গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘সম্প্রীতির জুলাই : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমরা যে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের স্বপ্ন দেখেছি, তা বিনির্মাণের লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। এই আন্দোলনে সব সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং এর চরিত্র ছিল পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক। গণ-অভ্যুত্থানে অন্তত নয়জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ শহীদ হয়েছেন।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার সবসময় ‘সংখ্যালঘু কার্ড’ ব্যবহার করত। আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করত যে তারা অসাম্প্রদায়িক আর অন্যরা সাম্প্রদায়িক। আমাদের মনে হয়, সংখ্যালঘুদের সব দলের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখা উচিত। কোনো নির্দিষ্ট একটি দলের পকেটে যাওয়া তাদের জন্য অনুচিত। কারণ একটি দলের পকেটে গেলে সেই দলের সব অপরাধ ও অপকর্মের দায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেও নিতে হয়।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মন্দির পাহারা দিয়েছে। আমরা চাই না ভবিষ্যতে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক যেখানে মন্দির পাহারা দিতে হয়। জুলাই বিপ্লবে আমরা বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছি। তবে এরপরও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলসহ বিগত সময়ে হওয়া সব হামলার বিচার করতে হবে।’
বিচারব্যবস্থা ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবার অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে জোর দিয়েছি। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে এর সুফল সবাই পাবে।’
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে আবারও দমন-পীড়ন ও ভয়ের পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হওয়া উচিত ছিল সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। সরকার যদি এসব ক্ষেত্রে সঠিক ভূমিকা পালন করত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, তবে আমরা সহযোগিতা করতে পারতাম। বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের, সেন্ট মেরি ক্যাথেড্রালের পরিচালক ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও, গৌড় গোবিন্দ সেবাশ্রমের সহসভাপতি শ্যামল চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন