গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে জড়িয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক কৃষকরা। চড়া সুদে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অনেক পরিবার শেষ সম্বল জমিজমা বিক্রি করে পথে বসেছে।
সরেজমিনে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি, চণ্ডিপুর, তারাপুর, শ্রীপুর ও বামনডাঙ্গাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অভাবের তাড়নায় সামান্য টাকা দাদন নিয়ে তা সুদে-আসলে কয়েক গুণ পরিশোধ করতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, দাদন ব্যবসায়ীরা শুরুতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ দেন। কিন্তু মাসিক ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারে সুদ ধরায় অল্প দিনেই সেই ঋণের বোঝা লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সময়মতো টাকা ফেরত দিতে না পারলে জমি লিখে নেওয়া, গবাদি পশু ধরে নিয়ে যাওয়া এমনকি হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক আলম মিয়া নিজের করুণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, "ছেলের চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলাম। দুই বছরে সুদে-আসলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ১০ শতক জমি বিক্রি করে অর্ধেক টাকা দিয়েছি, কিন্তু ঋণ এখনো শোধ হয়নি।" একই এলাকার বিধবা নারী সালেহা বেগম জানান, মেয়ের বিয়ের জন্য ১৫ হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলেন। এখন সেই ঋণের দায়ে তাঁর একমাত্র ভিটেবাড়িটিও ছাড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, দাদন ব্যবসায়ীদের কারণে গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলো পুঁজি হারিয়ে আরও দরিদ্র হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, "দাদন ব্যবসা সম্পূর্ণ অবৈধ। কেউ প্রতারিত হলে প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের সহজ শর্তে সরকারি ঋণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে দাদন ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের অভিযান এবং গ্রাম পর্যায়ে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন