সংবাদ

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে অব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম


প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম (রংপুর)
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম (রংপুর)
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

 কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে অব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম
কুড়িগ্রামে কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম অচল। ছবি : সংবাদ

কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘ ছয়-সাত বছর ধরে বাক্সবন্দী হয়ে পড়ে আছে। পাসওয়ার্ড জটিলতায় সচল করা যাচ্ছে না জীবনরক্ষাকারী এসব যন্ত্র। ফলে দারিদ্র্যপীড়িত এ জেলার রোগীরা সরকারি সাশ্রয়ী সেবা থেকে বঞ্চিত হলেও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি), ইটিটি-ইকো মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, এনডোজকপি, ডায়াথার্মি মেশিনসহ অন্তত ১৯৩টি সরঞ্জাম অযত্ন-অবেলায় ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ব্যবহৃত না হওয়ায় এসব সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে এসব সরঞ্জাম ক্রয়ের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাইক্রো ট্রেডার্স ও হারামান এন্টারপ্রাইজ। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ সার্ভে কমিটির মাধ্যমে মালামাল বুঝে নেওয়া হয়। এরপর হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অপারেশন প্ল্যান থেকে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর ঠিকাদারকে ১১ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সরঞ্জামগুলো সচল না হলেও ২০২৫ সালের ১২ জুন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদুল্লাহ সেগুলোকে সচল ও ব্যবহৃত দেখিয়ে বাকি বিল পরিশোধের সুপারিশ করেন। এরপর ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট তিন সদস্যের একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হলেও এক বছরেও সেই প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। অভিযোগ আছে, তৎকালীন বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে এসব সরঞ্জাম কেনা হয়েছে এবং বিল পাসের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে জোর তদবির চলছে।

হাসপাতালের কর্মীরা জানান, ইকো বা ইটিটি পরীক্ষার জন্য বেসরকারি ক্লিনিকে হাজার টাকার বেশি খরচ হলেও সরকারি হাসপাতালে তা ২০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে সম্ভব। কিন্তু সাবেক কর্মকর্তাদের অনেকের ব্যক্তিগত ক্লিনিক ব্যবসা থাকায় এসব মেশিন সচল করা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূরে নেওয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বকেয়া বিল না পাওয়ায় পাসওয়ার্ড দিচ্ছে না। সাবেক কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত এসব সরঞ্জাম চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে অব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘ ছয়-সাত বছর ধরে বাক্সবন্দী হয়ে পড়ে আছে। পাসওয়ার্ড জটিলতায় সচল করা যাচ্ছে না জীবনরক্ষাকারী এসব যন্ত্র। ফলে দারিদ্র্যপীড়িত এ জেলার রোগীরা সরকারি সাশ্রয়ী সেবা থেকে বঞ্চিত হলেও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি), ইটিটি-ইকো মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, এনডোজকপি, ডায়াথার্মি মেশিনসহ অন্তত ১৯৩টি সরঞ্জাম অযত্ন-অবেলায় ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ব্যবহৃত না হওয়ায় এসব সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে এসব সরঞ্জাম ক্রয়ের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাইক্রো ট্রেডার্স ও হারামান এন্টারপ্রাইজ। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ সার্ভে কমিটির মাধ্যমে মালামাল বুঝে নেওয়া হয়। এরপর হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অপারেশন প্ল্যান থেকে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর ঠিকাদারকে ১১ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সরঞ্জামগুলো সচল না হলেও ২০২৫ সালের ১২ জুন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদুল্লাহ সেগুলোকে সচল ও ব্যবহৃত দেখিয়ে বাকি বিল পরিশোধের সুপারিশ করেন। এরপর ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট তিন সদস্যের একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হলেও এক বছরেও সেই প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। অভিযোগ আছে, তৎকালীন বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে এসব সরঞ্জাম কেনা হয়েছে এবং বিল পাসের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে জোর তদবির চলছে।

হাসপাতালের কর্মীরা জানান, ইকো বা ইটিটি পরীক্ষার জন্য বেসরকারি ক্লিনিকে হাজার টাকার বেশি খরচ হলেও সরকারি হাসপাতালে তা ২০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে সম্ভব। কিন্তু সাবেক কর্মকর্তাদের অনেকের ব্যক্তিগত ক্লিনিক ব্যবসা থাকায় এসব মেশিন সচল করা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূরে নেওয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বকেয়া বিল না পাওয়ায় পাসওয়ার্ড দিচ্ছে না। সাবেক কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত এসব সরঞ্জাম চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত