গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছিল। দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। কোথাও ক্লিনিকের ভবন জরাজীর্ণ, কোথাও সেটি ভাড়া বাড়িতে চলছে। কোথাও প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই, কোথাও স্বাস্থ্যকর্মী অনুপস্থিত। আবার কোথাও ক্লিনিক তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।
নওগাঁর রাণীনগরের খাগড়া কমিউনিটি ক্লিনিক প্রায় দেড় বছর ধরে ভাড়া বাড়িতে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্লিনিকটি পুনর্নির্মাণের জন্য তালিকাভুক্ত, চলতি অর্থবছরেই কাজ শুরু হবে। প্রশ্ন হলো, একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন এত দিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে কীভাবে?
সমস্যাটি শুধু একটি ক্লিনিকের ভবন বা একটি উপজেলার ওষুধ-সংকটের নয়। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্রও একই ধরনের দুর্বলতা দেখাচ্ছে। সেখানে প্রায় চার লাখ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার কথা। অনেক ক্লিনিকে নির্ধারিত ৩২ ধরনের ওষুধের বদলে হাতে গোনা কয়েক ধরনের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। বরগুনার তালাবদ্ধ ক্লিনিক, স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময়ের আগে সেবা বন্ধের কথা জানা গেছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দরিদ্র, নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। কারণ তাদের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক অনেক সময় নিকটতম সরকারি স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র।
শুধু ক্লিনিক নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছানো, কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা দরকার। ভবনের অবস্থা দেখা এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো কমিউনিটি ক্লিনিকের সংস্কার প্রয়োজন হলে সেটা দ্রুত করা উচিত। একই সঙ্গে প্রতিটি ক্লিনিকের প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত ও কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছিল। দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। কোথাও ক্লিনিকের ভবন জরাজীর্ণ, কোথাও সেটি ভাড়া বাড়িতে চলছে। কোথাও প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই, কোথাও স্বাস্থ্যকর্মী অনুপস্থিত। আবার কোথাও ক্লিনিক তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।
নওগাঁর রাণীনগরের খাগড়া কমিউনিটি ক্লিনিক প্রায় দেড় বছর ধরে ভাড়া বাড়িতে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্লিনিকটি পুনর্নির্মাণের জন্য তালিকাভুক্ত, চলতি অর্থবছরেই কাজ শুরু হবে। প্রশ্ন হলো, একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন এত দিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে কীভাবে?
সমস্যাটি শুধু একটি ক্লিনিকের ভবন বা একটি উপজেলার ওষুধ-সংকটের নয়। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্রও একই ধরনের দুর্বলতা দেখাচ্ছে। সেখানে প্রায় চার লাখ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার কথা। অনেক ক্লিনিকে নির্ধারিত ৩২ ধরনের ওষুধের বদলে হাতে গোনা কয়েক ধরনের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। বরগুনার তালাবদ্ধ ক্লিনিক, স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময়ের আগে সেবা বন্ধের কথা জানা গেছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দরিদ্র, নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। কারণ তাদের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক অনেক সময় নিকটতম সরকারি স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র।
শুধু ক্লিনিক নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছানো, কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা দরকার। ভবনের অবস্থা দেখা এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো কমিউনিটি ক্লিনিকের সংস্কার প্রয়োজন হলে সেটা দ্রুত করা উচিত। একই সঙ্গে প্রতিটি ক্লিনিকের প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত ও কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন