ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দালালের হাত ধরে লিবিয়া গিয়ে প্রাণ হারালেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার যুবক সোহাগ মুন্সী (৩২)। পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দফায় ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরও আরও ২৭ লাখ টাকার দাবিতে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে মানবপাচারকারী চক্র। এ ঘটনায় এক দালালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত সোহাগ মুন্সী রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে। শুধু সোহাগই নন, এখনো লিবিয়ায় ওই চক্রের হাতে অন্তত ১১ জন যুবক জিম্মি রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় রংমিস্ত্রির কাজ করতেন সোহাগ। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় স্থানীয় দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের মাধ্যমে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশ ছাড়েন তিনি। সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে পৌঁছানোর পর তাকে জিম্মি করে অমানুষিক নির্যাতন চালায় মাফিয়ারা। নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে কয়েক দফায় পরিবারের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। গত ২৩ জুলাই আরও ২৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ২৪ জুলাই সকালে সোহাগকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ২৯ জুলাই তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় মামলা করেছেন। মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন জানান, মামলার প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
মানবপাচার ঠেকাতে বিশেষ মনিটরিং সেল
এদিকে মাদারীপুরে মানবপাচার প্রতিরোধে পুলিশের একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এই সেলের উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
পুলিশ সুপার জানান, মাদারীপুর জেলা মানবপাচারপ্রবণ হওয়ায় ভুক্তভোগীদের আইনি সুরক্ষা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সেল প্রতিটি মামলার অগ্রগতি, চার্জশিট দাখিল ও সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত মাদারীপুর জেলায় ৭৫১টি মানবপাচার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫টি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন এবং বাকিগুলোর অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন