মৃত নারীদের ময়নাতদন্তের জন্য নারী ডোম বা ময়নাতদন্তকারী সহায়ক নিয়োগের বিষয়ে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
পুরুষ ডোমদের দ্বারা নারীদের লাশের ময়নাতদন্ত করাকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে অভিহিত করে রিট আবেদনে এ দাবি জানানো হয়।
রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনির উদ্দীন। আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। শুনানি শেষে তিনি বলেন, গত ১৩ মে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে যেসব নারী মারা যান, তাদের কেন নারী ডোম দিয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে না। কিন্তু সেই আবেদনের কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি গত ৩০ জুন রিট দায়ের করেন।
আইনজীবী বলেন, ময়নাতদন্তের সময় কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে মুন্না ভগত নামের এক ব্যক্তি লাশের সঙ্গে ধর্ষণ করে। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এক মৃত তরুণীর সঙ্গে ডোম আবু সাঈদের ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও কেনেথ ডগলাস নামের এক ব্যক্তি ১০০ লাশের সঙ্গে ধর্ষণের কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে পর্যাপ্ত নারী ডোম পাওয়া যাবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মনির উদ্দীন বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যে নারী ডোম নিয়োগ হয়েছে। স্কুল-কলেজে নারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি নার্স থেকে ডাক্তার- সব জায়গায় নারীরা নিয়োগ পাচ্ছে। সুতরাং সার্কুলার দিলে অবশ্যই নারী ডোম পাওয়া যাবে।’
রিট আবেদনে মৃত নারীদের ময়নাতদন্ত পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরি করতে এবং আইন অনুযায়ী মৃত নারীদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার্থে যেখানে সম্ভব সেখানে নারী কর্মীদের (ডোম) দিয়ে ময়নাতদন্ত করার পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, পুরুষ ডোম বা ময়নাতদন্তকারী সহায়ককে দিয়ে মৃত নারীদের ময়নাতদন্ত করার চর্চা ‘অসংবেদনশীল, যা ধর্মীয় মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং মৃতের প্রতি সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।’

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
মৃত নারীদের ময়নাতদন্তের জন্য নারী ডোম বা ময়নাতদন্তকারী সহায়ক নিয়োগের বিষয়ে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
পুরুষ ডোমদের দ্বারা নারীদের লাশের ময়নাতদন্ত করাকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে অভিহিত করে রিট আবেদনে এ দাবি জানানো হয়।
রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনির উদ্দীন। আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। শুনানি শেষে তিনি বলেন, গত ১৩ মে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে যেসব নারী মারা যান, তাদের কেন নারী ডোম দিয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে না। কিন্তু সেই আবেদনের কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি গত ৩০ জুন রিট দায়ের করেন।
আইনজীবী বলেন, ময়নাতদন্তের সময় কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে মুন্না ভগত নামের এক ব্যক্তি লাশের সঙ্গে ধর্ষণ করে। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এক মৃত তরুণীর সঙ্গে ডোম আবু সাঈদের ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও কেনেথ ডগলাস নামের এক ব্যক্তি ১০০ লাশের সঙ্গে ধর্ষণের কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে পর্যাপ্ত নারী ডোম পাওয়া যাবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মনির উদ্দীন বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যে নারী ডোম নিয়োগ হয়েছে। স্কুল-কলেজে নারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি নার্স থেকে ডাক্তার- সব জায়গায় নারীরা নিয়োগ পাচ্ছে। সুতরাং সার্কুলার দিলে অবশ্যই নারী ডোম পাওয়া যাবে।’
রিট আবেদনে মৃত নারীদের ময়নাতদন্ত পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরি করতে এবং আইন অনুযায়ী মৃত নারীদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার্থে যেখানে সম্ভব সেখানে নারী কর্মীদের (ডোম) দিয়ে ময়নাতদন্ত করার পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, পুরুষ ডোম বা ময়নাতদন্তকারী সহায়ককে দিয়ে মৃত নারীদের ময়নাতদন্ত করার চর্চা ‘অসংবেদনশীল, যা ধর্মীয় মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং মৃতের প্রতি সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।’

আপনার মতামত লিখুন