সংবাদ

সূর্যগ্রহণ দেখে মহাবিপদে হাজার হাজার মানুষ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

সূর্যগ্রহণ দেখে মহাবিপদে হাজার হাজার মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

গত ১২ আগস্টে সূর্যগ্রহণ দেখার পর চোখে ব্যথা ও দৃষ্টিজনিত সমস্যার অভিযোগ বাড়তে শুরু করেছে। গুগলে যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের ‘আমার চোখে ব্যথা’ ধরনের অনুসন্ধান এক দিনে দেড় হাজার শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের বাকি অংশে একই ধরনের অনুসন্ধান বেড়েছে পাঁচ হাজার শতাংশ।

সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সরাসরি সূর্যের দিকে না তাকানোর জন্য আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ সুরক্ষা চশমা ছাড়া সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। গ্রহণের পর চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, চোখ দিয়ে পানি পড়া বা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে সূর্যগ্রহণ দেখার পর চোখের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। কেউ চোখে ব্যথা ও মাথাব্যথার কথা বলেছেন, আবার কেউ ঝাপসা দেখার অভিযোগ করেছেন। এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য দেখেছিলাম, আর এখন আমার চোখ ব্যথা করছে।’ অন্য একজন বলেছেন, ‘বন্ধুরা, আমি সরাসরি সূর্যগ্রহণের দিকে তাকিয়েছিলাম এবং আমি চোখের সমস্যা অনুভব করতে পারছি। আমার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা করছে এবং দৃষ্টি খুব ঝাপসা হয়ে গেছে।’

চিকিৎসকদের ভাষায়, সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানোর ফলে রেটিনার ক্ষতি হলে সেটিকে ‘সোলার রেটিনোপ্যাথি’ বলা হয়। মুরফিল্ডস আই হাসপাতালের পরামর্শক চক্ষু চিকিৎসক অ্যালেক্স আয়োনিডিস জানান, চোখে ব্যথা, লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা বা অস্বস্তি, ঝাপসা বা বিকৃত দেখা, দৃষ্টির মধ্যে নতুন কালো দাগ এবং হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য আংশিকভাবে ঢাকা পড়লেও সরাসরি তাকানো নিরাপদ নয়। সূর্যের তীব্র আলো ও অতিবেগুনি রশ্মি রেটিনার সংবেদনশীল কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অল্প সময় সরাসরি তাকালেও এ ধরনের ক্ষতি হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না। কয়েক ঘণ্টা পর দৃষ্টির সমস্যা স্পষ্ট হতে পারে।

সোলার রেটিনোপ্যাথির ক্ষেত্রে ঝাপসা বা বিকৃত দেখা, রঙ চেনার ক্ষমতা কমে যাওয়া, পড়তে সমস্যা হওয়া কিংবা দৃষ্টির কেন্দ্রে কালো দাগ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে দৃষ্টির উন্নতি হলেও কোনো কোনো ব্যক্তির স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর লন্ডনের মুরফিল্ডস আই হাসপাতালে স্থাপিত বিশেষ হেল্পলাইনে ১ হাজার ৬০০টি ফোন এসেছিল। প্রথম এক ঘণ্টাতেই চোখের সমস্যার অভিযোগ নিয়ে শতাধিক মানুষ যোগাযোগ করেন। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ২২০ জনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

তবে গ্রহণ দেখার সময় অনুমোদিত সুরক্ষা চশমা ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সামান্য চোখের চাপ বা মাথাব্যথা হওয়া মানেই রেটিনার ক্ষতি হয়েছে- এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে সাময়িক চোখের চাপ তৈরি হতে পারে, যা সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


সূর্যগ্রহণ দেখে মহাবিপদে হাজার হাজার মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গত ১২ আগস্টে সূর্যগ্রহণ দেখার পর চোখে ব্যথা ও দৃষ্টিজনিত সমস্যার অভিযোগ বাড়তে শুরু করেছে। গুগলে যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের ‘আমার চোখে ব্যথা’ ধরনের অনুসন্ধান এক দিনে দেড় হাজার শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের বাকি অংশে একই ধরনের অনুসন্ধান বেড়েছে পাঁচ হাজার শতাংশ।

সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সরাসরি সূর্যের দিকে না তাকানোর জন্য আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ সুরক্ষা চশমা ছাড়া সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। গ্রহণের পর চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, চোখ দিয়ে পানি পড়া বা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে সূর্যগ্রহণ দেখার পর চোখের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। কেউ চোখে ব্যথা ও মাথাব্যথার কথা বলেছেন, আবার কেউ ঝাপসা দেখার অভিযোগ করেছেন। এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য দেখেছিলাম, আর এখন আমার চোখ ব্যথা করছে।’ অন্য একজন বলেছেন, ‘বন্ধুরা, আমি সরাসরি সূর্যগ্রহণের দিকে তাকিয়েছিলাম এবং আমি চোখের সমস্যা অনুভব করতে পারছি। আমার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা করছে এবং দৃষ্টি খুব ঝাপসা হয়ে গেছে।’

চিকিৎসকদের ভাষায়, সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানোর ফলে রেটিনার ক্ষতি হলে সেটিকে ‘সোলার রেটিনোপ্যাথি’ বলা হয়। মুরফিল্ডস আই হাসপাতালের পরামর্শক চক্ষু চিকিৎসক অ্যালেক্স আয়োনিডিস জানান, চোখে ব্যথা, লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা বা অস্বস্তি, ঝাপসা বা বিকৃত দেখা, দৃষ্টির মধ্যে নতুন কালো দাগ এবং হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য আংশিকভাবে ঢাকা পড়লেও সরাসরি তাকানো নিরাপদ নয়। সূর্যের তীব্র আলো ও অতিবেগুনি রশ্মি রেটিনার সংবেদনশীল কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অল্প সময় সরাসরি তাকালেও এ ধরনের ক্ষতি হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না। কয়েক ঘণ্টা পর দৃষ্টির সমস্যা স্পষ্ট হতে পারে।

সোলার রেটিনোপ্যাথির ক্ষেত্রে ঝাপসা বা বিকৃত দেখা, রঙ চেনার ক্ষমতা কমে যাওয়া, পড়তে সমস্যা হওয়া কিংবা দৃষ্টির কেন্দ্রে কালো দাগ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে দৃষ্টির উন্নতি হলেও কোনো কোনো ব্যক্তির স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর লন্ডনের মুরফিল্ডস আই হাসপাতালে স্থাপিত বিশেষ হেল্পলাইনে ১ হাজার ৬০০টি ফোন এসেছিল। প্রথম এক ঘণ্টাতেই চোখের সমস্যার অভিযোগ নিয়ে শতাধিক মানুষ যোগাযোগ করেন। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ২২০ জনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

তবে গ্রহণ দেখার সময় অনুমোদিত সুরক্ষা চশমা ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সামান্য চোখের চাপ বা মাথাব্যথা হওয়া মানেই রেটিনার ক্ষতি হয়েছে- এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে সাময়িক চোখের চাপ তৈরি হতে পারে, যা সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত