মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকায় ‘মেঘ মালতি’ নামের একটি হোমস্টে বা রিসোর্টে অবস্থান করা এক তরুণের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী তরুণের দাবি, ভিডিওর স্ক্রিনশট পাঠিয়ে তাঁর কাছে কয়েক দফায় টাকা দাবি করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার পরপরই রিসোর্টটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বেলা শেষে’।
ঘটনাটি ঘটে ৮ জুলাই। ভুক্তভোগী তরুণ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার ভাষ্যমতে, সেদিন তিনি এক নারীকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই রিসোর্টের ১০৫ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন। পরে রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে আপত্তিকর ভিডিওর স্ক্রিনশট পাঠিয়ে কয়েক দফায় টাকা দাবি করা হয়।
তবে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ অস্বীকার করে রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, ওই তরুণ ও তার সঙ্গীরা রিসোর্টে এসে উল্টো চাঁদা দাবি করেছেন এবং তাকে মারধর করেছেন। রিসোর্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
স্থানীয়দের দাবি, যে নম্বর থেকে ভিডিওর স্ক্রিনশট পাঠানো হয়েছে, সেটি ওই রিসোর্টে কর্মরত রাধানগর এলাকার এক যুবকের। ঘটনার পর থেকে ওই যুবক আত্মগোপনে রয়েছেন।
রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বলেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি কি না, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ভিডিওর দেয়ালের সঙ্গে রিসোর্টের দেয়ালের মিল পাওয়া যায়নি।
শ্রীমঙ্গল আবাসন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহম্মেদ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং উভয় পক্ষকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
আপনার মতামত লিখুন