সবুজ প্রকৃতি আর খালের মিতালিতে গড়ে ওঠা পিরোজপুরের নেছারাবাদের আটঘর-কুড়িয়ানা এখন পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিদিন শত শত পর্যটক নৌকা নিয়ে ঢুকে পড়ছেন পেয়ারা বাগানের গভীরে। গাছ থেকে নিজ হাতে পেয়ারা পাড়ার রোমাঞ্চ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
এই এলাকার পেয়ারা বাগানগুলোতে প্রবেশের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মাত্র ৩০ টাকার টিকিট কাটলেই বাগানে প্রবেশের সুযোগ মেলে। এরপর দর্শনার্থীরা যত খুশি পেয়ারা পেড়ে খেতে পারেন; এর জন্য দিতে হয় না বাড়তি কোনো টাকা। পর্যটকদের সুবিধার্থে অনেক বাগানে শিশুদের পার্ক ও খালের ওপর ঝুলন্ত সেতুও তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাগান মালিক দীপু মণ্ডল ও শ্যামল দাস জানান, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় বাগান মালিকদের আয় প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা বেড়েছে। এটি স্থানীয় বেকারত্ব কমাতেও বড় ভূমিকা রাখছে। মাদারীপুর থেকে আসা পর্যটক লতিফ খন্দকার বলেন, "এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অভূতপূর্ব।"
তবে পর্যটকদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কিছু অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা থেকে আসা নিয়াজ নামের এক পর্যটক বলেন, "এখানে বিপুল জনসমাগম হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা কম। পর্যাপ্ত লাইটিং বা টয়লেটের ব্যবস্থাও নেই।"
এসব অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত। তিনি বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধায় প্রশাসনের একটি ভাসমান টিম কাজ করছে। আমরা নিয়মিত এলাকাটি তদারকি করি। সম্প্রতি উচ্চশব্দে গান বাজানোর দায়ে জরিমানাও করা হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য সরকারিভাবে নৌকার ভাড়ার তালিকাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।”
নিরাপত্তার বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “পর্যটকদের জন্য একটি স্থায়ী পুলিশ পোস্ট রয়েছে। সেখানে একজন অফিসারের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন