সংবাদ

সংসদে প্রশ্ন জামায়াত এমপির

‘আর কত মৃত্যু হলে সড়কমন্ত্রী অস্বস্তি বোধ করবেন’


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

‘আর কত মৃত্যু হলে সড়কমন্ত্রী অস্বস্তি বোধ করবেন’
ঈদ যাত্রায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম মিলন

এবারের ঈদ যাত্রা স্বস্তিমূলক ছিল- সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম মিলন।

ঈদ যাত্রায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে ঢাকা-১২ আসনের এই এমপি বলেন, “আর কত লোক মারা গেলে তিনি (সড়ক পরিবহন মন্ত্রী) অস্বস্তিবোধ করবেন?”

সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে (অনির্ধারিত আলোচনা) দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রশ্ন করেন। সাইফুল আলম বলেন, “রোববার সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ঈদ যাত্রা সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ঈদ যাত্রা স্বস্তি ছিল বলে দাবি করেছেন। কিন্তু ঈদ যাত্রার ‌‌স্বস্তিটা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।” 

ঢাকা-১২ আসনের এই এমপি বলেন, “বিআরটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী ঈদ যাত্রায় ১৭০ জন মারা গেছেন। যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৭০ জন। এরপর দৌলতদিয়ায় একটা বাস পানির নিচে চলে গেল। অথচ সড়কমন্ত্রী বললেন- স্বস্তির যাত্রা ছিল। আমার প্রশ্ন হল- আর কত লোক মারা গেলে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন?”

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের এমপি সাইফুল আলম মিলন বলেন, “দৌলতদিয়ায় এত মারা গেল কিন্তু সড়ক পরিবহন মন্ত্রী গেলেন না। ওখানে যারা মারা গেছেন তাদের মাত্র ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।”

সাইফুল আলম মিলন বলেন, “সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর বিবৃতি দিলেন। আমরাতো ওয়েস্ট মিনিস্টার সংসদীয় কার্যক্রম ফলো করি। ব্রিটেন হলে তো তিনি এতক্ষণে পদত্যাগ করতেন। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী পদত্যাগের করবেন কিনা? তিনি পদত্যাগের চিন্তা করবেন কিনা?”

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন জামায়াতের এমপি শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, “মন্ত্রীরা অনেক বিজ্ঞ! কিন্তু আইনমন্ত্রী এক ধরণের বক্তব্য রাখেন কিন্তু তার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বৈপরীত্য দেখা গেছে। যেটা আইনমন্ত্রী জবাব দেবেন, সেটা আইনমন্ত্রী দিলেই ভালো হয়। আমরা আইনমন্ত্রীর বক্তব্যটা গ্রহণ করতে পারি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য রাখেন সেটাতে ভিন্নতা দেখা যায়।”

মন্ত্রীদের প্রাসঙ্গিক অনুযায়ী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন বিরোধী দলের এই এমপি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে নিয়ে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের জবাব দিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। বলেন, তিনি আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। বিএনপি এমন নেতার আদর্শে গঠিত, সেখানে কোনো বিভাজন নাই। যাদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা অত্যন্ত যোগ্যব্যক্তি, তাদের মধ্যে বিভাজন নেই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


‘আর কত মৃত্যু হলে সড়কমন্ত্রী অস্বস্তি বোধ করবেন’

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image

এবারের ঈদ যাত্রা স্বস্তিমূলক ছিল- সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম মিলন।

ঈদ যাত্রায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে ঢাকা-১২ আসনের এই এমপি বলেন, “আর কত লোক মারা গেলে তিনি (সড়ক পরিবহন মন্ত্রী) অস্বস্তিবোধ করবেন?”

সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে (অনির্ধারিত আলোচনা) দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রশ্ন করেন। সাইফুল আলম বলেন, “রোববার সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ঈদ যাত্রা সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ঈদ যাত্রা স্বস্তি ছিল বলে দাবি করেছেন। কিন্তু ঈদ যাত্রার ‌‌স্বস্তিটা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।” 

ঢাকা-১২ আসনের এই এমপি বলেন, “বিআরটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী ঈদ যাত্রায় ১৭০ জন মারা গেছেন। যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৭০ জন। এরপর দৌলতদিয়ায় একটা বাস পানির নিচে চলে গেল। অথচ সড়কমন্ত্রী বললেন- স্বস্তির যাত্রা ছিল। আমার প্রশ্ন হল- আর কত লোক মারা গেলে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন?”

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের এমপি সাইফুল আলম মিলন বলেন, “দৌলতদিয়ায় এত মারা গেল কিন্তু সড়ক পরিবহন মন্ত্রী গেলেন না। ওখানে যারা মারা গেছেন তাদের মাত্র ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।”

সাইফুল আলম মিলন বলেন, “সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর বিবৃতি দিলেন। আমরাতো ওয়েস্ট মিনিস্টার সংসদীয় কার্যক্রম ফলো করি। ব্রিটেন হলে তো তিনি এতক্ষণে পদত্যাগ করতেন। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী পদত্যাগের করবেন কিনা? তিনি পদত্যাগের চিন্তা করবেন কিনা?”

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন জামায়াতের এমপি শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, “মন্ত্রীরা অনেক বিজ্ঞ! কিন্তু আইনমন্ত্রী এক ধরণের বক্তব্য রাখেন কিন্তু তার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বৈপরীত্য দেখা গেছে। যেটা আইনমন্ত্রী জবাব দেবেন, সেটা আইনমন্ত্রী দিলেই ভালো হয়। আমরা আইনমন্ত্রীর বক্তব্যটা গ্রহণ করতে পারি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য রাখেন সেটাতে ভিন্নতা দেখা যায়।”

মন্ত্রীদের প্রাসঙ্গিক অনুযায়ী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন বিরোধী দলের এই এমপি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে নিয়ে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের জবাব দিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। বলেন, তিনি আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। বিএনপি এমন নেতার আদর্শে গঠিত, সেখানে কোনো বিভাজন নাই। যাদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা অত্যন্ত যোগ্যব্যক্তি, তাদের মধ্যে বিভাজন নেই।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত