হচ্ছে; প্রতি ম্যাচে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। দল সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালের ৬৪টি ম্যাচের জায়গায় এবার ১০৪টি ম্যাচ খেলা হচ্ছে। যা বাজির পরিমাণ বাড়িয়েছে। ম্যাচ চলাকালীন বাজির (ইন-প্লে বেটিং) ওপর জোর বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভক্তরা: ভক্তদের জন্য এই টুর্নামেন্ট আর্থিকভাবে ছিল কঠিন। ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ নীতিতে টিকিটের দাম চড়া। ফাইনালের একটি টিকিট অফিসিয়ালি ৩২ হাজার ৯৭০ ডলারে অফার করা হয়েছিল। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, তিনি নিজের দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের সম্ভাব্য ১ হাজার ডলার টিকিটের দাম দিতে চাইতেন না। টিকিট ছাড়াও বিমান ভাড়া, খাবার ও আবাসন খরচের কারণেও ভক্তদের পকেট খালি হয়েছে। নিউ জার্সি ট্রানজিট ট্রেনের টিকিটের দাম ১২.৯০ ডলার থেকে এক লাফে বেড়ে ১৫০ ডলার হয়েছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত আয়োজক শহর: ফুটবল ভক্ত ও পর্যটকদের ঢলকে আমেরিকার ১৬টি শহর স্বাগত জানাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুবিধা খুবই সামান্য। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফেলো আলেকজান্ডার বুডজিয়ার বলেন, এই ধরনের বড় ইভেন্টের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুবিধা আসলে দেখা যায় না।আয়োজক শহরগুলোতে প্রায়ই পর্যটকদের সংখ্যা কমে যায়। কারণ অনেকে বিশৃঙ্খলা এড়াতে অন্য কোথাও চলে যায়। কর্মসংস্থানও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কম বেতনের। যা সম্পদ তৈরি করে না।
ক্ষতির শিকার হোটেল: হোটেল রুমের যে চাহিদার আশা করা হয়েছিল তা পূরণ হয়নি। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন ফিফার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে তারা নিজেদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত রুম ব্লক করে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করেছিল। একটি জরিপে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ মার্কিন হোটেল অপারেটর জানিয়েছেন বুকিং তাদের পূর্বাভাসের চেয়ে কম ছিল। অনেকেই এই টুর্নামেন্টটিকে ‘নন-ইভেন্ট’ বা গুরুত্বহীন ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সূত্র: বিবিসি।

আপনার মতামত লিখুন