প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের ভেদীকুড়া গ্রাম। ভারত সীমান্তঘেঁষা এই জনপদ যেন এক ‘প্রকৃতিকন্যা’। এখানকার ছোট-বড় অন্তত ৫০টি পাহাড় সবুজ গাছ আর ঘাসের আবরণে ঢেকে আছে। পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত তদারকির অভাবে প্রচারের বাইরে রয়ে গেছে নজরকাড়া এই স্থানটি।
ধোবাউড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ভেদীকুড়া মৌজা। সবুজ দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়গুলো বর্ডার রোডের পাশেই হওয়ায় দর্শনার্থীদের যাতায়াতও বেশ সহজ। এখানকার পাহাড়ে গজারি গাছের অপূর্ব বিন্যাস, পাখির কোলাহল আর বন্য মোরগের ডাক যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। পাহাড়ের চূড়া থেকে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় দেখা যায়। পাশাপাশি পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে গারোদের ছোট ছোট ঘর ও তাদের বিচিত্র জীবনধারা দেখার সুযোগ মেলে।
এই পাহাড়গুলোর নিচে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ চিনামাটি, যা দেশজুড়ে সিরামিক শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, ভেদীকুড়াকে একটি পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক। বন বিভাগের তথ্যমতে, ভেদীকুড়া মৌজায় প্রায় ৫ একর এলাকা জুড়ে বন বিভাগের ২০-২৫টি ছোট-বড় চিনামাটির পাহাড় রয়েছে। এ ছাড়া মালিকানাধীন ও খাস জমিতে আরও ৩-৪ একর পাহাড় ও টিলা রয়েছে।
ভেদীকুড়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কবি ও সাহিত্যিকদের আনাগোনাও বাড়ছে। তারা এই জায়গাকে ‘সবুজ ছায়া পর্যটন কেন্দ্র’ হিসেবে নামকরণের দাবি তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি এই নামেই সমাদৃত হচ্ছে। পাশেই নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড় ও সোমেশ্বরী নদী হওয়ায় পর্যটকেরা খুব সহজেই একই সঙ্গে দুটি জেলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এখানে একটি সরকারি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হলে এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন ও বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
আপনার মতামত লিখুন